ঢাকা, শনিবার 15 February 2020, ২ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া মুক্তির বিকল্প ভাবছে না পরিবার ও দল

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্যারোল বা জামিন যাই হোক না কেন, তাকে বাঁচিয়ে রাখতেই যতদ্রুত সম্ভব তাকে মুক্ত করে চিকিৎসা করানোর দাবি পরিবারের। সম্প্রতি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনও করা হয়েছে। একইসাথে বিএনপির সিনিয়র নেতারাও বলছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। এখনই তাকে চিকিৎসা দেয়া না হলে যে কোন অঘটন ঘটে যেতে পারে। তারই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওয়াবয়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেই বিএনপি মহাসচিব ফোন দিয়েছেন। মির্জা ফখরুলও বলেছেন, আমরা গত দুই বছর যাবৎ বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করছি, আইনী লড়াইও করছি। কিন্তু এখন তার শারীরিক যে কন্ডিশন, তাতে যদি তাকে দ্রুত মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে বড় ধরনের অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এখন প্যারোল বা জামিন নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই। মানবিক কারণেই বেগম জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করানো উচেৎ। বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে এতো আলোচনা হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হচ্ছে। তবে অনেকেই বলছেন, বিএনপি বা তার পরিবার চাইলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না। এখানে রাজনৈতিক বিষয়টিই প্রাধান্য পাচ্ছে। তার প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদনের বিষয়টি যুক্তিসঙ্গত হলেই কেবল সরকার বিবেচনা করবে। অন্যথায় আইন সবার জন্যই সমান।
সূত্র মতে, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্যারোল নিয়ে আলোচনা চলছে গত বছরের শুরু থেকেই। ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কেবিনে বিএনপির মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি খালেদা জিয়ার সামনে উপস্থান করেন। দেখা করতে যাওয়া নেতারা প্যারোলের পক্ষে নানা ধরনের যুক্তি তুলে ধরেন। তারা বোঝাতে চেষ্টা করেন- নিজের জন্য না হোক, দল ও দেশের জন্য হলেও খালেদা জিয়াকে বাঁচতে হবে। আর বাঁচতে হলে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু কারাবন্দি অবস্থায় তার উন্নত চিকিৎসা হবে না। এজন্য প্রয়োজন মুক্তি। যেহেতু আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাচ্ছে না। আর রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো সাংগঠনিক শক্তি বিএনপির নেই। সুতরাং এখন একটি পথই খোলা- নির্বাহী আদেশ বা প্যারোলে মুক্তি। দলের শীর্ষ দুই নেতার এমন যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর দেননি বেগম জিয়া। আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়ার জন্য প্যারোল মোটেই সম্মানজনক হবে না এটা জেনেও এখন তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরিবার ও দল যেকোনভাবে তার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে ভাবছে।  সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি বোন সেলিমা ইসলাম ও ভাই শামীম ইস্কান্দার বিএসএমএমইউ’র ভিসি বরাবর যে চিঠি দিয়েছেন, একেই ‘প্যারোল’ আবেদনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া প্যারোল প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম গণমাধ্যমকে সরাসরি বলেছেন, ‘প্যারোলে হলেও আমরা তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করতে চাই। এ ব্যাপারে তিনিও দ্বিমত করবেন না। কারণ, তার শরীর অত্যন্ত খারাপ। এই মুহূর্তে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
সূত্রমতে, কেবল স্বজনরা নয়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতির পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির নেতারাও চান প্যারোলে হলেও এই মুহূর্তে দলের চেয়ারপার্সনকে মুক্ত করা প্রয়োজন। শুরুর দিকে যেসব নেতা প্যারোলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারাও এখন প্যারোলের পক্ষেই মত দিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, কারাগারে ধুকে ধুকে মরার চেয়ে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়াটাই খালেদা জিয়ার জন্য শ্রেয়।
এ ব্যাপারে মতামত জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জীবিত খালেদা জিয়া আমাদের কাছে বেশি প্রয়োজন। সুতরাং স্বজনরা যদি খালেদা জিয়ার প্যারোলের ব্যাপারে আবেদন করেন এবং ম্যাডাম যদি সেটা মেনে নেন, তাহলে আমাদের কিছু বলার থাকবে না।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু বলেন, প্যারোল চাওয়া না চাওয়া খালেদা জিয়ার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমি কোনো মতামত দিতে পারব না। দলের হয়ে যদি কিছু বলতে হয়, সেটা মহাসচিব বলবেন।
দলের আরেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ম্যাডাম এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তাকে বাঁচাতে হলে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। সে কারণেই হয়তো পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলের কথাটা বলা হচ্ছে। এমন কিছু হয়ে থাকলে দলের পক্ষ থেকে দ্বিমত করার কিছু থাকবে না। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, যারা আজ খালেদা জিয়াকে এ পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তাদেরকেও একদিন জনতার কাঠগারায় দাঁড়াতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে তিনি বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা মানবিক কারণেই তার মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার দাবি করেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আমার সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলামের টেলিফোনে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন, আমি যেন প্রধানমন্ত্রীকে খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে বলি। রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এ ব্যাপারে তারা লিখিত কোনো আবেদন পাননি। তারা (বিএনপি) শুধু মুখে মুখেই বলছেন, কিন্তু লিখিত কোনো আবেদন করেননি। এটা দুর্নীতির মামলা। রাজনৈতিক মামলা হলে সরকার বিবেচনা করতে পারত। বিএনপি বারবার সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি বা প্যারোলে মুক্তি চাচ্ছে, কিন্তু বিষয়টি রাজনৈতিক মামলা নয়। সরকার বিষয়টি তখনই বিবেচনা করতে পারতো, যদি সেটা রাজনৈতিক হতো- বলেন ওবায়দুল কাদের।
সূত্র মতে, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবি করে আসছে। কিন্তু কারাবিধি অনুযায়ী বন্দি হিসেবে তাকে সরকারি হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিনে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। খালেদা জিয়ার দাঁত ও জিহ্বার চিকিৎসা সেখানে ভালোভাবে সম্পন্ন হলেও তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এটি খুব ঊর্ধ্বমুখী। এর প্রভাবে তিনি এখন বেশ অসুস্থ। এটি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। যেকোনো সময় আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন- এমন দাবি পরিবার ও বিএনপির। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সরকার খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করবে। সূত্রের দাবি, সরকার ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে বেগম খালেদা জিয়াকে নেয়া হতে পারে।
গত বছরের মার্চ থেকেই শোনা যাচ্ছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বিদেশ যাবেন। সূত্র আরও বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে বিএনপি খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে আসছিল। সরকারও রাজি ছিল। কিন্তু বাধ সাধে বিএনপির ঢাকা আর লন্ডনের দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত। এখানে বিএনপির রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব আছে, বিষয়টি খালেদা জিয়া নিজেও জানেন। বেশকিছু দেশের কূটনীতিকরাও খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে। কূটনীতিকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিএনপি সংসদে ফিরেছে এবং গঠনমূলক রাজনীতির অংশ হিসেবে বিএনপি মহাসচিব বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করছেন। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও কোনো বাধা দেয়া হয়নি। জানা গেছে, খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল লন্ডনে অবস্থানরত তার বড় ছেলে তারেক রহমান। কিন্তু খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তার সঙ্গে কথা বলেই শামীম ইস্কান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাধুনিক সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে বিদেশ প্রেরণের জন্য মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ চেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে পরিবারের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার আবেদনটি মেডিকেল বোর্ডে পাঠানো হয়েছে বলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রও নিশ্চিত করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে এটাই প্রথম লিখিত আবেদন বলে জানায় ওই সূত্র। সূত্রের দাবি, সমঝোতার অংশ হিসেবেই আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তথা ভাগ্নে ডা. মামুন সব প্রক্রিয়া গুছিয়ে আনছেন। সব আইনি প্রক্রিয়া সেরে মেডিকেল বোর্ডের সার্টিফিকেট ও স্থানান্তরের সুপারিশ নিয়েই খালেদা জিয়াকে লন্ডন পাঠানো হতে পারে।
খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে পরিবারের আবেদন সম্পর্কে শামীম ইস্কান্দার বলেন, তার দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে যেকোনো অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিদেশি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন। খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যয় বহনসহ তাদের দায়িত্বে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে আবেদনে। আবেদনটি বিবেচনা করা হবে বলে আশা করছে পরিবার।
আবেদন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, মেডিকেল বোর্ড যেন বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারকে সুপারিশ করে সেজন্য তাদের এ আবেদন। আবেদনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চেয়েছি। আর বলেছি যে, উনাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে। কারণ এটা সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা মামলা। সেজন্য আমরা নিঃশর্ত মুক্তি চেয়েছি। খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে রাজি হবেন কি-না, এমন প্রশ্নে সেলিমা ইসলাম বলেন, উনার সম্মতি থাকবে। উনার অবস্থা এতই খারাপ হয়ে গেছে যে, পাঁচ মিনিটও দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না। বাম হাত সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। ডান হাতেরও খারাপ অবস্থা। তার চোখ দিয়েও অনবরত পানি পড়ছে। পায়ে কোনো সাপোর্ট রাখতে পারছেন না। তার (খালেদা জিয়া) অবস্থা এমন যে, কখন কী ঘটে তা বলা যাচ্ছে না। আমরা ভয়াবহ আশঙ্কায় আছি। এ অবস্থায় একটা মানুষ তো চিকিৎসার জন্য যেখানেই হোক যেতে চাইবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যাতম প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে আটক রাখা হয়েছে এবং রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনের মধ্যদিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা যাই বলি না কেন, এখন তার সাময়িকভাবে কারামুক্তির জন্য দু’টি পথই খোলা আছে। এর একটি হলো প্যারোল আর অন্যটি হল ফৌজদারী কার্যবিধি ৪০১(১) ধারায় দণ্ড স্থগিত করে সরকার যেকোনো সময় তাকে মুক্তি দিতে পারেন। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ এবং তিনি একজন বয়স্ক মহিলা। পিজি হাসপাতালের (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) যতই সুনাম থাকুক না কেন সব চিকিৎসা সেখানে হয় না। উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাদের রাষ্ট্রের অনেকেই সরকারি খরচে বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ থেকে প্রমাণ হয় পিজি হাসপাতালে সব চিকিৎসা হয় না। সাধারণ নাগরিরা যদি সমর্থবান হন, তারাও বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারেন। আর বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এখানে বলা হয়েছে, তার পিজি হাসপাতাল থেকে আরও উন্নততর চিকিৎসা প্রয়োজন। পিজিতে তার ব্যাপারে চিকিৎসার যে ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে রিয়্যাকশন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে বিদেশে উন্নত ও অধুনিক চিকিৎসা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ