ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 February 2020, ৩০ মাঘ ১৪২৬, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বৈধভাবে এসে দুর্নীতিবাজ হয়ে উঠেছে বিদেশী কর্মীরা

* আড়াই লাখ বিদেশী কর্মীর মধ্যে করের আওতায় মাত্র সাড়ে ৯ হাজার
মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : দেশে শুধু বাংলাদেশী নাগরিক নন বিদেশীরাও এসে সুযোগ পেয়ে চাকরির নামে হাজার হাজার কোটি টাকা তাদের নিজেদের দেশে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছেন। অঙ্কের হিসাবে বিদেশী কর্মীর মাধ্যমে পাচার হওয়া টাকার পরিমাণ বছরে ২৬ হাজার ৪০০ কোটি। যা পদ্মা সেতুর মোট ব্যয়ের প্রায় সমান। এর ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে ১২ হাজার কোটি টাকা। অথচ বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে রেমিট্যান্স যাচ্ছে মাত্র ৩৯১ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বৈধভাবে বাংলাদেশে এসে বিদেশীদের দুর্নীতিবাজ হয়ে ওঠার এমন আরো কিছু ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি গবেষণা প্রতিবেদনে। পোশাক খাতসহ বেশ কিছু ইন্ডাস্ট্রিতে এখন বিদেশীরা ব্যাপকভাবে কাজ করছেন। তবে আশপাশের দেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের আলাদাভাবে খুব একটা চেনা যায় না। এ সুযোগে তারা অবৈধভাবে অর্থপাচারের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে দেশের ২১ খাতে ৪৪ দেশের ২ লাখ ৫০ হাজার বিদেশী নাগরিক কাজ করছেন। এর মধ্যে কর দিচ্ছেন মাত্র ৯ হাজার ৫০০ জন। বাকি ২ লাখ ৪১ হাজার অবৈধ। বিদেশে অর্থপাচারের ফলে দেশে চলমান উন্নয়নের সুফল থেকে দেশবাসী বঞ্চিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বায়নের যুগে মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়ে কাজ করবেন এটাই স্বাভাবিক। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশী বিদেশে কাজ করেন। তারা শুধু কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে পরিবার-পরিজনকেই বাঁচিয়ে রাখছেন না বরং বৈদেশীক মুদ্রার ভান্ডারও স্ফীত করছেন।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকেরা ২০১৮ সালে ১ হাজার ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রতি ডলার বাংলাদেশী ৮৬ টাকার সমান) পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালের হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। প্রবাসী আয়ে বিশ্বে ১ নম্বরে আছে ভারত, ২০১৮ সালে তারা আয় করেছে ৭ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার। এরপর যথাক্রমে চীন, মেক্সিকো, ফিলিপাইন, মিসর, ফ্রান্স, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, জার্মানি ও ভিয়েতনাম। বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়। বাংলাদেশের কর্মীরা যেসব দেশে কাজ করেন, সেখানকার আইনকানুন তাদের মেনে চলতে হয়। না মানলে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। সংশ্লিষ্ট দেশের আইনানুযায়ী তাদের আয়কর পরিশোধ করতে হয়। অনেক দেশে বেতন পরিশোধের সময়ই আয়কর কেটে নেওয়া হয়। ফলে কর ফাঁকির সুযোগ কম। কর্মোপযোগী ভিসা না নিয়ে বিদেশে কেউ কাজ করতে পারেন না। ধরা পড়লে পত্রপাঠ ফেরত পাঠানোর বহু নজির আছে। কিন্তু বাংলাদেশে যেসব বিদেশী নাগরিক কাজ করেন অথবা যারা বিদেশী কর্মীদের নিয়োগ দেন, তারা আইনকানুনের তোয়াক্কা করেন না। বিদেশী কর্মীদের ভিসা পাওয়া থেকে শুরু করে তাদের নিয়োগ, বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং দেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যেসব তদারক সংস্থার এসব দেখার কথা, তারাও অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ।  অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশ থেকে প্রতিবছর ব্যাপকভাবে অর্থ পাচার হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে মোট ২১ খাতে ৪৪ দেশের শ্রমিক বাংলাদেশে কাজ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতের। সরকারি হিসাবে দেশটির ৩০ হাজারের বেশি নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করেন। এর পর চীন, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, নরওয়ে এবং নাইজেরিয়া উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে বিদেশী শ্রমিকের সংখ্যা কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার। এদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। আর বিদেশী কর্মীদের মোট বার্ষিক আয় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে দেশে নিয়ে যায় ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৬ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈধভাবে নিয়ে যাচ্ছে ৩৯১ কোটি এবং অবৈধভাবে ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর ফলে বছরে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যানুসারে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদেশী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৫০০। আলোচ্য সময়ে তাদের মোট আয় ছিল ৬০৩ কোটি টাকা। আর এখান থেকে সরকারকে কর দিয়েছে ১৮১ কোটি টাকা। তবে টিআইবি বলছে, এটি সঠিক তথ্য নয়। এখানেও আয়কর ফাঁকি দেয়া হয়েছে। কারণ এই তথ্য অনুসারে প্রতিজন বিদেশী কর্মীর মাসিক আয় ৫৩ হাজার টাকা। যা একেবারে অসম্ভব। কারণ এই পরিমাণ বেতনের জন্য কেউ বাংলাদেশে আসে না। যেসব খাতে বিদেশী শ্রমিক কাজ করছেন এগুলো হল- তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, বায়িং হাউস, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, মোবাইল ফোন কোম্পানি, তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়া শিল্প, চিকিৎসাসেবা, কার্গো সেবা, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডস, আন্তর্জাতিক এনজিও, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি, অডিট, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, প্রকৌশল, ফ্যাশন ডিজাইন, খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন, পোলট্রি খাদ্য উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, সব খাতে বিদেশী শ্রমিকের প্রয়োজন নেই। বৈধভাবে যাদের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আরেকটু যাচাই-বাছাই করতে হবে। তবে প্রশ্ন হল অবৈধদের নিয়ে। তিনি বলেন, এর আগেও অবৈধ বিদেশীদের নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছিল। বিষয়টি উদ্বেগের। কারণ অবৈধভাবে কাজ করবে, এটি কোনো দেশই এখন আর মেনে নেয় না। তার মতে, প্রথমত এতে দেশের অর্থনীতির বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। কারণ অনুমতি ছাড়া কাজ করার মানে হলো তারা যে পরিমাণ অর্থ নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছে তার পুরোটাই অবৈধ। দ্বিতীয় বিষয়টি হল দেশের নিরাপত্তা। এসব অবৈধ বিদেশী জঙ্গি হামলাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিদেশে পাচার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
এদিকে টিআইবি বলছে, বিদেশীদের বেতন দেয়ার ক্ষেত্রেও তথ্য গোপন করছে দেশের বিভিন্ন কোম্পানি। প্রাথমিকভাবে ১০টি ক্যাটাগরিতে চাকরি করছেন বিদেশীরা। এর মধ্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে বেতন দেখানো হচ্ছে ৩ থেকে ৩.৬ হাজার ডলার। কিন্তু এদের প্রকৃত বেতন ১০-১২ হাজার ডলার। এ ছাড়া প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পদে ৮-১০ হাজার ডলারের স্থলে ২.৫-৩ হাজার ডলার দেখানো হয়। কমপ্লায়েন্স বা সোশ্যাল অডিটর পদে ৯.৫-১১ হাজার ডলারের জায়গায় ৩-৩.৫ হাজার ডলার, জেনারেল ম্যানেজার ৬-৮-এর পরিবর্তে ১.৮-২.৫ এবং হেড অব ডায়িং ৫-৭-এর পরিবর্তে ১.৫-২ হাজার ডলার বেতন দেখানো হচ্ছে। সরকারকে কর ফাঁকি দেয়ার জন্য কোম্পানি এবং বিদেশী র্কর্মীদের যোগসাজশে এসব করা হচ্ছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়- স্থানীয় বাংলাদেশীরা অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমেই বিদেশীদের থাকার ক্ষেত্রে সহায়তা করছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের ৮টি সংস্থাকে ২৩-৩৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এর মধ্যে ভিসা সুপারিশ পত্রের জন্য ঘুষ নিচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকা, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে ভিসা সংগ্রহ ৪.২৫ থেকে ৮.৫ হাজার, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক ৯০ দিনের বেশি অবস্থানের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য ২-৩ হাজার, কাজের অনুমোদনের জন্য বিডা, এনজিও ব্যুরো ও বেপজায় ৫-৭ হাজার, নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে পুলিশকে ৫-৭, নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ৩-৫, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২-৩ এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরকে ৩-৫ হাজার টাকা দিতে হয়।
বিদেশী কর্মীদের কর ফাঁকির বড় সুযোগ হলো পর্যটন ভিসায় এসে কাজ করা। আইনানুযায়ী পর্যটন ভিসায় এসে এখানে কেউ কাজ করতে পারেন না। পৃথিবীর কোনো দেশেই সেই সুযোগ দেওয়া হয় না। উন্নত দেশগুলোতে ছাত্রদের নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। পর্যটন করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে ৮ লাখ বিদেশী নাগরিক পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন। তাদের অন্তত ৫০ শতাংশ বা ৪ লাখ ভিসায় কাজের উদ্দেশ্যে এই ভিসা ব্যবহার করছে বলে টিআইবির গবেষণায় উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদ বলছেন, অর্থপাচারের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর মানে হল- বিদেশীদের মাধ্যমে টাকা পাচারের একটি পথ তৈরি হয়েছে। টিআইবি যেহেতু বিষয়টি নিয়ে কাজ করে অবৈধভাবে থাকা নাগরিক চিহ্নিত করেছে, বিষয়টি আমলে নিয়ে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে টাকা পাচার বন্ধ হবে না।
এদিকে বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিক নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এক সংস্থা একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে বাংলাদেশে বৈধ বিদেশীদের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৪৮৬। এর মধ্যে ব্যবসায়ী ৬৭ হাজার ৮৫৩, বিশেষজ্ঞ ৮ হাজার ৩০০, কর্মকর্তা ৩ হাজার ৬৮২, কারিগরি পেশাজীবী ৭২৭, খেলোয়াড় বা ক্রীড়া সংগঠক ২ হাজার ১০৫, বিনিয়োগকারী ৯২২, ব্যক্তিগত কর্মচারী ৮০৪, এনজিও কর্মী ৫৬১, প্রশিক্ষক/গবেষক ৪০০ এবং গৃহকর্মী ১৩২ জন। এদের মধ্য থেকে ব্যবসায়ী বাদ দিলে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ১৭ হাজার ৬৩৩ জন। টিআইবি বলছে, এ সবকিছুর অর্থ হলো বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশীদের প্রকৃত সংখ্যা সরকারের কোনো দফতর জানে না।
অন্যদিকে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের তথ্যানুসারে মোট বিদেশী নাগরিক ৩৩ হাজার ৫০৪। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬৬১ জন ব্যবসায়ী ও অন্য পেশায় আছেন ২৩ হাজার ৭৮৮ জন। গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে ২ লাখ ১২ লাখ ৬০ হাজার বিদেশী নাগরিক কাজ করছেন। এরা প্রতিবছর ৫-১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় মুদ্রায় ৪২ হাজর ৫০০ থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, প্রতিবছর বিদেশীরা ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুসারে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এই উন্নয়নে সুফল কারা পাচ্ছে সেটি বিবেচ্য বিষয়। তিনি বলেন, সংস্থার রিপোর্টে দেশ থেকে টাকা পাচারের তথ্য আসছে। আর আগে আমরা একটি প্রতিবেদনে বলেছিলাম, বর্তমানে ৬টি দেশে ভিসা বিনা মূল্যে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই ভিসার জন্য প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের ঘুষ দিতে হচ্ছে। এতে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ ছাড়াও বিদেশী নাগরিকরা নিয়ে যাচ্ছেন কমপক্ষে ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ৫ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার পাচারের তথ্য টিআইবিই দিচ্ছে। স্থানীয় মুদ্রায় যা ৪৮ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, অভিবাসীদের জোগানদাতা হিসেবে বিশ্বে পরিচিত বাংলাদেশ। অর্থাৎ আমরা বিদেশে শ্রমিক সরবরাহ করি। কিন্তু বাংলাদেশে লাখ লাখ বিদেশী কাজ করছেন। এর সব বৈধভাবে হলে অর্থনৈতিকভাবে আমরা অনেক এগিয়ে যেতাম। তিনি বলেন, অবৈধ বিদেশী নাগরিক কাজ করার ক্ষেত্রে আইন রয়েছে। এ আইনের প্রয়োগ নেই। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।
এবিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, ভিসার বিষয়টি শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসে না। এ জন্য অনেকগুলো সংস্থা আছে। কাজের অনুমোদনের বিষয়টি এনজিও ব্যুরোসহ অন্যান্য সংস্থা দেখে। এ জন্য আমাদের কাছে আসতে হয় না। তিনি বলেন, অবৈধভাবে অবস্থান করা কেউ ধরা পড়লে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হয়। ফলে এই বিষয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জড়ানো ঠিক নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের শরীরের কোথাও ক্ষত সৃষ্টি হলে অস্ত্রোপচার করে তা ভালো করতে হয়। কিন্তু পুরো শরীরে ক্ষত ছড়িয়ে পড়লে তা সারানোর কোনো উপায় থাকে না। বিদেশী কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। বিদেশী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব আইন ও নীতিমালা আছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিদেশী নাগরিক-সম্পর্কিত আইন ১৯৪৬, বৈদেশীক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা আইন (সংশোধিত) ২০১৫, বাংলাদেশ ভিসা নীতিমালা (সংশোধিত) ২০০৭, বিদেশী নাগরিক নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬৬, আয়কর অধ্যাদেশ–১৯৮৪ ও বিনিয়োগ বোর্ড নির্দেশনা, ২০১১। এগুলো ঠিকঠাক অনুসরণ ও পালন করলে কোনো বিদেশী কর্মী দেশ থেকে অর্থ পাচার বা কর ফাঁকি দিতে পারতেন না। কিন্তু এসব আইন তদারকির দায়িত্বে যাঁরা নিয়োজিত, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না বলেই দেশ এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ