ঢাকা, বুধবার 1 April 2020, ১৮ চৈত্র ১৪২৬, ৬ শাবান ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

পটুয়াখালীতে হারানো মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেলেন ছেলে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বকুল বালার বয়স প্রায় ৮০ বছরের কাছাকাছি। ১৭ বছর আগে তিনি তার ছোট মেয়ে আলো রানীকে (১৬) খুঁজতে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন। সেই থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

তবে ভাগ্যের ব্যাপার হলো দীর্ঘ ১৭ বছর পর রবিবার তার বড় ছেলে ঠাকুর কৃষ্ণ হাওলাদার (৪৫) তাকে খুঁজে পেয়েছেন। পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকার তিতাস মোড়ের একটি ছাপড়ায় মাকে খুঁজে পান ছেলে। এ সময় ছেলে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন।

বকুল বালার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার তালবাড়ীয়া গ্রামে। দুই ছেলে, দুই মেয়ে নিয়ে সংসার ছিল তার। বড় মেয়ের বিয়ের পর ছোট মেয়ে আলো রানীকে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে দেন।

বিয়ের কিছুদিন পরই আলোকে বাপের বাড়ি ফেলে তার স্বামী ভারতে পালিয়ে যান। এরপর স্বামীর খোঁজে বের হয়ে নিরুদ্দেশ হন আলো। ১৭ বছর আগে একদিন মেয়েকে খুঁজতে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি বকুল বালা।

বকুল বালার নাতি রিপন চন্দ্র হাওলাদার পটুয়াখালী সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তর পড়ছেন। পটুয়াখালী শহরের একটি ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করেন তিনি।

শুক্রবার সকালে শহরের সবুজবাগ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বকুল বালাকে দেখে তার সন্দেহ হয়।

রিপন হাওলাদার বলেন, তার ঠাকুমা (দাদি) যখন হারিয়ে যান, তখন তিনি খুব ছোট ছিলেন। তবে মা-বাবার কাছে ঠাকুমার শারীরিক বিবরণ শুনে এই বৃদ্ধকে তার ঠাকুমার মতো মনে হয়। তখন তিনি বাবাকে খবর পাঠান। এরপর রবিবার দুপুরে ঠাকুর কৃষ্ণ পটুয়াখালী গিয়ে হারিয়ে যাওয়া মাকে চিনতে পেরে গলা ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ইউএনবির সাথে আলাপকালে ঠাকুর কৃষ্ণ বলেন, ‘আমার মা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বোনকে খুঁজতে বের হয়ে মা নিখোঁজ হন। বিভিন্ন জায়গায় তাকে খুঁজেছি। তবে অবশেষে আমি আমার মাকে খুঁজে পেয়েছি, এতে আমি খুবই আনন্দিত। এখানকার লোকজনের আশ্রয়ে এবং তাদের দেয়া খাবার খেয়ে মা এতদিন বেঁচে আছেন। আমরা তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’

স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার বছর আগে বর্ষার দিনে এই বৃদ্ধা এখানে একটি ছাপড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় এলাকার শারমীন আক্তার লাইজু নামের এক হোটেল ব্যবসায়ী তাকে আশ্রয় দেন। হোটেল থেকে বৃদ্ধাকে খাবার দেন। এভাবে কয়েক দিন যাওয়ার পর বৃদ্ধার জন্য কাপড় ও কম্বলের ব্যবস্থা করেন।

ওই এলাকার বাসিন্দা কাজল বরণ দাস বলেন, ‘এই বৃদ্ধা এলাকায় সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। কথা কম বলতেন। মনে হত তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। আশপাশের বাসায় গিয়ে খাবার খেতেন। আমরা সবাই মিলে একটি ছাপড়া ঘর তুলে দিয়ে সেখানে তার থাকার ব্যবস্থা করি। তিনি তার আত্মীয়স্বজন ফিরে পাওয়ায় আমরা খুব খুশি।’

-ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ