ঢাকা, মঙ্গলবার 25 February 2020, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬, ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ভারতকে সামরিক কপ্টার সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

সংগ্রাম ডেস্ক : প্রথম সরকারি সফরে ভারতে এসে নজিরবিহীন অভ্যর্থনা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে গুজরাটের বৃহত্তম শহর আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দরে অবতরণ করে ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’।
যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিমান থেকে নেমেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিমানবন্দরে উপস্থিত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আলিঙ্গন করেন।
বিমানবন্দরে নাচে-গানে ও শঙ্খ বাজিয়ে ভারতীয় রীতিতে সম্মানিত অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
এখান থেকে শতাধিক সফরসঙ্গীসহ ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুজরাটের সবরমতি আশ্রমে যান। গুজরাটে জন্মগ্রহণকারী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী এই আশ্রমে ১৩ বছর বসবাস করেছিলেন। বিমানবন্দর থেকে আশ্রম পর্যন্ত আট কিলোমিটার পথে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
বিবিসি জানায়, এখানে ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প হাত দিয়ে চরকা কাটার চেষ্টা করেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গান্ধী বিদেশী কাপড়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে এই ধারাটি জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন।
এরপর আশ্রমের পরিদর্শক বইয়ে ট্রাম্প লিখেন, “আমরা মহান বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি এই অপূর্ব সফরের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
এখান থেকে ট্রাম্প তার সফরের আগে আহমেদাবাদে নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ভেন্যু মোরেতা স্টেডিয়ামের পথে রওনা দেন। স্টেডিয়ামের ২২ কিলোমিটার পথের দুইপাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার লোক ট্রাম্পকে স্বাগত জানান। তাদের কারও হাতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা এবং কারও হাতে ভারতের পতাকা ছিল। রাস্তার পাশে বিলবোর্ডে ‘নমস্তে ট্রাম্প’ লেখা ও বিভিন্ন শ্লোগানসহ দুই নেতার ছবি শোভা পাচ্ছিল। এই রোড শোতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা শিল্পীরা নিজ নিজ রাজ্যের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত শিল্প উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
ট্রাম্প স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় স্পিকারে সংগীত শিল্পী এল্টন জনের গান বাজছিল। জনের গান ট্রাম্পের বিশেষ পছন্দ, সেটা ভারতীয় কর্তৃপক্ষেরও জানা ছিল।
মোতেরা স্টেডিয়ামের ‘নমস্তে ট্রাম্প’ মঞ্চে একসঙ্গে হাজির হন ট্রাম্প-মোদি। উপস্থিত এক লাখেরও বেশি লোক ব্যাপক করতালি ও ‘মোদি, মোদি’ ধ্বনিতে স্টেডিয়াম মুখর করে তোলেন।
এখানে ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়ে মোদি বলেন, “১৩০ কোটি ভারতীয়র পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগত জানালাম। মেলানিয়া ট্রাম্পের ভারতে আসা আমাদের জন্য বড় সম্মানের বিষয়। ইভাঙ্কা ও জ্যারেডের উপস্থিতিও আমাদের কাছে বড় সম্মানের বিষয়।
“ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনি যে দেশ থেকে এসেছেন সেই দেশে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য রয়েছে। আপনার আসার মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হল। আপনাকে স্বাগত জানাতে পুরো দেশ উন্মুখ হয়েছিল।”
এরপর ওই জনসমাবেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আট হাজার মাইল পেরিয়ে এখানে এসেছি একটা বার্তা দিতে, তা হল আমেরিকা ভারত ও ভারতবাসীকে ভালোবাসে। এমন সুন্দর একটা স্টেডিয়ামে আপনাদের মাঝে এসে আমি খুব আনন্দিত।
 “ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন চাওয়ালা। সেই চাওয়ালা বন্ধু নরেন্দ্র মোদির জন্য আমি গর্বিত। মোদিকে সবাই ভালোবাসে। আমেরিকা ভারতের সবসময়ের বিশ্বস্ত বন্ধু। গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সহিষ্ণু দেশ হিসেবে ভারত নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। আপনাদের একতা বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা।”
ভাষণে ভারতকে সামরিক হেলিকপ্টার, সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, অ্যাডভান্স এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে তিনি বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে বলে জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সন্ত্রাস দমন এবং জঙ্গি মতাদর্শের বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়াই করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। তিনি দাবি করেছেন, এ কারণেই পাকিস্তান সীমান্তে পরিচালিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় তার প্রশাসন ইসলামাবাদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ষষ্ঠ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভারত সফরে এলেন ট্রাম্প। এর আগে ২০১৬ সালে বারাক ওবামা ভারত সফর করেছিলেন। তখনও ক্ষমতায় ছিল নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার।
এ সময় পাকিস্তানেরও সমালোচনা করেন তিনি। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক বাধা দূর করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান।
দুই দিনের এ সফরে আহমেদাবাদ থেকে ট্রাম্প ও তার পরিবার তাজ মহল দেখতে আগ্রার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সন্ধ্যায় তারা বিমানে করে ভারতের রাজধানী দিল্লি যাবেন। সেখানে আজ মঙ্গলবার দুপক্ষের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ