ঢাকা, শুক্রবার 21 February 2020, ৮ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

একুশের অপেক্ষায় বই মেলা

স্টাফ রিপোর্টার : রাত পোহালেই অমর একুশ। এদিন সবচেয়ে বেশি মানুষের পদচারণায় মুখর হবে বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দি উদ্যান মিলিয়ে বিস্তৃত বইমেলা। বিক্রি হবে সবচেয়ে বেশি। গতকাল বৃহস্পতিবার  পর্যন্ত মেলায় নতুন বই এসেছে ২ হাজার ৮৮১টি। শুরুর দিন থেকে ১৯তম দিন পর্যন্ত এসব বই মেলায় আসে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার একদিনে মেলায় আসে ১৪৩টি নতুন বই। এ দিনও লেখক, দর্শনার্থী ও বইপ্রেমীদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। আগের দিন বুধবার পর্যন্ত মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে গল্পগ্রন্থ ৩৬৩টি, উপন্যাস ৪৪১, প্রবন্ধগ্রন্থ ১৪৮, কাব্যগ্রন্থ ৭৯৮, গবেষণাগ্রন্থ ৫২, ছড়ার বই ৫১, শিশুতোষ গ্রন্থ ১২০, জীবনীগ্রন্থ ৮৩, রচনাবলি চার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ১০৩, নাটক ১৪, বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ ৫৯, ভ্রমণকাহিনি ৪৮, ইতিহাসগ্রন্থ ৬২, রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ ছয়, চিকিৎসা-স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ১৭, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা ৮৪, রম্য-ধাঁধা ২৪, ধর্মবিষয়ক গ্রন্থ ১০, অনুবাদ সাহিত্য ৩১, অভিধান ১০, সায়েন্স ফিকশন ৪৬ এবং অন্যান্য বই এসেছে ১৬৪টি।

ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে মেলা। ছুটির দিন মেলা খোলা থাকে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বইমেলা খোলা থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলার ১৯-তম দিনে মেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই আসে ১৪৩টি। বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আবুল কাসেম রচিত বঙ্গবন্ধু ও চা শিল্প শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দীপংকর মোহান্ত। আলোচনায় অংশ নেন মেসবাহ কামাল ও মোকারম হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। 

প্রাবন্ধিক বলেন, জাতীয়তাবাদী ও জনমুক্তির নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর অন্তরের গহীনে অবহেলিত চা শ্রমিকদের দীর্ঘশ্বাসের স্পন্দন প্রতিধ্বনি হতে শোনা যায় নানাভাবে। ১৯৫৬ সালে চা শ্রমিকদের হাত ধরে তিনি প্রথম বলেছিলেন,  ‘তোমাদের সকল দুঃখের খবরই রাখি। এসব দুঃখ দূর করবার জন্য আমরা খুবই চেষ্টা করিব’। আবার বঙ্গবন্ধু পূর্ববঙ্গের শিল্প-উন্নয়নে উদার নীতিমালার অংশ হিসেবে চা শিল্প ও ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে অল্প সময়ে ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। তার অবদান যথাযথ মূল্যায়িত হয়েছে গবেষক আবুল কাসেমের বঙ্গবন্ধু ও চা শিল্প গ্রন্থে।

আলোচকরা বলেন, চা শিল্প ও বঙ্গবন্ধু গ্রন্থে শ্রমিকদের সঙ্গে জাতীয় নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সেই প্রেক্ষাপট বিশদভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি অবহেলিত চা জনগোষ্ঠীর প্রতি যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছিলেনÑ তা আজ জাতীয় ইতিহাসের গৌরবজনক অংশ। গ্রন্থের লেখক বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এই বইয়ের ভাবনা। আশা করি, এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনের একটি ব্যতিক্রমী দিক মানুষের কাছে স্পষ্ট হবে।   

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জড়িয়ে আছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশে এবং চা শ্রমিকদের জীবনমানোন্নয়নে তার অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মাসুদুজ্জামান, রঞ্জনা বিশ্বাস, মাজুল হাসান এবং মঈনুল হাসান ।       

ছড়াপাঠের আসরে ছড়া পাঠ করেন ছড়াকার আখতার হুসেন, ফারুক নওয়াজ, সুজন বড়–য়া, খালেক বিন-জয়েনউদ্দিন, মাহমুদউল্লাহ এবং সৈয়দ আল ফারুক। 

গ্রন্থমেলা উপলক্ষ্যে হুইল চেয়ার হস্তান্তর একুশে বইমেলায় শারীরিক সমস্যাগ্রস্থ মানুষের সহজে প্রবেশের সুবিধার্থে বেক্সিমকো ফার্মার পক্ষ থেকে ১৫টি হুইল চেয়ার হস্তান্তর করা হয় গতকাল দুপুরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কাছে বেক্সিমকো ফার্মার পক্ষে হুইল চেয়ারসমূহ হস্তান্তর করেন ডা. মোহাইমিনুল ইসলাম কৌশিক। এ সময় অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এর সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ এবং গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সুভাষ সিংহ রায় উপস্থিত ছিলেন।

আজ শুক্রবার, শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। গতকাল রাত ১২:৩০টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৭:৩০টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। সভাপতিত্ব করবেন কবি রুবী রহমান। 

বিকাল ৪:০০টায় অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বক্তৃতা ২০২০। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ও সাম্প্রতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গ শীর্ষক একুশে বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২০তম দিন। মেলা চলবে সকাল ৮:০০টা থেকে রাত ৮:৩০টা পর্যন্ত। এদিন সকাল ১১:০০টা থেকে দুপুর ১:০০টা পর্যন্ত বইমেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৮ লাখ বর্গফুট জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বইমেলা। বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা এবারের মেলা প্রাঙ্গণে মুজিববর্ষ উদযাপনের ছোঁয়া লেগেছে। নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ। প্রিয় লেখকসহ মেলায় আসা নতুন বই ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। অনেকে পছন্দের বই কিনছেন। আবার অনেকে বন্ধুদের নিয়ে দল বেঁধে মেলায় এসেছেন। ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন স্টল। অনেকে আবার বই কিনে লেখকের অটোগ্রাফ নিয়ে তার সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে এবারের বইমেলা।

বইমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৯টি স্টল ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৯৪টি স্টলসহ মোট ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তর হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে। ১৫২টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ ছাড়াও ছয়টি উন্মুক্ত স্টল রাখা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ মেলা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ