ঢাকা, মঙ্গলবার 25 February 2020, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬, ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

মানিকগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলন কৃষকদের মাঝে উৎসবের আমেজ

এইচ এম হাসিবুল হাসান, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দর পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ক্রেতারা ভিড় করছেন ক্ষেত থেকে আলু কেনার জন্য। এ ছাড়া ক্ষেত থেকে আলু উঠানোর পর কৃষকরা বিভিন্ন পাইকারি আড়তে বিক্রি করছেন বেশ ভালো দামেই। বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে নতুন আলু বিক্রির শুরুতেই বাড়তি দাম পেয়ে কৃষকদের মাঝে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর, সিংগাইর, সাটুরিয়া হাজার হাজার কৃষক আলু চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। আলু চাষের সঙ্গে জড়িত হাজার- হাজার কৃষক রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। মানিকগঞ্জের ঘিওর, তরা, সিংগাইর ও সাটুরিয়া হাটেও বাজারে প্রচুর আলু বেচাকেনা হয়। এসব হাট বাজার থেকে আলু ঢাকার কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করা হয়। ৭টি উপজেলায় আলু চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগী। পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ বছর আলু আবাদ ভাল হয়েছে। মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর আলুর আবাদ হয়েছে ১৮৮৩ হেক্টর জমিতে যা গতবারের চেয়ে ১০৫ হেক্টর বেশি। প্রতি হেক্টরে আলুর ফলন হয়েছে ২২/২৫ মেট্রিক টন। ঘিওর, সাটুরিয়া শিবালয় সহ মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

বাজারে নতুন আলুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া আলু উত্তোলন করার পর কৃষকরা ঢাকার কাওরানবাজার সহ বড় বড় আড়ৎ গুলোতে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে ৬-৭ টাকা। এর সঙ্গে জমি থেকে আলু উত্তোলন, বাজারজাতকরণে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিলে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ৮-৯ টাকা। পাইকারি দরে বিক্রি করছে ১৬-২০ টাকা কেজি।

এ অঞ্চলে বেশিরভাগ জমিতে এলগা, মূলটা, কার্ডিনাল, মালতা, গ্যানোলা ও পোট্রোনাছ, বিনেলা জাতের আলু রোপণ করা হয়। ভাল দাম পাওয়ায় আগামীতে আলু চাষ বাড়বে বলে জানান আলু চাষিরা।  

আলু চাষি আঃ কাদের জানান, গতবারের চেয়ে এবার ফলন এবং দাম দুটোই ভাল। আগামীতে আরো বেশী জমিতে আলু আবাদ করবো। এলাকায় কৃষি অফিসের লোকজন কম আসে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেন।  

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর ভারপ্রাপ্ত উপ- পরিচালক আবু মোঃ এনায়েত উল্লাহ বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আলুর আবাদ বেশি হয়েছে। দাম ভাল থাকায় কৃষকরা লাভবান হবে। আগামীতে আলুর আবাদ আরো বেশি হবে বলে আশা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ