ঢাকা, শুক্রবার 7 February 2020, ২৪ মাঘ ১৪২৬, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ছুটির দিনের অপেক্ষায় প্রকাশকরা 

অমর একুশে বই মেলার একটি স্টলে বই দেখছেন বইপ্রেমীরা। ছবিটি গতকাল বৃহস্পতিবারের তোলা -সংগ্রাম

ইবরাহীম খলিল : অমর একুশে বইমেলার প্রথম পাঁচ দিনে নতুন বই এসেছে ৩৩২টি। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার এসেছে ১১৮টি। তবে প্রতিদিন নতুন নতুন বই আসলেও এখনও জমে ওঠেনি এবারের বইমেলা। মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের খুব বেশি আনাগোনা নেই। বেশিরভাগ স্টলগুলোতে বিক্রয়কর্মীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। তবে তারা বলছেন, দু-একদিনের মধ্যেই জমে উঠবে বইমেলা।

জিনিয়াস পাবলিকেশনের বিক্রয়কর্মী রায়হানুল হক বলেন, বইপ্রেমী, ক্রেতা, দর্শনার্থীদের ভিড় বইমেলায় এখনও বাড়েনি। তাই আমাদের বিক্রিও এখনও জমে ওঠেনি। শুক্রবার ছুটির দিন। আশা করছি, এদিন থেকেই মেলায় বইপ্রেমীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকবে। রেহানা আক্তার বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন বইমেলায়। ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্টলে বই দেখছিলেন। তিনি বলেন, নানা ধরণের বই দেখলাম। তবে মূলত আমি কিনব সায়েন্স ফিকশন বই।’ এদিকে আজ শুক্রবার মেলার প্রথম শিশু প্রহর এবং ছুটির দিন। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময় শিশুরা তাদের অভিভাবকসহ মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে বই সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বইমেলা।

অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিশু কর্নারে শিশুদের জন্য রয়েছে নানা স্টল। সেগুলোতে বই সাজানোর পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চের পাশে লেখা রয়েছে- ‘পৃথিবীটা দেখছি প্রতিদিন, শিখছি প্রতিদিন’, ‘পড়ালেখার নতুন সুর, চলো যাই সিসিমপুর’, ‘পড়ি বই, জানতে জানতে বড় হই’।

এদিকে গতকাল প্রতিদিনের মত মেলার মূলমঞ্চে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এদিন অনুষ্ঠিত হয় নূহ-উল-আলম লেনিন রচিত রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতায় শেখ মুজিব শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মোহীত উল আলম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আসাদ মান্নান এবং সাহেদ মন্তাজ। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন নূহ-উল-আলম লেনিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ হাসান ইমাম।

প্রাবন্ধিক বলেন, আলোচ্য বইয়ে লেখক অনেকটা নির্মোহ থেকে কীভাবে শেখ মুজিব টুঙ্গিপাড়া জন্মস্থান থেকে বাংলাদেশের জাতির পিতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন তার একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রণিধানযোগ্য রাজনৈতিক আলেখ্য তৈরি করেছেন। শেখ মুজিব তাঁর যৌবনদৃপ্ত সময়ে পাকিস্তান-আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান হবার সাথে সাথেই তিনি হৃদয়ঙ্গম করেন যে নতুন দেশটি দিয়ে বাঙালির স্বপ্ন পূরণ হবে না। নূহ-উল-আলম লেনিনের গ্রন্থটির মূল অনুসন্ধান এ জায়গায় যে কখন থেকে বঙ্গবন্ধুর মানসে দ্বিজাতিতত্ত্বের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের আবরণে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান থেকে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কাঠামোয় সৃষ্ট অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ধারণা জন্ম নিল। 

আলোচকরা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিধৃত হয়েছে নূহ-উল-আলম লেনিন রচিত এ গ্রন্থে। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই বাঙালি এবং বাংলাদেশ ছিল বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও মননে। কলকাতায় রাজনীতির অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের অভিঘাত হিসেবে কাজ করেছে এবং তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও চেতনাকে শাণিত করেছে। কাজেই বলা যায় বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে হাতেখড়ি মূলত বাঙালির বহু আকাক্সিক্ষত স্বাধীনতা অর্জনের পথে অভিযাত্রার সূত্রপাত। 

গ্রন্থের লেখক নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, বর্তমান গ্রন্থের পরিসরে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতার জীবনচর্যার দিকগুলোই আলোচিত হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর পরবর্তী পরিণত রাজনৈতিক জীবনের কিছুটা আভাস এখানে উঠে এসেছে। তবে বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহান দেশপ্রেমিক ও রাজনীতিবিদকে সামগ্রিকভাবে দেখতে হলে তাঁর সমগ্র রাজনৈতিক জীবনকেই বিচার-বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।  

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, বাংলার মানুষের ভালোবাসা ও বাংলার মাটির কোমলতাই বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে নির্মাণ করেছিল এবং তাঁর ভেতর অসাধারণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞার উন্মেষ ঘটিয়েছিল। মানুষের মনন ও চেতনাকে স্পষ্টরূপে বুঝতে পেরেছিলেন বলেই তিনি বাঙালির জাতির মহান রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের উত্থানকে বুঝতে নূহ-উল-আলম লেনিন রচতি রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতায় শেখ মুজিব গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। 

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি ইকবাল আজিজ, কবি ঝর্ণা রহমান, কবি ফারুক মাহমুদ, ও কবি মারুফ রায়হান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রেজিনা ওয়ালী, মীর বরকত এবং নাজমুল আহসান। সংগীত পরিবেশন করেন চন্দনা মজুমদার, কোহিনুর আক্তার গোলাপী, লতিফ শাহ, রুশিয়া খানম ও রাকিবুল ইসলাম রাকিব। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন দীপক কুমার দাস (তবলা), রতন কুমার রায় (দোতারা), আবদুস সোবহান (বাংলা ঢোল) এবং সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড)।   

লেখক বলছি  অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন জসিম মল্লিক, অনন্ত উজ্জ্বল, হানযালা হান এবং মন্দিরা এষ।

এদিকে আজ শুক্রবার একুশে বই মেলার ষষ্ঠ দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। থাকছে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। সকাল ৮:৩০টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী।  বিকেল ৪:০০টা মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সৈয়দ শামসুল হক রচিত বঙ্গবন্ধুর বীরগাথা এবং এর অনুবাদ ইধষষধফ ড়ভ ড়ঁৎ ঐবৎড় : ইধহমধনধহফযঁ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন খায়রুল আলম সবুজ এবং আনিসুল হক।  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এমরান কবির চৌধুরী। 

সন্ধ্যায় থাকছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ