ঢাকা, শুক্রবার 28 February 2020, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ৩ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

শেষ দিকে দুই হাত ভরে বই কিনছেন পাঠকরা

ইবরাহীম খলিল : বইমেলা শেষ হওয়ার পথে। শেষের দিক থেকে হিসেব করলে গতকাল ছিল তৃতীয় দিন। আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিন। আর আজকের দিন বাদ দিলে থাকে মাত্র একদিন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময় যতই ফুরিয়ে আসছে, ততোই ভিড় বাড়ছে বইমেলায়। প্রতিনিয়ত আসছে নতুন নতুন বই। বাড়ছে বই ক্রেতার সংখ্যাও। এ দিন অন্যান্য দিনের তুলনায় বইপ্রেমীদের ভিড় ছিল বেশি। মেলা প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে থাকে লোকজন। বিকেল গড়াতেই সব বয়সী পাঠকের মিলনমেলায় পরিণত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। মেলার ২৬তম দিনে প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, পাঠকদের পদচারণায় মুখর বইমেলা। প্রাণের মেলায় ঘুরে ঘুরে বই দেখার পাশাপাশি কিনছেন পাঠকরা। মেলার সময় যতই গড়াচ্ছে বই কেনার সংখ্যাও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সামনের দিনগুলোতে বই বিক্রি আরও বাড়বে। এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রকাশক জানান, গল্প আর উপন্যাসের বইয়ের প্রতিই বেশি আগ্রহ দেখা গেছে মেলায় আগতদের।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, বই পড়া আমার শখ। ঝোঁক রয়েছে বই কেনার প্রতিও। এ বছর তৃতীয়বারের মতো বই কিনতে মেলায় এসেছি। বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে। বই যত পড়ি ততই ভালো লাগে।

বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিরা মনে করেন গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল পাঠকের উপস্থিতি বেশি। মেলার গেট উন্মুক্তের সঙ্গে সঙ্গেই লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। পাশাপাশি বই বিক্রির পরিমাণও বেড়ে যায়। গল্প-উপন্যাসের চাহিদা বেশি বলেই জানালেন তারা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার মেলার ২৬-তম দিনে নতুন বই আসে ১৫৫টি। বিকাল ৪:০০টায় অনুষ্ঠিত হয় শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত বঙ্গবন্ধু নানা বর্ণে নানা রেখায় শীর্ষক আলোচনা । প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মাযহার। আলোচনায় অংশ নেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, এনামুল করিম নির্ঝর এবং আমীরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন গ্রন্থের সম্পাদক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন মাহফুজা খানম। 

প্রাবন্ধিক বলেন, বঙ্গবন্ধু নানা বর্ণে নানা রেখায় বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বিচিত্র রচনার একটি সংকলন। সম্পাদকের ভাষায় ‘দুই পর্বে সাতটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত একটি সুপরিকল্পিত সংকলন’। বেশিরভাগ রচনার রীতি অনুসরণ করলে ক্রমশ টের পাওয়া যায় যে কিশোর পাঠকদের উদ্দেশ্য করেই বইটি রচিত। প্রথম পর্বে রয়েছে ‘জীবনকথা ও মূল্যায়ন’। বইটির দ্বিতীয় পর্বের প্রথম অধ্যায়ে সংকলিত হয়েছে ছড়া-কবিতা ও গান। পরের অধ্যায়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কয়েকটি গল্প। গল্পগুলোর কোনো কোনোটায় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ একাকার হয়ে গেছে। 

আলোচকরা বলেন, বঙ্গবন্ধু নানা বর্ণে নানা রেখায় গ্রন্থটি অত্যন্ত সুশোভিত, সুগ্রন্থিত এবং সুসম্পাদিত। গ্রন্থটির অবয়ব ও সংকলিত লেখাগুলো থেকে একে কিশোর পাঠকদের জন্য রচিত মনে হওয়াই স্বাভাবিক। গ্রন্থের প্রতিটি লেখাই তাৎপর্যপূর্ণ কেননা দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও গবেষকগণ তাদের লেখায় বঙ্গবন্ধুকে নানা মাত্রায় এখানে উপস্থাপন করেছেন। স্কুল, কলেজ, গ্রন্থাগার এবং সরকারি- বেসরকারি শিশু সংগঠনগুলোর মাধ্যমে গ্রন্থটি শিশু-কিশোর তথা পাঠকদের হাতে পৌঁছে দিতে পারলে বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তাদের জানার পরিধি বৃদ্ধি পাবে। 

গ্রন্থের সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে বঙ্গবন্ধু নানা বর্ণে নানা রেখায় বইয়ে। 

সভাপতির বক্তব্যে মাহফুজা খানম বলেন, কেবল কিশোর পাঠক নয়, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক স্মৃতিচারণ, ছড়া, কবিতা, গল্প ও জীবনপঞ্জি সংবলিত এ গ্রন্থটি সকল বয়সের পাঠকদের কাছে সমাদৃত হবে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশের সময় আমাদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে তাঁকে আমরা যথার্থ উচ্চতায় উপস্থাপন করছি কিনা। এ ধরনের গ্রন্থ প্রকাশের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের ক্ষণটিকে সার্বজনীনভাবে উদ্যাপনের জন্য আমাদের নানামুখী উদ্যোগ নেয়া উচিত। 

এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন রফিকুর রশীদ, সালমা বাণী, মতিন্দ্র মানখিন এবং নওশাদ জামিল। 

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি রবীন্দ্র গোপ, বদরুল হায়দার, তপন বাগচী এবং খালেদ উদ্-দীন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী সামিউল ইসলাম পোলক এবং সংগীতা চৌধুরী। পুথিপাঠ করেন জালাল খান ইউসুফী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল মিলন কান্তি দে’র রচনা ও নির্দেশনায় এবং দেশ অপেরা’র পরিচালনায় যাত্রাপালা ‘রক্তে রাঙানো বর্ণমালা’। 

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার অমর একুশে বইমেলার ২৭-তম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত, মেলায় ১১:০০টা থেকে ১:০০টা পর্যন্ত থাকবে শিশুপ্রহর। 

বিকাল ৪:০০টায় অনুষ্ঠিত হবে আবুল কাসেম রচিত বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক উন্নয়নদর্শন : জাতীয়করণনীতি এবং প্রথম পঞ্চমবার্ষিক পরিকল্পনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ পাঠ করবেন অসীম সাহা। আলোচনায় অংশ নেবেন এম এম আকাশ এবং নাসিমা আনিস। সভাপতিত্ব করবেন আতিউর রহমান। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ