ঢাকা, শনিবার 15 February 2020, ২ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জিনজিয়াং প্রদেশে ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিমের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চীনের হুবেই প্রদেশে মৃত্যুর মিছিলে বৃহস্পতিবার যোগ হয়েছে আরও ১১৬ জন। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় হাজার জনে। নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও চার হাজার ৮২৩ জন। সবমিলিয়ে এ প্রদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজারে। তবে চীন সরকার করোনা বিষয়ে হুবেইসহ অন্যান্য প্রদেশকে গুরুত্ব দিলেও গুরুত্বই দিচ্ছে না জিনজিয়াং প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় উইঘুরদের বিষয়ে। সেখানে বন্দি থাকা ১০ লক্ষাধিক মুসলিম করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ পর্যন্ত চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখানো হয়েছে প্রদেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তেমন কোনো ঝুঁকি নেই। চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে তুর্কিভাষী মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের বসবাস।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য বলছে, হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার পর জিনজিয়াং প্রদেশে ৫৫ জনের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানে মারা যাওয়ার কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। সেখানে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।
গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এরপর থেকে চীনে মহামারি আকার ধারণ করে এই ভাইরাস। ভাইরাসটি চীনের ৩১ প্রাদেশিক পর্যায়ের অঞ্চল ছাড়াও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং প্রাণহানি বাড়তে থাকায় বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গতকাল বৃহস্পতিবার উহানে মারা গেছে ১১৬ জন। এতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৮০-তে।
তবে উইঘুর প্রতিনিধিরা বলছেন, তারা বিতর্কিত এ বন্দিশালায় দ্রুত করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন। আর প্রদেশটিতে এ রোগ ছড়িয়ে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে। হাঁচি, কাশি এমনকি করমর্দনের মাধ্যমেও ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে এ রোগ।
জিনজিয়াং প্রদেশের বিতর্কিত বন্দিশালায় যথেষ্ট নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিম। সেখানে জীবাণু বিনাশকারী সাবান ও বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এখানে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জিনজিয়াং প্রদেশের সংখ্যালঘু ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমদের আটকে রেখেছে চীন সরকার। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, গণকারাগারে বন্দিদের আটকে রেখে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিভিন্ন এনজিও ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘আসলে সেখানে কী হচ্ছে সে সম্পর্কে পৃথিবীর মানুষ খুব কমই জানতে পারছে।’ তবে বেইজিং দাবি করেছে, ক্যাম্পগুলো আসলে প্রশিক্ষণাগার। আর সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণাগার থাকা জরুরি। উইঘুর সম্প্রদায়ভুক্ত ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী দিলনুর রেইহান বলেছেন, ‘উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকরা কঠিন বিপদের সম্মুখিন। করোনাভাইরাস প্রাদুভার্বের মধ্যেই আমাদের পরিবারের সদস্যরা সেখানে বসবাস করছে। আমরা জানি না তারা পর্যাপ্ত খাদ্য-পানি পাচ্ছে কি না বা তাদের যথেষ্ট মাস্ক আছে কি না।’ করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা যাতে উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপরে বিস্তার না করে সেখানে বন্দিশালাগুলো খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ৩ হাজারের অধিক ব্যক্তি। চেঞ্জ.অর্গ নামের একটি পিটিশন ওয়েবসাইটে তারা এ দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভাইরাসথ্রেথইনদ্যক্যাম্প, ডব্লিউএইচও২ইউরুমকি হ্যাশট্যাগ দিয়ে ক্যাম্পেইন করে জিনজিয়াংয়ে প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বন্দিশালাগুলোতে শতশত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সংবাদ পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানো পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে পারব না। উহানে করোনাভাইরাস যেভাবে ছোবল হেনেছে তাতে আমরা সহজেই অনুমান করতে পারছি যে, আমরা যদি এখনই সোচ্চার না হই তাহলে ক্যাম্পগুলোতে কয়েক লাখ লোক আক্রান্ত হয়ে যাবে।
এসব বন্দিশালায় আটকদের সুরক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কি না তা সেখানকার আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের কাছে জানার চেষ্টা করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। চীনের বাইরে বিশ্বে উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করা দ্য ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস (ডব্লিউইউনিসি) বলেছে, এটা খুব আতঙ্কের যে, জিনজিয়াং প্রদেশে করোনাভাইরাসের আক্রমণ ঠেকাতে যদি পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তাহলে এখানে বিরাট এক গোষ্ঠী আক্রমণের শিকার হবে।
কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকার ঘোষণা এরদোগানের
সংগ্রাম ডেস্ক : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকবে তার দেশ। পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের যৌথ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে এরদোগান গতকাল শুক্রবার এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই নিয়ে তিনি চারবার পাকিস্তানের সংসদে ভাষণ দিলেন।
এরদোগান বলেন, কয়েকশ বছর আগে তুরস্কের কানাকালেতে যে ধরনের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল একই ঘটনা ঘটছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে। এর বিরুদ্ধে তুরস্ক সবসময় প্রতিবাদ করে যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো কানাকালের সেই দুঃসময়ে উপমহাদেশের মুসলমানদের সমর্থনের কথা ভুলবো না।’ এ সময় এরদোগান মহাকবি আল্লামা ইকবালের একটি কবিতার পংক্তি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘যে পাকিস্তানিরা আমাদের জন্য এত সমর্থন দিয়েছেন, দোয়া করেছেন আমরা তাদেরকে কিভাবে ভুলে যাব? আমাদের বন্ধুত্ব ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে নয় বরং এর ভিত্তি হলো ভালোবাসা।’
এরদোগান বলেন, ‘আজকে কাশ্মির ইস্যুকে পাকিস্তানিরা যেভাবে দেখছেন আমরাও ঠিক একইভাবে দেখছি। আমরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়ে যাব।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, পাকিস্তান এখন শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পথে রয়েছে। তবে, এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুব সহজে আসে না; এজন্য অনেক কাজ করতে হয়। পাকিস্তান নিশ্চয়ই সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে স্থিতিশীল হবে। সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন দেবেন বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
পাকিস্তান সংসদে দেয়া ভাষণে এরদোগান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত শান্তি পরিকল্পনাকে দখলদারিত্বের পরিকল্পনা বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘ঈমানদারদের মনে কোনো দেয়াল তুলে দূরত্ব সৃষ্টি করা যায় না। বিশ্বের কোথাও কোনো মুসলমান নিপীড়িত হলে তাদের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পবিত্র আল-কুদস দখলের জন্য যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন সে ব্যাপারে আমাদের সাহায্যের হাত বাড়ানো উচিত।’
এরদোগান বলেন, ট্রাম্প ঘোষিত কথিত ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি কোনো শান্তির পরিকল্পনা নয় বরং প্রকৃতপক্ষে এটি একটি দখলদারিত্বের প্রকল্প। এ সময় তিনি জেরুজালেম বা আল-কুদস শহরকে মুসলমানদের জন্য রেডলাইন বলে ঘোষণা করেন।
এরদোগান বলেন, ‘আমরা সারা বিশ্বের সামনে ঘোষণা দিতে চাই যে, পবিত্র মসজিদুল আকসাকে ইসরাইলি প্রশাসনের করুণার ওপর আমরা ছেড়ে দিতে পারি না।’
কাশ্মির প্রসঙ্গে এরদোগান আরো বলেন, ‘কাশ্মিরে আমাদের ভাই-বোনেরা কয়েক দশক ধরে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একতরফা পদক্ষেপের কারণে সে দুর্ভোগ অনেক বেড়েছে। কাশ্মির সমস্যার সমাধান হতে হবে সহিংসতা অথবা নির্যাতনের মাধ্যমে নয় বরং ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে। এ ধরনের সমাধান সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে।’

তিনি বলেন, কাশ্মির ইস্যুতে সবসময় ন্যায়বিচার, শান্তি ও সংলাপের পক্ষে থাকবে তুরস্কের অবস্থান।
গত বৃহস্পতিবার এরদোগান দুদিনের সফরে পাকিস্তান পৌঁছান এবং এরই মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছেন। পার্সটুডে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ