ঢাকা, শুক্রবার 14 February 2020,১ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

শাহজালালে পৌনে ২ কোটি টাকার স্বর্ণের  বারসহ বিমানকর্মী আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩ কেজি ৭ শত ১২ গ্রাম স্বর্ণের বারসহ জনাথন মুক্তি বরিকদার (৩৪) নামে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ৩২টি স্বর্ণের বারসহ তাকে আটক করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। বিমানবন্দরের কনকোর্স হলে ওই পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জুতার তলায় লুকানো অবস্থায় ছিল স্বর্ণের বারগুলো। জব্দ করা স্বর্ণের মূল্য প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা। 

বিমানবন্দর এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আলমগীর হোসেন জানান, জনাথন মুক্তি বারিকদার বিমানের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তার কাছ থেকে পাওয়া স্বর্ণের বাজারমূল্য ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। গ্রেফতারের পর জনাথন মুক্তি বারিকদার নিজেকে স্বর্ণের চালানটির বাহক হিসেবে দাবি করেন। চালানটি বিমান থেকে বের করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিলে তিনি ২০ হাজার টাকা পেতেন বলে জানিয়েছেন।

এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, দুবাই থেকে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় আসে এমিরেটসের ফ্লাইট। ইকে ৫৮২ নম্বর এই ফ্লাইটে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে যান জনাথন মুক্তি বারিকদার। বিমানবন্দরের ৭ নম্বর বোর্ড-ইন ব্রিজে এমিরেটসের এই উড়োজাহাজ থেকে যাত্রী নামানোর জন্য ডকিং করার পর জনাথন ভেতরে ঢোকেন। ঘণ্টাখানেক পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষে নেমে আসেন তিনি। এ সময় উড়োজাহাজটি নিরাপত্তায় থাকা এপিবিএনের সদস্যরা জনাথনকে তল্লাশি করতে চান। কিন্তু তিনি এপিবিএনের সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিত-া শুরু করেন। সেখানে তল্লাশি করতে না পেরে জনাথনকে বিমানবন্দর এপিবিএন কার্যালয়ে এনে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে তার পরনে দুই জুতার শুকতলায় ১৬টি করে মোট ৩২টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনাথনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে এপিবিএন জানায়, মামুন নামে তার সহকর্মী তাকে এমিরেটসের উড়োজাহাজের ভেতরই স্বর্ণের এই চালান হস্তান্তর করেন। এরপর জনাথন ওই উড়োজাহাজের টয়লেটে গিয়ে তার পরনে জুতোর শুকতলায় সুকৌশলে কালো স্কচটেপে মোড়ানো সোনার চালানটি লুকিয়ে রাখেন। বোর্ড-ইন ব্রিজ থেকে বাইরে এসে এই চালান বিমানের ক্লিনিং ইনচার্জ আতিককে হস্তান্তর করার কথা ছিল জনাথনের। ক্লিনারদের কক্ষে স্বর্ণের চালানটি পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ২০ হাজার টাকা পেতেন। জনাথনের বাড়ি খুলনার খালিশপুর উপজেলার বড় বয়রা গ্রামে। 

তিনি ২০১৪ সাল থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে বিমানে যোগ দেন। এর আগেও একাধিকবার এভাবে স্বর্ণের চোরাচালান করেছেন। জনাথনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের চোরাচালানবিরোধী ধারায় মামলা হয়েছে। তবে বিমানের ক্লিনিং ইনচার্জ আতিকসহ এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ধরতে বিমানবন্দরে অভিযান চালানো হয়েছে। কৌশলে তারা পালিয়ে গেছেন। আতিককে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আটক জনাথনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের চোরাচালানবিরোধী ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ