ঢাকা, শুক্রবার 6 March 2020, ২২ ফাল্গুন ১৪২৬, ১০ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রয়োজন

এইচ এম আব্দুর রহিম: সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এতদিন আমরা শিক্ষার হার বাড়িয়েছি। এখন মানের দিকে নজর দিচ্ছি। এর মাধ্যমে তারা স্বীকার করে নিলেন, শিক্ষার মানের বিষয়টি উপেক্ষিতই ছিল। কিন্তু তাঁরা সম্ভবত ভুলে যান মানেই মানসম্পন্ন শিক্ষা। এখানে ফাঁকিবাজির কোন সুযোগ নেই। ফাঁকিবাজির শিক্ষা দিয়ে সনদ সংগ্রহ করা যায়, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার হার বাড়ানো যায়, যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক গড়া যায় না। 

যে শিক্ষা সময়ের চাহিদাপূরণে অক্ষম কিংবা যার কোন উপযোগিতা নেই, তাকে শিক্ষা বলা যায় না। বলা হয়, বৃটিশরা এক দল কেরানি তৈরি করতে এ দেশে ‘আধুনিক শিক্ষা’ চালু করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, স্বাধীন দেশে যে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, তাতে যোগ্য কেরানিও তৈরি হচ্ছে না। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাচ্ছি বলে দাবি করি। উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা রয়ে গেছে সেকেলে। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রি নেয়া আমাদের তরুণরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তখন উচ্চ বেতন-ভাতা দিয়ে বিদেশ থেকে হাজার হাজার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী আনা হচ্ছে। ২০১৪ সালে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটের এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিশ্বে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার বেশি। গত ছয় বছরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এর কারণ, সরকার নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় খুলে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে সনদ দিতে পারলেও প্রকৃত শিক্ষা দিতে পারেনি। নতুন নতুন বিভাগ খুলেছে, যার কোনো উপযোগিতা নেই। আবার সেসব ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষা সংকোচন করা হচ্ছে। যুগোপযোগী নীতি এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন। ইতঃপূর্বে বহু কমিশন হয়েছে কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকারও কথা রাখতে পারেনি। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী তো এখন পাবলিক পরীক্ষা হচ্ছে। আমাদের শিক্ষা এখন পরীক্ষামুখী, পাঠমুখী নয়। বর্তমানে দেশে চার ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা আছে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, ইংরেজি ভার্সন এবং মাদরাসা শিক্ষা।

 পত্রিকায় দেখলাম কোন কোন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় চলছে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক দিয়ে। কোন অধ্যাপক এমনকি সহযোগী অধ্যাপক নেই। এ অবস্থায় মান সম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা আশা করা যায় কিভাবে? সরকারের নীতি নির্ধারক মহল থেকে এখন বলা হচ্ছে, মাধ্যমিক শিক্ষায় অভিন্ন পাঠ্যক্রম থাকবে। বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও কলা বিভাজন থাকবে না। এর অর্থ নতুন করে পাঠ্য বই প্রণয়ন করতে হবে। সরকারের এ উদ্যোগে কোনো নতুনত্ব নেই। যে কোনো দেশের নীতি বাস্তবায়নের জন্য আইন আবশ্যক। 

এদিকে দেশে শিক্ষার মান ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে অটো পাশ, নকলে পাস, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষকদের অদক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষকদের অদক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক, অবকাঠামো, ল্যাবরেটরি, অনুকূল পরিবেশের অভাব ইত্যাদি কারণে শিক্ষার মান কমতে কমতে এখন সর্বনি¤œ পর্যায়ে পৌঁছেছে! বিশ্ব ব্যাংকের গত বছরের এক জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রাথমিকের ৬৫% শিক্ষার্থী বাংলাই পড়তে পারে না। ইংরেজি গণিতের দুর্বলতা তার চাইতেও বেশি। অথচ প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু তার সুফল এখন নেই। শিক্ষার এই মানহীনতার জন্য বেশির ভাগ শিক্ষকের অদক্ষতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব আছে, তেমনি স্বল্পতা আছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পরিবেশের ঘাটতি আছে ব্যাপক। গত ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রাথমিক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের  তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৮,৮৩২ শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া, শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষাবহির্ভূত ১২-১৪ ধরনের সরকারি কাজ করানো হয়। ফলে শিক্ষকদের পাঠদান ব্যাহত হয়। এভাবে প্রাথমিকে শিক্ষার মান অতি নি¤œ দিকে চলে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ে পরবর্তী পর্যায়সমূহে। তাই প্রাথমিকের ন্যায় মানহীনতা পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত, যা বৈশ্বিক পর্যায়ে অতি নি¤œ। এর প্রভাব পড়ছে কর্মজীবনে। অর্থাৎ আউটপুট ভাল হচ্ছে না। বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতার সূচকে বাংলাদেশ তলানিতে। ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসন, কূটনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রের কথা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষাখাতের কয়েকটি ঘটনার কথা বললে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন বিতরণের পর এবার আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে কেন্দ্র করে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বোর্ড। প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অনেক জেলায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় গাইড বই থেকে হুবহু প্রশ্নপত্র তুলে দেয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক চলছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার কয়েকটি কেন্দ্রে ২০২০ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০১৮ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করা হয়। এতে বিপাকে পড়ে শিক্ষার্থীরা। রংপুর বিভাগের ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এভাবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিপুল পদ শূন্য আছে। সব মিলে বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের শূন্য পদ লাখ ছাড়িয়েছে। এছাড়া প্রশাসনে লোকবলের ঘাটতি আছে। দেশের ৩৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের দায়িত্বে আছেন ২৩ কর্মকর্তা। এর মধ্যেই গত দেড় মাস ধরে সব ধরনের পরিদর্শন কার্যক্রম বন্ধ। অথচ দেশে বিপুল উচ্চ শিক্ষিত মানুষ বেকার আছে। তবুও নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা ও গাফিলতির কারণে। অপর দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও অবস্থা তথৈবচ। ইউজিসির’র ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন মতে, ‘পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের তোয়াক্কা করছে না দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় । সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করে এখনও ৩০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাচ্ছে। শিক্ষার্থী ভর্তিতে মানছে না অনুমোদিত আসন সংখ্যা। ভিসি প্রভিসি-কোষাধক্ষ্য নিয়োগের বিধানের নিয়ম মানা হচ্ছে না। বোর্ড আর নানা কেনা কাটার আড়ালে কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন বোর্ডাব ট্রাস্টিজের সদস্যরা। এছাড়া,সরকারি বেসরকারি ৭৫টি বিশ্ব বিদ্যালয়ে কোন গবেষণা হয়নি। এর মধ্যে ২২টি বিশ্ব বিদ্যালয়ের জন্য কোন বরাদ্দই রাখা হয়নি। শিক্ষার্থী ভর্তি আর ক্লাস পরীক্ষা আর সার্টিফিকেট প্রদান করেই দায় সারছে এসব বিশ্ব বিদ্যালয়। উপরন্তু ২০১৮ সালে ৮৫% বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন মেনে আয় ব্যয়ের নিরিক্ষিত হিসাব জমা দেয়নি। নামে বেনামে নানা সুবিধা ভোগ করছেন ট্রাস্টিরা। শিক্ষার্থীদের বেতন ফির টাকায় গাড়ি-বাড়ি বিলাস উচ্চ বেতন গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে ট্রাষ্টিদের বিরুদ্ধে। আর এসব অনিয়ম ঢাকতেই ব্যয়ের হিসাব দিচ্ছে না। এই অবস্থায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান আন্তর্জাতিক মানের নয়। কিউএসএর ২০১২ সালের জরিপে ঢাবির বৈশ্বিক অবস্থান ছিল ৬০১তম। ২০২০ সালে তার অবস্থান হয়েছে ৮০১তম।আর এসআইআর’র ২০১২ সালের জরিপে বুয়েটের বৈশ্বিক অবস্থান ছিল ৭২৫তম। ২০১৯ সালে তার অবস্থান হয়েছে ৭৫৬তম। শুধুমাত্র ঢাবি বুয়েট নয়,মানের দিক থেকে কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক সূচকে নি¤œগামী দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশের শিক্ষাখাতে নাজুক পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় দক্ষ লোক তৈরি হচ্ছে না। গত ৩০ অক্টোবর ইউনিসিফের তথ্যমতে,বাংলাদেশে মোট তরুণ সমাজের মধ্যে বর্তমানে ২৬% দক্ষতা অর্জন করেছে। অর্থনীতিবিদ জাহিদ হাসানের অভিমত, আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পরে দক্ষতার প্রশিক্ষণগুলোতে অংশগ্রহণ নগণ্য। জনসংখ্যার মাত্র ২.১ আনুষ্ঠানিক স্কুলিং সিস্টেমের বাইরে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে। এই জায়গাগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আর পরিবর্ধণ সাধন না করতে পারলে বিদেশি দক্ষ শ্রম নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসার পথ কখনো খুলবে না। উল্লেখ্য যে, বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের সর্বত্রই বেশির ভাগ কাজ ও কথা ইংরেজিতে হয়। তবুও দেশের উচ্চ শিক্ষিতদের বেশির ভাগই ইংরেজিতে অদক্ষ। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এডুকেশন ফার্ষ্ট গত বছর প্রথম ভাষা ইংরেজী নয় এমন ১০০টি দেশে জরিপ চালিয়ে ইংরেজি দক্ষতার সূচক তৈরি করেছে। তাতে ৪৮.১১ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ তালিকায় ৭১তম। দক্ষতার তালিকা হিসেবে তা নি¤œ। এ তালিকায় ভারত ৩৪তম (স্কোর ৫৫,৪৯), নেপাল ৬৬তম। অথচ ২০১৮ সালে বাংলাদেশে স্কোর ছিল ৪৮,৭২। এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদদের অভিমত: ‘প্রাথমিক স্তর থেকেই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি ভীতি তৈরি হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষকের অভাব ও দুর্বল পাঠক্রমের কারণে পরবর্তী ধাপগুলোতে এ দুর্বলতা আর কাটিয়ে উঠতে পারছে না শির্ক্ষাথীরা। ইংরেজীতে দুর্বলতা নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করছে তারা। যা হোক শিক্ষার মান বৃদ্ধির চেয়ে অনৈতিকভাবে শিক্ষার হার বৃদ্ধির দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ায় এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া আরো কিছু কারণ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড  ইকোনমিক ফোরামের সামাজিক উত্তরণ সূচক ২০২০ এর মূল্যায়ন হচ্ছে, বাংলাদেশে সব চেয়ে খারাপ অবস্থা জীবনভর শিক্ষার সুযোগে। এ উপসূচকে ৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮২তম। শিক্ষকদের দুর্বল প্রশিক্ষণ, বাজার চাহিদা নীতি হিসাবে শিক্ষা নীতির অভাব, তথ্য প্রযুক্তির অভাবের কারণে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে আছে। গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মান থেকে শহুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মান বেশ পিছিয়ে।’ এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষ তা নির্বাহ করতে পারছে না। ফলে তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারছে না।                                      

 আইন না থাকলে আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি দেয়া যায় না। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, সরকার শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি আইন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বশেষ আইনের যে খসড়া তৈরি করেছে, তাতে নোট বই ও গাইড বই বাতিল করার কথা বলা হলেও কোচিং সেন্টার থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তারা শর্ত দিয়েছে দিনের বেলায় কোচিং চলতে পারবে না; রাতে চলবে এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়তে পারবেন। যেখানে স্কুল পর্যায়ের পুরো শিক্ষাটি কোচিং নির্ভর হয়ে পড়েছে, সেখানে কোচিং সেন্টার রেখে শিক্ষার্থীদের ফের স্কুলমুখী করার চিন্তা অবাস্তব। ঢাকার মিরপুরের এক অভিভাবকের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বললেন, তাঁর মেয়ে এক স্কুলে পড়ে, সেই স্কুলের দুইজন শিক্ষকের কাছে তাকে কোচিং করতে হয়। কোচিং না করলে শিক্ষকেরা ফেল করিয়ে দেন, সে ক্ষেত্রে কোন অভিভাবক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনতে পারবেন না। শিক্ষাঙ্গনে এসব নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার যে উদ্যোগ নিয়েছে,প্রশংসনীয়। এতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে। প্রতিবছর ভর্তির সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর এক বিশ্ববিদ্যালয় ছোটাছুটি করছে। কাছাকাছি সময়ে পরীক্ষা হওয়ার কারণে অনেকের পক্ষে কাক্সিক্ষত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হয় না। প্রথমে ইউজিসি চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার। এখন পাঁচটি ভাগে নেয়ার  সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি।

দেশে মোট ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চালু আছে। এর মধ্যে ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় নানা কারণে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার বাইরে থাকছে। এর মধ্যে আছে চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া দেশের পাঁচটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় নিজ নিজ পদ্ধতি অনুসারে ভর্তি পরীক্ষা নেবে। এগুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়। ইউসিজি কয়েক বছর ধরে ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু তা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় রাজী না হওয়ায় সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। এবার যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াই গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। দেখা যাক ইউসিজি সফল হয় কিনা। 

সাম্প্রতিককালে শিক্ষা বিভাগে কিছুটা ওলট পালট শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার মান বাড়ানোর কথা বলছে। কিন্তু এসব তৎপরতা লোক দেখানো না আন্তরিক তা কাজে প্রমাণ পাওয়া যাবে।

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ