ঢাকা, সোমবার 24 February 2020, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রংপুর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ক্ষেত জুড়ে সবুজ সবজির চাষ

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিসঃ রংপুর অঞ্চলের ধান চাষে নির্ভরশীল কৃষকরা অধিক মুনাফার আশায় এখন শাক-সবজি চাষে বেশী করে ঝুঁকে পড়েছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা কম খরচে অল্প সময়ে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় বিভিন্ন জাতের মওসুমী শাক-সবজি চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে ।  তাই শাক-সবজির ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্র জানিয়েছে, শস্য বিন্যাসের পাশাপাশি চাহিদা ও উৎপাদন বেশী থাকায় সবজির ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা । শস্যবহুমুখীকরন কার্যক্রমের আওতায় কৃষকদের সবজি চাষে আগ্রহী করতে মাঠ দিবসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ফলে এ বছর শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৩৮ হাজার ৭শ' ৩৬ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষের হয়েছে। যা এই মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৯ হেক্টর বেশি। এবছর রংপুর কৃষি অঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী এই পাঁচ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজির চাষ হয়েছে রংপুরের ৮ উপজেলায়।  আর সবচেয়ে কম চাষ হয়েছে নীলফামারী জেলায়। রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলার মধ্যে রংপুরে ১২ হাজার ৫শ' ৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধায় ৭ হাজার ২৮০ হেক্টরে, কুড়িগ্রামে ৬ হাজার ৮৬১ হেক্টরে, লালমনিরহাটে ৬ হাজার ৪শ' হেক্টরে এবং নীলফামারী জেলায় ৫ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে শাক-সবজির চাষ হয়েছে।  চলতি মওসুমে শাক-সবজি চাষের অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় এই অঞ্চলে শাক-সবজির উৎপন্ন হয়েছে বেশী। শষ্য উৎপন্ন বাড়লেও সুষ্ঠু বাজারজাত কতরনের অভাবে প্রকৃত চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন এর ন্যায্য মূল্য থেকে। অথচ গ্রামের সবজি ক্ষেত থেকে হাত বদল হয়ে ফাড়িয়াদের মাধ্যমে হাত বদল হয়ে হাট-বাজারে পৌঁছলেই সেই শাক-সবজির দাম দুই থেকে তিগুন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মিঠাপুকুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের কৃষক শাখাওয়াত হোসেন জানান, কেবল  সবজি চাষ করেই রংপুর অঞ্চলের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন । তার মতো অনেক চাষিই এখন ঝুকছেন শাক-সবজি চাষে । তারা বলছেন, অল্প সময়ে ফসল তোলার পাশাপাশি সবজি চাষে রোগবালাই ও লোকসানের শংকা কম । পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চাষি নুর হোসেন ও হালিম মামুদ জানান, আগে তারা শুধু ধান চাষে নির্ভরশীল ছিলেন। তবে  বিগত কয়েক বছর ধরে ধানের পাশাপাশি শাক-সবজির আবাদ করছেন তারা। কম পরিশ্রম ও অল্প পুঁজিতে ভালো ফলন এবং দাম ভালো পাওয়ায় শাক-সবজির চাষাবাদ দিন দিন বাড়ছে। এদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে, শুধু কৃষি জমিতে নয় পতিত জমি, বাড়িতে এবং ছাদে সবজি চাষাবাদে কৃষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একই সাথে গ্রামে কৃষকদের সবজি চাষে আগ্রহী করতে মাঠ দিবসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হাসান সারোয়ার জানান, শস্য বিন্যাসের পাশাপাশি চাহিদা ও উৎপাদন কাছাকাছি থাকায় কৃষকরা সবজিতে ভালো দাম পাচ্ছেন। এখন বাজারে সবধরণের ফসলের উৎপাদন সমান হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা আগের তুলনায় সবজি আবাদে ঝুঁকে পড়ছে। অপরদিকে রংপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ খোন্দকার মোহাম্মদ মেসবাহুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার শাক-সবজি চাষের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। 

সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার চাষ বেশি হয়েছে। চলতি মওসুমে রংপুর অঞ্চলে ৩৭ হাজার ৭শ' ৭ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষর  লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৩৮ হাজার ৭শ' ৩৬ হেক্টর জমিতে। তিনি জানান, রবি মওসুমে শাক-সবজি চাষে কৃষকরা লাভবান বেশী হয়। এর উপর চলতি রবি মওসুমে আবহাওয়া পুরোপুরি সবজি আবাদের অনুকূলে থাকায় ফলনও ভাল হয়েছে। এখন বাজারে ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, টমেটোসহ শাক-সবজির দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ