ঢাকা, শুক্রবার 28 February 2020, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ৩ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

নাব্যতা সংকটের কবলে বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর 

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা :  শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই নাব্যতা সংকটের কবলে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর। সরাসরি কিছু কিছু জাহাজ ভিড়তে পারলেও। পণ্য উঠা-নামায় ব্যবহার করতে হচ্ছে ছোট ছোট নৌকা। এতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি বাড়ছে খরচও। শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী নৌবন্দরমুখী মালবাহী জাহাজ সময়মতো বন্দরে ভিড়তে না পারায় জ্বালানি তেল, সার ও কয়লা সরবরাহ কমে গেছে। এতে করে পণ্য সরবরাহে স্থবিরতার পাশাপাশি বন্দরটির কমর্চাঞ্চল্য হৃাস পেয়েছে। দেখা দিয়েছে বোরো মৌসুমে সার-জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় নৌ-বন্দর বাঘাবাড়ী। ১৬ জেলার সার, তেল, জ্বালানিসহ অনেক পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর। এজন্য বোরো মৌসুমে ব্যস্ততা বাড়ে এই রুটের। তবে, শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই প্রতি বছর নাব্যতা সংকটের মুখে পরে বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর। ডুবোচরের কারণে ঘাটে ভিড়তে পারেনা বড় নৌযান। অনেকের অভিযোগ, সময়মতো ড্রেজিং না করায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা তাদের। তবে, বন্দরে সচল রাখতে দ্রুত ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নদীতে নৌযান চলাচলের জন্য ন্যূনতম ৯ থেকে ১০ ফুট গভীরতা থাকা দরকার। তবে, এখন এই রুটের অনেক জায়গায় গভীরতা ৭ ফুটেরও কম। জানা যায়,  বাঘাবাড়ী বন্দরমুখী যমুনা নদীর বেড়া উপজেলার পেঁচাকোলা পয়েন্টে ডুবোচর পড়ায় মালবাহী কয়েকটি জাহাজ প্রায়ই আটকে পড়ছে। ইতোমধ্যেই বাঘাবাড়ী বন্দর কতৃর্পক্ষ নদীতে ড্রেজিং করতে বিআইডব্লিউটি বরাবর আবেদন করেছে বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের যমুনা অয়েল কোম্পানির ম্যানেজার এ কে এম, জাহিদ সারোয়ার জানান, নাব্যতা সংকটের কোন উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল সংকট পড়বে না। কারণ আগামী দুই মাস সামাল দেয়ার মতো পর্যাপ্ত তেল এখানে মজুদ আছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক জ্বালানী তেলবাহী জাহাজ এই রুটে আসছে। অন্যগুলো দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান,  আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুম ঘিরে উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় জ্বালানি তেল, সার এই বাঘাবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ফলে এই বাঘাবাড়ী রুটে আরও বেশি তেলবাহী জাহাজ প্রয়োজন। উল্লেখ্য ১৯৮৩ সালে সরকার উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে স্থাপন করেন বাঘাবাড়ী নদীবন্দর। বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জ্বালানি তেল, সার, কয়লা, পাট উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় সরবরাহ করা হয়। কুলি, শ্রমিক, মালিকদের কলরবে সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত মুখরিত থাকে বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর। বন্দরের তীরেই রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ৩টি তেলের ডিপো। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। নদী বন্দরের পেট্রোলিয়াম ডিপো থেকে পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্য এবং সারসরবরাহের মধ্য দিয়ে এখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। বাঘাবাড়ী বন্দর হল বাংলাদেশের একটি প্রধান নদীবন্দর। এই বন্দরের দ্বারা দেশের উত্তর অংশের কৃষি কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার এই নৌবন্দর দ্বারা আনা হয়। এই বন্দর দ্বারা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কয়লা, ডিজেল, রাসায়নিক সার নদী পথে আনা হয় ছোট জাহাজে করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ