ঢাকা, মঙ্গলবার 3 March 2020, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ৭ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

কবিতা

ঘোরে-অঘোরে

কে জি মোস্তফা

 

সুপ্রভাত,

রূপবতী আলো আমাকে সুগভীর ঘুম থেকে

জাগিয়ে তোলে

আমি টের পাই আমার ঠোঁটের কোণে

আনন্দের চিহ্ন, জিহ্বায় দুর্বোধ্য বাক্য-

যা হয় একটা কিছু কর।

অসংখ্য অলীক কল্পনায়

মাথা আমার বোঝাই হতে থাকে

কল্পনা আনন্দে ভরা

জীবনে যা কিছু আমার আদরণীয়

পাপ, পবিত্রতা, লোভ ও লালসা

এমনকি ভালোবাসার ব্যর্থতা

সবকিছুর ওপর বিরাজ করছে উল্লাস।

বালিশের ওপর মাথা রেখে আমি

কথা বলি, কথা বলি নিজের সঙ্গে

টের পাই বিভ্রান্ত মনের বিচ্ছিন্ন ধারণাগুলো

বিছানার চারদিকে নেচে নেচে

আমাকে সান্ত¡না দিচ্ছে এই বলে-

এমন একটা লোক দেখাও

যে প্রকৃতই সুসম্পন্ন।

 

স্টেশনে মৃত লোক

সায়ীদ আবুবকর

 

যে লোকটা শুয়ে আছে রাত্রির স্টেশনে

সাদা বস্ত্রে ঢাকা, যেন ঝড়ে উপড়ে যাওয়া

কোনো তালগাছ, কী কথা যে তার মনে

করছে এখন খেলা! সব চাওয়া-পাওয়া

 

জীবনের যার হয়ে গেছে শেষ, যার

জ্যোতিহীন চোখ জুড়ে শুধু অমানিশি,

মৃত্যু যাকে নিয়ে গেছে অনন্তের পার,

করবে না ক্রিয়া কোনো পৃথিবীর বিষয়ই

 

যার স্থির দেহ-যন্ত্রেÑসে কি শুয়ে শুয়ে

করছে অপেক্ষা কারো, আমাদেরই মতো?

নাকি তার শূন্য হাতে মহাকাশ ছুঁয়ে

হাসছে নিঃশব্দে, দেখে ছুটোছুটি রত

 

যাত্রীদের, যাবে যারা এই ট্রেনে চড়ে

দূর কোনো গ্রামে কিংবা অলীক শহরে?

 

যেদিন তোমায় প্রথম দেখি

আহসান হাবিব বুলবুল

 

যেদিন তোমায় প্রথম দেখি 

তুমি ছিলে আনত নয়নে

কাজল কালো চোখে উদ্ভাসে।

পরনে ছিলো নীলাম্বরী

কপালে জমেছিল ঘাম বিন্দু বিন্দু

এলোকেশ উড়ছিল দখিনা বাতাসে।

তুমি ছিলে দুরন্ত, ফসলের মাঠে

মেঠোপথে প্রকৃতির নিবিড় বন্ধু,

কবির সবুজ ঘাসের ডগার উপর

একফোঁটা শিশির বিন্দু।

 

যেদিন তোমায় প্রথম দেখি

তুমি ছিলে আনত নয়নে

লজ্জা জড়ানো অধরে মিষ্টি হেসে

বলেছিলে কেমন আছেন!

কী উত্তর দিয়েছিলাম সেদিন

মনে নেই... ...!

 

শুধু মনে পড়ে-

যেদিন তোমায় প্রথম দেখি

তোমার অমন মায়াময় চোখে চোখ রাখি;

সেদিন আমি মনে মনে বলেছিলাম

কোনদিন তোমাকে কষ্ট দিবো না

কোন মিথ্যার আশ্রয় নিবো না।

সে কথা কি রাখতে পেরেছি!!

 

ভালোবাসার শরীর 

ওমর খালেদ রুমি

 

কখনও ভেবেছো ভালোবাসারও শরীর আছে

আছে হাত, পা, নাক, কান, গলা

তাকে কখনও ছুঁতে চেয়েছো

যতোটা আপন করে স্পর্শ করো নিজের শরীর ;

 

কখনও দিয়েছো কিছু ভালোবাসাকে

নাকি শুধু যন্ত্রের অবিশ্রান্ত আওয়াজের মতো

একটানা শুধু চেয়েই গেছো

ভাবোনি একটি বারের জন্যে কোনটা কতোটা মানবিক ;

 

জমিনে যখন বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে

মাটিরও কিন্তু খুব লাগে

যদিও প্রতিটি ফোঁটাই কোমল

যদিও প্রতিটি ফোঁটাই ঐশ্বরিক;

 

একবার ভাবো কতোটা অমানবিক হলে মানুষ

শুক্নো কাষ্ঠও তবে কথা বলে

শুধু একবার ভাবো ভালোবাসাকে কতোটা ভালোবাসলে

পাথর হয়ে জমে থাকা সেও শেষ পর্যন্ত ঠিকই গলে।

 

আমাদের বিজয় আসবেই

মোহাম্মদ আবদুর রহমান

 

আমাদের বিজয় আসবেই

তবে আমরাই দূরে আছি তা থেকে ।

আমাদের ভুলের কারণে

সফলতা আজ মুখ ফিরিয়ে আছে ।

অন্ধকার গ্রাস করেছে সমাজকে।

চামচিকাতে লাথি মারে 

আর আমরা ভয়ে কাঁপতে থাকি।

আমরা তো আসলে কাপুরুষ নয় 

হজরত আলীর মতো বীর যোদ্ধা

বিজয় ছিনিয়ে এনেছি

বদর, অহদ, খন্দক ইত্যাদি মাঠে।

স্বস্তির হাওয়ায় উড়েছে

শান্তির পতাকা ।

তবে তখন ছিল মোদের ইমানের শক্তি 

যা আজ লুপ্তপ্রায় জন্তুর মতো বিলীন হচ্ছে।

কেউ করি না তা সংরক্ষণ

এটাই আমাদের ভুল ।

যখন নিজেদের ভুল সংশোধন করে

যদি ইমানের শক্তিকে হৃদয়ে সংরক্ষণ করতে পারি

তবেই সফলতা হাসতে হাসতে বাড়িয়ে দিবে হাত ।

জ্বলে উঠবে শান্তির আলো

ফেরাউন, নমরুদ, শাদ্দাদ, আবু লাহাব,

আবুজেহেলেরা লেজ গুটিয়ে পালাবে।

আর সর্বত্রই বাজবে বিজয়ের ধ্বনি

কারণ আমাদের বিজয় আসবেই।

 

আমার মা 

মীম  ওসমান 

 

আমার মা 

জায়নামাযে বসে

তসবীহ দানা ঘুরাতে ঘুরাতে

প্রার্থনা করেন ।

যেন প্রার্থনা তার আসল সম্বল।

তাকে অনেক কিছু চেনাতে চাইলাম

উত্তরাধিকারীর অবয়ব ছাড়া

তিনি যে আর কিছুই চেনেন না । 

বেশী কিছু জানে না বলেই

যা জানে হৃদয় দিয়ে জানে । 

আমার মা,

তার প্রভুর দরবারে সেজদা দিতে দিতে

কান্না করেন ।

যেন কান্না আর অস্থিরতা তার নিয়তি ।

তাকে অনেক দূর নিয়ে গেলাম

ঘর-সংসার ছাড়া তিনি আর কিছুই বুঝেন না ।

বেশী কিছু বলেনা বলেই

যা বলে সুন্দর করে বলে ।

এ সুন্দরের জন্য

বিশ্বসংসারে কত মানুষের পদচারণা ।

কতো আস্থা ও নির্ভাবনার প্রলেপ।

তবুও থামছে না মায়ের তসবীহ দানা ।

 

তুমি কোনটা নেবে

আকিব শিকদার

 

আমার হাতে বন্দুক, আমার কপালে রক্ত

তুমি কোনটা নেবে...?

যদি বন্দুক নাও- তুমি হিংস্র ঘাতক।

যদি রক্ত নাও- তুমি অপরিণামদর্শী কাতিল।

 

আমার চোখে অশ্রু, আমার ঠোঁটে হাসি

তুমি কোনটা নেবে...?

যদি অশ্রু নাও, তবে তুমি

দুঃখ বিলাসী- মানে আমার প্রকৃত বন্ধু।

যদি হাসি নাও, তবে তুমি

দুধের মাছি- মানে সুসময়ের ধাপ্পাবাজ।

 

আমার কপালে ঘাম, আমার দু’চোখ লাল

তুমি কোনটা নেবে...?

যদি কপালের ঘাম মুছে দাও শুষ্ক আঁচলে-

তুমি আমার প্রকৃত ঘরণী, আমার অর্ধ-অঙ্গ।

যদি রক্তিম চোখে বোলাও হাতের শীতল আঙুলÑ

তুমি আমার স্নেহশীল প্রেমিকা, ভালোবাসা।

 

 

হায় ভালোবাসা

সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান

 

হায় ভালোবাসা ...!!

দুটি মনের মিছে আশা

সুখের জন্যে গড়ে বাসা

হৃদয় ভেঙে হয় কোনঠাসা।

 

হায় ভালোবাসা ...!!

ফুলের মতো ঝরে যায়

পাথরের মতো ক্ষয়ে যায়

নদীর মতো শুকিয়ে যায়।

 

হায় ভালোবাসা..!!

হৃদয় জুড়ে উঠে ঝড়

আপন থেকে হয় পর

যেন ক্ষণিকের তাসের ঘর।

 

বিষাদ আঁধার নয়

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন

 

বিষাদ আঁধার নয়, মৃত্তিকাসম শান্তি। 

বিশ্বাসে মুক্তি, আশ্রয় নয়।

তোমার চর্ম চোক্ষে দেয়ালের চারপাশে স্বার্থপরতার

পোস্টার দেখলেও এখানে নিরাপত্তার চাদর বিছানো আছে।

এখানে দীর্ঘ নিঃশ্বাসী কষ্টরাই শান্তির ঠিকানা পায়।

এখানে কোন ক্ষতি নেই ভয় নেই, নেই কোন দুঃশ্চিন্তার স্থান।

 

এখানে সুমিষ্ট ফুল ফল ও সুঘ্রাণ ঠিকই আছে, অনুভবে বুঝে নিতে হয়।

অনুভূতির কষ্টি পাথরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই  চাবি।

 

এখানে শান্তিরা বাস করে।

শান্তির ছায়াতলে মিথ্যার লজ্জ্বা মিশ্রিত বেসাতি নয়।

এখানে কোন শত্রু নেই, শুধু জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হয়।

এখানে বিষাদের আঁধার আগুন নয়, প্রশান্তি আর প্রশান্তি। 

 

সবুজ খেকো জানোয়ার

রহমান মাজিদ

 

এই শহরে ঘুমিয়ে গেলে রাতের কোলে রাত, নির্বিঘ্নে

শেওলা ধরা পুরোনো পাঁচিলের ফাঁক-ফোঁকড় দিয়ে

বেরিয়ে আসে মাংসভোজী বাঘদের ভয়ানক আত্মারা

ঢুকে পড়ে লোকালয়ে, ছিঁড়ে খায় মানচিত্র, সোনার অঙ্গ

হায় আফসোস, আবার যদি সে ফিরে আসত!

যার প্রতারণার ভয়ে বিব্রত ছিল গ্রামবাসী

বাঘ এসেছে, বাঘ এসেছে, চিৎকার চেঁচামেচিতে

কানে আঙ্গুল দিয়ে রাখত আর খিস্তি খেউর পাড়ত 

পার্শ্ববর্তী এলাকার কর্মব্যস্ত শেকড় ভোলা মানুষেরা

বেয়েনটটি নখের খোঁচায় মুমূর্ষু প্রাণ তবু ঘোষণা করত

হুঁশিয়ার সাবধান! জনপদে ঢুকে পড়েছে

সবুজ খেকো মাংস খেকো ভয়ানক জানোয়ার।

তবে আমরা হয়তো আরো আত্মসচেতন হয়ে উঠতাম

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে অনবরত ঘোষণা করতাম

মাটি দস্যুদের ঘৃণ্য কল্প বিস্তারের পূর্বাভাস

যে মাটি প্রতিনিয়ত প্রসব করে শস্যের দানা

যে আকাশ উদগীরণ করে নিঃশ্বাসের অরণ্য

প্রাণপণে খেদাবো তার সকল জঞ্জাল

এ হোক আজ আমার দীপ্ত শপথ। 

 

জলজোনাকি

তাসনীম মাহমুদ 

 

এখানে বৃষ্টির জ্যোৎস্নায় নেমেছে ঢল 

এখানে ডানা ভাঙ্গা পতঙ্গের ইতিকথা আয়োজন 

এখানে ধুয়ে যাওয়া মেহেদি পাতার পিঞ্জরে

রক্তাক্ত, ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন। যাকে তুমি সবুজ দেখো! 

অথচ; জানো না 

বেদনায় কিছু রঙ চিরে দেখতে হয়; আকাশের মেঘ দেখে 

সব রঙ চেনা যায় না। এই যেমন দেখতে পাও, -- 

শরতের মেঘ কাশফুলে সাদা; বেদনা এখানে আনমনা-উদাস। 

হেমন্তের মেঘ নীল অপরাজিতা; বেদনা এখানে অপেক্ষাকৃত ঋজু। 

শীতের মেঘ নীরব-সুনসান; বেদনা এখানে হিম-শীতল। 

বসন্তের মেঘ সরোবরে পদ্ম; বেদনা এখানে রঙিন ডানায় আনন্দ-বৈভব। 

গ্রীষ্মের মেঘ খানিকটা বাউ-লে; বেদনা এখানে অপেক্ষাকৃত ক্ষ্যাপাটে। 

আর বর্ষায় মেঘ অমাবস্যায় কালো; বেদনা এখানে জলজোনাকী। 

যাকে তুমি কদম ফুলের সুষম পাপড়ি মনে করো..। 

 

এ--কি! বিশ্বাস হচ্ছে না কবিতায়? তাহলে যাও 

প্রতিটি বেদনার মৌসুম ঘুরে 

নিজেকে একবার করে ভিঁজিয়ে নেও। দেখবে,-- 

প্রতিটি বেদনায় রঙ, রূপ-রস-গন্ধে 

একেকটি আলাদা আলাদা প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে 

জীবন ক্যানভাসে...। 

কোনো কোনো বেদনায় তুমি আপনাআপনি হাত ছোঁয়াতে পারবে 

দেখে নিতে পারবে তার ভেতর বাহির। আর কিছু বেদনা আছে এমন 

যার শিরা-উপশিরা চিরে দেখতে হয়! 

কোন বেদনায় তুমি আহত-ভঙ্গুর যাকে দেখতে পাও; ছুঁতে পাও? 

সে-- তো শোকবই মেল পরিত্রেয়। আরদিকে 

শ্রাবণসন্ধ্যাকে চিরে দেখো! সে পাথর; থৈ থৈ যমুনা ...।

 

অনুভব

রফিকুল ইসলাম

 

তোমার ভাবনাগুলি এতটুকু ম্লান

হতে দিইনি

থরে থরে সাজিয়ে রেখেছি-

স্বপ্নে গড়া ভাবনার দেয়াল ঘিরে,

তোমার হৃদয়ের গভীর অনুভূতির 

কবিতাগুলি 

ছোট্ট ভুবনের ছোট্ট নীড়ে।

 

কষ্টের আড়ালে দিইনি ফেলে 

পাথরচাপা কোন জঞ্জালে

তোমার নিঃশ্বাসে আমার বসতি

স্বপ্নগুলো বাঁধি অঞ্চলে। 

 

এখনো মুছে যায়নি তোমার হৃদয়

ক্ষরণের ফোঁটা ফোঁটা রক্তের দাগ-

স্বপ্নীল জগতের রঙিন সিঁড়ি ভাঙতে

নষ্ট করিনি প্রথিত সখের গোলাপ।

 

এখনো রেখেছি যতনে পরিপাটি

এখনো স্মৃতির আলপথে হাঁটি

এখনো অমাবস্যার রাতে স্বপ্ন দেখি

চাঁদ নেমে এসেছে ছুঁয়েছে মাটি। 

 

বিশ্বাস কর ! 

এখনও তোমাতে আমার বসবাস

এ বসতি কিনেছি আমি রক্তের দামে

এ অনুভূতি আমার প্রেমের গৌরব

এখনো উড়ো চিঠি আসে রঙিন খামে।

 

এ প্রজন্মের নবাব

মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ভুইয়া

 

নবাবের রক্ত বইছে তোমার,

তুমি ও তো নবাব,

নবমতম বংশধর,

হুবহু নবাবের মতো সুন্দর সব স্বভাব।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                         

বাংলার জান প্রাণ সিরাজউদ্দৌলা খাঁটি দেশপ্রেমিক ছিলেন,

আজ ও সবার মনে সেই সব কথা গাঁথা।

রাজ বল্লভ- জগৎশেঠ- ক্লাইভ- মীরজাফর বাহিনীর বিশ্বাস ঘাতকতায়,

বাংলা যে পেলো ভীষণ ব্যথা।

 

নবাবের সন্তান নবাবজাদা আব্বাসউদ্দৌলাতো

সুন্দর এক মানুষের নাম।

তাঁর সততা দেশপ্রেমের ইতিহাস তাঁর প্রকৃতি প্রেম মানবতার সুনাম নিয়ে,

বইছে ভালোবাসার অভিরাম খেয়া।                                                                                                                                                                                    

বাহ কি বিনয়ী ব্যবহার তোমার,

অহংকারের বিন্দু মাত্র ছোঁয়া নেই।

লাল সবুজের দেশপ্রেমি প্রতিটি হৃদয়কে আজও মনে করিয়ে দেয়,

তিনিও ছিলেন সেই রকম সুন্দর হৃদয়ের একজন।                                                                                                                                                                                   

খাঁটি রক্ততো বলে একই কথা

প্রজন্ম প্রজন্ম ধরে।

তুমি তো তাঁর জ্বলন্ত প্রমাণ

এক বিন্দু যাওনি নড়ে।                                                                                                                                                                                                                   

লাল সবুজের দেশপ্রেমি মানুষ আজও শ্রদ্ধা চিত্ত ও ভালোবাসায় মনে করে,

বীর নবাব আলিবর্দী খান,

দেশপ্রেমি নবাব সিরাজউদ্দৌলা,

মহীয়সী নারী বেগম লুৎফুন্নিসা,

ও উম্মে জোহরার

বাংলার সামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাখা অবিস্মরণীয় সব ভুমিকার কথা।

 

নবাবের নবাবী আদর্শ চেতনা,

সততা দেশপ্রেম ভালোবাসায়,

বাংলার যুবরাজ সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব ওরফে

নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা পরিপূর্ণ,

তাইতো তাঁকেও করেছে ঐতিহ্যের সুন্দর সব কিছু স্পর্শ।

এ প্রজন্মের ভাগ্য ভালো,

নবমতম নবাবের সাথে দেখা,

কিশোর তরুণেরা মিশো তাঁর সাথে,

তাঁর ডাকে দাও সাড়া,

তাঁর হাতকে করো শক্তিশালী,

বলো সব মনের কথা,

লাল সবুজের হৃদয় জুড়ে নতুন প্রজন্মের সিরাজউদ্দৌলা,

সেকি ভাগ্য আমাদের,

চলো তাঁর হাতে হাত রেখে আমরাও ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হই,

হয়ে যাক ভিন্ন কিছু সুন্দর কিছু,

ঐতিহ্যের ভালোবাসায় নতুন প্রজন্মের সিরাজউদ্দৌলার কাছ থেকে শিখা।

 

স্বপ্নভূমি

হাসান নাজমুল

 

হে অকাল্পনিক পৃথিবী,

তোমার বাস্তব ভূমির কোথাও-

আমাদের হবে না মিলন;

তাইতো স্বপ্নের চারণভূমিতে

নিশীথরাতের স্বপ্নে-

আমাদের হয়েছে সুখের সাক্ষাৎ,

আমি তো পেয়েছি  স্বপ্নভূমি

পেয়েছি রঙিন স্বপ্নসুখ;

অদেখার অতৃপ্ত যন্ত্রণা

মাটির হৃদয় স্পর্শ করার আগেই

দেখার আকাক্সক্ষা নিয়েছি লুফে,

আমার আশৈশব যন্ত্রণা

নির্দ্বিধায় তার দু’হাতে দিয়েছি তুলে,

এলোমেলো ব্যথার বিকাশ-

স্বচ্ছ আয়নায় দেখিয়েছি তাকে,

এই সোনালি সাক্ষাতে

আমার কান্নায় সে কেঁদেছে,

সে ফেলেছে দীর্ঘশ্বাস;

অথচ এ স্বপ্ন দীর্ঘ নয়!

চোখ খুললেই সরে যায় স্বপ্নভূমি।

 

রঙ্গিন পাখনা

শিরীন আক্তার সুলতানা   

 

হাঁটতে চলতে ফিরতে কখন                      

চলছে অবুঝ মন,    

জানি না কখন কবে কোথায়                        

হয়েছে আলাপন।    

                                     

নরম ঘাসে শরম লাগে

হিমেল শিশির পায়,

ফিরে তাকাই ফুলে সাজাই

আলতা রাঙ্গা গায়।

 

পূবাল বাতাসে নীল আকাশে

ঝিকিমিকি নদীর ঢেউ,

কত মাঝি ভাটিয়ালী গায়

মনে কি রাখে কেউ?

 

আমার সোনার পালকে তুমি

স্বপ্ন দেখো হেসে খেলে,

পাখি উড়ে যায় প্রজাপতি চলে

রঙিন পাখনা মেলে।

 

গ্রন্থাগার

মোঃ রতন মিয়া

 

মহান স্রষ্টার বার্তা সৃষ্টির তরে, জ্ঞানের প্রদীপ শিখা অনির্বাণ,

গ্রন্থ তথ্য শান্তির সংবিধান, আত্নার আত্নশুদ্ধি পবিত্র রাখে প্রাণ।

আব্দুর রহমান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ গ্রন্থাগার,

নেত্রকোনা জেলা সদর সাকুয়া বাজার,

উদয়ের পথে আলোর দিশারী, খুলে দিয়েছে আমার মনের দুয়ার। 

 

প্রতিষ্ঠিত করেছেন সাংবাদিক দিলওয়ার খান,

মানব কল্যাণে সুচিন্তিত মনে, দিচ্ছেন সার্বিক অনুদান।

সচেতন সেবা শিক্ষার ভুবন, আলোর মশাল সূর্য কিরণ,

সুস্থ দেহ শান্তিতে মন, সদায় থাকে যে প্রতিটি মানুষের জীবন।

 

সমাজ গঠন রাষ্ট্র শাসন, পালন করি যত ধর্ম,

সকল গ্রন্থেই হয় প্রয়োজন, কাগজ কলম বর্ণ।

অমৃত কথার স্বাদ লেখকের সাধুবাদ নেই মোরা দীক্ষা,

আদর্শলিপি, সবুজ সাথী, ধারাপাত ইংলিশ বাল্যশিক্ষা।

 

সুখ দুঃখ ইতিহাস জীবন যাপন বসবাস,

কেহ রাজা সিংহাসনে কারো আশ্রয় সাধারণে, কেহ ঘুরে বনে-বনে ঠিকানা বনবাস।

অলি আউলিয়া নবী রাসুল গ্রন্থ বাগানে ফুটাইলো ফুল,

তাঁদের জীবন আদর্শ, পূর্ণ তথ্য জানতে ভক্তরা ব্যাকুল।

পাঠকের মন গ্রন্থের নীতি যদি করে আহোরণ,

আঁধার মনে আলোর জ্যোতি থাকবে সারাক্ষণ।

 

গবেষণায় বৈজ্ঞানিক খুঁজে পায় বহুদিক, সংবাদে সাংবাদিক বার্তা জানান,

চন্দ্র সূর্য গ্রহ নক্ষত্র নতুন-নতুন আবিস্কারে চলছে অভিযান,

আকাশে বাতাসে ইথারে স্যাটালাইট করছে অনুসন্ধান।

কথার যাদুকর মায়া মধুর ছন্দে সাজায় কথা, গল্প উপন্যাস ছড়া কবিতা,

লিখেছেন লেখক গায়কের গান, করিম হাছন লালন,

জালাল খান, জসিমউদদীন, ররীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম আরো কত গুণীজন।

 

গ্রন্থ পাঠে উদয় হবে, প্রেম ভালোবাসার স্বর্গ সুখের মহৎ কাহিনী,

অমর হয়ে বেঁচে আছে, মানুষের মাঝে বিশে^ যাঁদের জীবনী।

শুরু হতে আজ অবধি এসেছে যত মানবতার গ্রন্থ বিধান,

বিজ্ঞান, শান্তির মহা বাণী শ্রেষ্ঠ পবিত্র আল-কুরআন।   

 

 

নিয়তি

শেখ একেএম জাকরিয়া

 

ঘটকের ঝুলি থেকে হেঁটে আসা প্রস্তাবটি বিষিয়ে তুলল জীবন।

আঁতুড়ঘর ডিঙোতেই হবে ঋতুমতি যুবতীর!

আকাশ, বাতাস, নদী সবারই একই ইচ্ছে

নীতি সরোবরের পঙক্তিগুলো তুমি নামক কলসে ডুবিয়ে রাখতে হবে।

অকাব্যের পিচহীন রাস্তায় অনিচ্ছাকৃত বাজাতে হবে

গীতিকাব্যের মাউথ অরগান।

অসমাপ্ত কাব্যে দাঁড়ি কমার ম্যাকবেথ

অহেতুক উড়িয়ে দিতে হবে প্রবাসী হাওয়ায়!

সাথে আয়ুর আর্কেস্ট্রা, শব্দতলার প্রেমময় শব্দ!

এর কোনো সমাধান নেই,  শুধু টান পড়বে দুরন্ত হৃদয়ে...

ভালোবাসি আমার মতো

মোহাম্মদ অংকন

 

আমি ভালোবাসি সমুদ্রের মতো

যার বুকে নিত্য খেলা করে উত্তাল ঢেউ।

আমি ভালোবাসি আকাশের মতো

যার বুকে উড়ে চলে বিহঙ্গ, মুক্ত সে-ও।

 

আমি ভালোবাসি চাঁদের মতো 

যার আলোয় ভরে ওঠে সবুজ উঠানখানি।

আমি ভালোবাসি ঘাসের মতো 

যার দেহের পরতে শিশির, অবুঝ জানি।

 

আমি ভালোবাসি নদীর মতো 

যার বয়ে চলা কুলুকুলু ধ্বনি বাজে কানে।

আমি ভালোবাসি পথের মতো 

যার বুকে পা ফেলে ছুটে আসি, ঐখানে।

 

আমি ভালোবাসি আমার মতো 

যতটুকু ভালোবাসা হৃদয়ে আছে তা দিয়ে

এতে যদি পাও সুখ এতটুকু

ছুটে এসো হে প্রিয়তমা দুঃখটাকে সরিয়ে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ