ঢাকা, শনিবার 15 February 2020, ২ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

‘সবাই ভাবছে, কাল হয়তো  আমারও রোগ দেখা দিতে পারে’

১৪ ফেব্রুয়ারি, বিবিসি: “আমাদের সবার মনে এই একটাই ভাবনা ঘুরছে, কালকে আমারও রোগ দেখা দিতে পারে। সবাই ভাবছে আমরা কবে নিরাপদ হবো - কবে বাড়ি যেতে পারবো।”

নতুন করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে আটকে আছে ডায়মন্ড প্রিন্সেস নামে একটি বিশাল প্রমোদতরী। এই জাহাজে ২০০ জনেরও বেশি লোকের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এখনো আরো কিছু নতুন সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েছে।

এই ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজটিতে শেফের কাজ করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুরের বিনয় সরকার। জাহাজ থেকেই তিনি কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সঙ্গে, বর্ণনা করেছেন ভাইরাস আক্রান্ত জাহাজে আটকে থাকা অবস্থায় কীভাবে কাটছে তাদের দিন।

"তিন হাজার ৭শ আরোহী নিয়ে আমাদের জাহাজটি এখন এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে। অনেক কড়াকড়ি করা হচ্ছে।" "যারা খাবার পৌঁছে দেবার কাজ করছেন তারা মুখোশ, গ্লাভস, প্লাস্টিকের এ্যাপ্রন ইত্যাদি পরে এ কাজ করছেন। জাহাজে ক্রু আছেন ১ হাজার ৪৫ জন।"

"জাহাজের বাইরে ৫০টি এ্যামবুলেন্স রেডি আছে। ডাক্তারদের দল, উদ্ধারকারী দল তাদের ভালো হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।"

"মোট ৫৬টি দেশের ২ হাজার ৬শ'রও বেশি যাত্রী আছেন এ জাহাজে। সব যাত্রীকেই এখন আলাদা করে রাখা হয়েছে। তাদের কেবিনে তিন বেলা খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।"

"মানসিকভাবে তাদের ভালো রাখার জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে। এই যাত্রীরা পুরো ভ্রমণের জন্য যত টাকা খরচ করেছেন সব ফেরত দেয়া হবে।"

“ওয়াইনের মতো পানীয় ফ্রি করে দেয়া হয়েছে। যে ওয়াইন এক বোতল কিনতে ভারতীয় মুদ্রায় ৮-১০ হাজার রুপি খরচ হতো - সেই ওয়াইন তাদের ঘরে ঘরে দেয়া হচ্ছে।” “বেশির ভাগ যাত্রীই শান্ত আছেন। তারা অপেক্ষা করছেন ১৯শে ফেব্রুয়ারির জন্য যেদিন কোয়ারেন্টিনের ১৪ দিন পুরো হবে। তার পর সবাই বাড়ি যাবেন, এই অপেক্ষায় আছেন তারা।”

“কিন্তু এর পরও যদি মেয়াদ আরো বাড়ানো হয় তাহলে সত্যি বলছি এই জাহাজে এক বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হবে।” “সবাই পাগল হয়ে যাবে। কী হবে এটা ভবিষ্যৎই বলতে পারে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ