ঢাকা, শুক্রবার 14 February 2020,১ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

১৬ বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আপিল বিভাগের ক্ষোভ গুম বন্ধ হওয়া উচিত

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিনা পরোয়ানায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার বিষয়ে হাইকোর্টের রায় ১৬ বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেন, তাহলে রায় দিয়ে লাভ কী? এটা কি আইওয়াশ?’ একই সঙ্গে গুম বন্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছে আদালত । বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ও রিমান্ড সংক্রান্ত ১৬৭ ধারা সংশোধনের নির্দেশনার বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

গতকাল বৃহস্পতিবার ৫৪ ধারা নিয়ে করা রিভিউ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্ব ৬ সদস্যেরর আপিল বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন। শুনানিতে আদালত বলেন, ৫৪ ধারায় গ্রেফতারতো আমাদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে? আত্মীয়-স্বজনদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। ডিসএপিয়ারেন্স (গুম) হয়ে গেলো, পাঁচ বছর তার কোনো খবর নাই? এর দায়-দায়িত্ব কে নিবে? রাষ্ট্র নেবে?

রাষ্ট্রপক্ষকে আদালত বলেন, এই রায় পুরোটা রিভিউ হবে না। কোন কোন ক্ষেত্রে আপত্তি, তা সুর্নিদিষ্ট করে লিখিত দেন। আগামী ১৬ এপ্রিল পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হলো।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের বির”দ্ধে আমরা রিভিউ আবেদন করি। এটি খুব গুর”ত্বপূর্ণ বিষয়। জঙ্গিসহ বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় বিদ্যমান আইনের সঙ্গে কোন কোন নির্দেশনা অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, সে বিষয়গুলো আদালতে তুলে ধরতে আমরা রিভিউ করেছি। এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বির”দ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল ২০১৬ সালের ২৪ মে আপিল বিভাগ কিছু নির্দেশনা দিয়ে খারিজ করে দেন।

১৯৯৮ সালে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনির্ভাসিটির ছাত্র শামীম রেজা র”বেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২৩ জুলাই মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে মারা যান র”বেল। এরপর তৎকালীন সরকার র”বেল হত্যা তদন্তের জন্য বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের সমন্বয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে কমিটি ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের পক্ষে কয়েকটি সুপারিশ করে।

এ সুপারিশ বাস্তবায়িত না হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) হাইকোর্টে রিট করে। ওই রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল এ ব্যাপারে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে ছয়মাসের মধ্যে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রচলিত বিধান সংশোধন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওই ধারাগুলো সংশোধনের আগে কয়েক দফা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সরকারকে বলা হয়। এর বির”দ্ধে আপিলে যান রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল আবেদনে বলা হয়, এ দু’টি ধারা সংশ্লিষ্ট যে আইনে রয়েছে, তা যথেষ্ট ও সঠিক। এ জন্য আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের কোনো প্রয়োজন নেই।

২০০৪ সালে আপিল বিভাগ সরকারের লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। তবে হাইকোর্টের ওই নির্দেশনাগুলো স্থগিত করেননি। দীর্ঘদিন পরে ২০১৬ সালের ১৭ মে আপিল শুনানি শেষে ২৪ মে রায় ঘোষণা করেন।

২০১৬ সালে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ও রিমান্ড সংক্রান্ত ১৬৭ ধারা সংশোধনের নির্দেশনার বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও র‌্যাব-এর প্রতি কয়েকটি নির্দেশনা দেয়। আর, এ নির্দেশনা সার্কুলার দিয়ে জারি করতে রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইজিপি ও র‌্যাব-এর ডিজিকে নির্দেশ দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ