ঢাকা, শুক্রবার 6 March 2020, ২২ ফাল্গুন ১৪২৬, ১০ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

তামাককে না বলুন 

গত ৪ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক রিপোর্টে প্রকাশ, তামাকচাষের অঞ্চলগুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মীরা নানাভাবে নিরুৎসাহিত করবার পরও নীলফামারী জেলার অনেক এলাকায় এর আবাদ চলছে অব্যাহতভাবে। বোরো, ভুট্টা, পাট কিংবা গমচাষের জন্য বেশি উপযোগী এমন জমিতেও কম-বেশি তামাকচাষ করছেন চাষিরা। তাঁরা বলছেন, তামাকের উৎপাদন খরচ কম। দাম পাওয়া যায় ভালো। বিক্রির নিশ্চয়তাও দেন কোম্পানির লোকেরা। অপরদিকে ধান, গম, পাট আবাদে খরচ বেশি। দাম পাওয়া যায় না। এমনকি বিক্রি নিয়েও যথেষ্ট ঝামেলা পোহাতে হয়। অভিযোগ আছে, বিড়ি-সিগারেট কোম্পানিগুলোর লোভনীয় প্রস্তাবের কারণে তামাকচাষে মানুষের আগ্রহ বাড়ছেই। কোম্পানিগুলো বিনামূল্যে বীজ, বিনাসুদে ঋণ, সার, নগদ অর্থসহ তামাকক্রয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এমনকি কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত তামাকচাষিদের খোঁজখবর রেখে সহযোগিতা করেন। পরামর্শ দেন। প্রায়শ অর্থসংকটে থাকেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিরা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিড়ি-সিগারেট কোম্পানিগুলো ওই সব চাষিকে তামাকচাষে উৎসাহিত করেন। ফলে জেলায় তামাকের আবাদ বেড়ে চলেছে। শুধু নীলফামারী নয়, উত্তরাঞ্চলের সব জেলা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামেও এ ক্ষতিকর পণ্যটির আবাদ এখনও অব্যাহত রয়েছে। 

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এ বছর নীলফামারীর ৩ হাজার ২৩ হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ৮৪ হেক্টর বেশি। কৃষি ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তামাকচাষে কারগিল নামক সার প্রয়োগ হয়। ফলে চাষি ও পরিবারের লোকজন যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন, তেমনই ফসলি জমি হারায় ঊর্বরতাশক্তি। রংপুর বিভাগ তামাকচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম ফকির বলেন, ২০১০ সালের আগে কোনও কোনও কোম্পানি তামাক উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের নানাভাবে সহযোগিতা করতো। তবে এখন সেরকম সহযোগিতা করে না। বিশেষ করে বিড়ির প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় অনেক কোম্পানি আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। জেলা সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বলেন, তামাক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তিনি বলেন, শ্বাসকষ্টসহ চর্মরোগ সৃষ্টি করে তামাক। এর নিকোটিন শরীরের রক্তনালী সরু করে দেয়। এর ব্যবহারে হার্ট ও কিডনি নষ্ট হবার আশঙ্কা থাকে। নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগ এ ফসল যেন কোনও কৃষক আবাদ না করেন এজন্য তাঁদের উদ্বুদ্ধ করে থাকে। কিন্তু এরপরও তামাকের আবাদ বন্ধ হচ্ছে না। বরং বাড়ছে। তাই তামাকের আবাদ এবং এর ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, তামাক থেকে কেবল বিড়ি-সিগারেটই প্রস্তুত হয় না, জর্দা, গুল ইত্যাদি নেশার পণ্য তৈরি হয়। এক প্রকার তামাকপাতা শুকিয়ে গ্রামের মহিলা ও পুরুষ আস্ত চিবান। একে খৈনি বা সাদাপাতা বলে। এতে মানুষের বিশেষত মহিলাদের মুখে ক্যান্সার হয় বেশি। অল্প বয়সে প্রজননক্ষমতা হ্রাস পায়। অনেকের বন্ধ্যাত্বরোগ হয়। এ ছাড়া বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় এবং জর্দা-গুলের দুর্গন্ধে পরিবেশ পর্যন্ত দূষিত হয়ে পড়ে। ধূমপান ও জর্দা-গুলের ব্যবহারে নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে। প্রচুর অর্থ ব্যয় করেও ধূমপান এবং জর্দা-গুলের ব্যবহারজনিত ব্যাধি সারানো সম্ভব হয় না। তাই আর বিলম্ব নয়। তামাককে এখনই না বলুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ