ঢাকা, শনিবার 28 March 2020, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ২ শাবান ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

করোনা ভাইরাসের চূড়ান্ত নাম দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: সনাক্ত হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর প্রাতিষ্ঠানিক নাম পেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগটি। নতুন ধরনের উপসর্গ নিয়ে প্রাণঘাতী হওয়া এই রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে কভিড-১৯।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরস অ্যাধানম গণমাধ্যমকে এই নতুন নামের কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নামটি ঘোষণাও করা হয়।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে প্রথম শনাক্ত করা হয় রোগটি। এরইমধ্যে এই রোগে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। সংক্রমিত হয়েছেন ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাস শব্দটি দিয়ে মূলত ভাইরাসের একটি বিশেষ গোত্রকে বোঝায়। এটি কোনো রোগের নাম নয়। তাই গবেষক ও চিকিৎসকরা রোগটির একটি নাম চাইছিলেন। তার ভিত্তিতেই এই নামকরণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, আমরা নতুন ছড়িয়ে পড়া এই রোগের এমন একটি নাম চাইছিলাম যেটি কোনো বিশেষ অঞ্চল, প্রাণি বা গোষ্ঠীকে নির্দেশ করবে না। যেটি সহজে উচ্চারণ করা যাবে ও রোগটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে।

করোনা থেকে নেওয়া হয়েছে CO, ভাইরাস থেকে VI, রোগের ইংরেজি ডিজিজ থেকে নেওয়া হয়েছে D এবং ২০১৯ সালে বিস্তার শুরু হওয়ায় সঙ্গে হাইফেন দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে 19।

এতদিন অবশ্য এটিক নভেল (নতুন) করোনাভাইরাস নামেই ডাকা হচ্ছিল।

এর আগে গত জানুয়ারীতে সংস্থাটি ভাইরাসটির একটি অস্থায়ী নাম দিয়েছিল, সেটা হলো:"2019-nCoV" । তারও আগে লোকজন একে উৎপত্তির স্থান অনুসারে উহান ভাইরাস নামেও ডাকা শুরু করেছিল।কিন্তু তারফলে  জাতিগত বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ার আশংকা তৈরি হয়।

করোনাভাইরাসে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চীনের মূল ভূখণ্ডে ১০১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার।

গতবছরের ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে করোনাভাইরাস চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে সর্বপ্রথম শনাক্ত করা হয়। তারপর থেকেই দ্রুততম সময়ে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা প্রতিরোধক তৈরি হয়নি। এই ভাইরাসে আক্রান্তরা শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমণের শিকার হন। চীনের স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, তুলনামূলকভাবে বয়স্ক এবং আগে থেকেই শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগছিলেন এমন করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মৃত্যু হচ্ছে। ইতোমধ্যেই, চীনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ২০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী জরুরি সাড়াদান কার্যক্রমে যোগ দিতে হুবেই প্রদেশে পৌঁছেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন করে স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও কয়েকটি দল হুবেই প্রদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ