ঢাকা, মঙ্গলবার 17 March 2020, ৩ চৈত্র ১৪২৬, ২১ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

করোনায় ইউরোপের তিনদেশে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারিপীড়িত ইউরোপের তিন দেশে এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে এক দিনে ইতালিতে ৩৬৮, স্পেনে ৯৭ ও ফ্রান্সে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ইউরোপের ওই তিন দেশে এখন মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ইতালিতে ১ হাজার ৮০৯ জন, স্পেনে ২৮৮ জন ও ফ্রান্সে ১২০ জন মারা গেছে। ইউরোপের আরেক দেশ যুক্তরাজ্যে এক দিনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত মানুষের সংখ্যা ৩৫।
ইউরোপজুড়ে সরকাররা নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের চলাচলে বিধিনিষেধ এবং সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও লুক্সেমবার্গের সঙ্গে জার্মানি আজ সকাল থেকে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরোপ করেছে। পর্তুগাল স্পেনের সঙ্গে সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে। চেক প্রজাতন্ত্র শহরগুলোয় নাগরিকদের চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে। সেখানে লোকজন কাজে যেতে পারবে, ওষুধ ও খাবার কিনতে পারবে, জরুরি প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারবে। এর বাইরে অবাধে চলাচল ২৪ মার্চ পর্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রিয়া পাঁচজনের বেশি লোকের জমায়েত হওয়া গতকাল থেকে নিষিদ্ধ করেছে। আয়ারল্যান্ড ২৯ মার্চ পর্যন্ত পাবগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ইউরোপের অনেক দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। চীনে ব্যাপক প্রাণহানির পর ভাইরাসটি অন্য দেশে ছড়ায়। এখন ইউরোপকে প্রাদুর্ভাবটির নতুন কেন্দ্রস্থল বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এই সংকটের আরও বিস্তৃতির আভাস রেখে সুইজারল্যান্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০০ জন আক্রান্ত হয়ে মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০০। সেখানে মারা গেছে ১৪ জন।
বৈশ্বিক এই মহামারি বা প্যানডেমিকের বড় ভার এখন ইতালির ঘাড়ে। শুধু লোম্বার্ডিতে আক্রান্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৭৪৭ জন এবং মারা গেছে ১ হাজার ২১৮ জন। গত সোমবার থেকে ইতালিতে দেশজুড়ে সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং খাবার ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল, জিম, জাদুঘর, নাইট ক্লাব এবং অন্যান্য ভেন্যু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্পেনে মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৭ হাজার ৭৫৩। ফ্রান্সে ৫ হাজার ৪০০ জন।
বিশ্বজুড়ে এখন করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৮৭। এর মধ্যে অর্ধেকই ৮১ হাজার ৩ জন আক্রান্ত হয় চীনে। মারা গেছে ৬ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৫ জন চীনের। যুক্তরাষ্ট্রে ৩ হাজার ২৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৬২ জন।
ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় পরিষদ দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে নির্বাচন করে ও নিয়োগ দেয়। দেশটির সেই ধর্মীয় পরিষদের এক প্রবীণ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। করোনায় এ নিয়ে দেশটিতে বিশিষ্ট ১২ রাজনীতিবিদের মৃত্যু হলো। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা এ খবর দিয়েছে।
ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় পরিষদের ওই সদস্যের নাম আয়াতুল্লাহ হাশেম বাথায়ী গোলপায়েগানি। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। মৃত্যুর দুইদিন আগে তিনি কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বলে রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ‘ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি’র (ইরনা) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের ৮৮ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ পরিষদের একজন প্রতিনিধি ছিলেন আয়াতুল্লাহ হাশেম। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে দেশটির অন্তত ১২ জন নেতার মৃত্যু হলো। এছাড়া এরকম আরও অন্তত ১৩ জন নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ইরানের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক কর্মীদেরও মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ফারিবোরজ রইস নামের ৭১ বছর বয়সী আরেক নামকরা অর্থনীতিবিদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে ছয় দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখন খোদ চীনেই কমেছে। ইউরোপকে করোনা প্রাদুর্ভাবের নতুন কেন্দ্রস্থল হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চীনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আরও ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একদিনে নতুন করে শতাধিক মৃত্যু নিয়ে ইরানে মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৭২৪ জন। এছাড়া দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়ে এখন ১৩ হাজার ৯৩৮। তবে আক্রান্তদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৯০ জন সুস্থ হয়েছেন। দেশটির পার্লামেন্টের ৮ শতাংশ আইনপ্রণেতা করোনায় আক্রান্ত।
জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০৪ জনে।  তবে প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেস এ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আলাদাভাবে গণনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জাপানে এপর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের গণস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যে কোনো ভাইরাসের ভ্যাকসিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য এক থেকে দেড় বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। এটা প্রাথমিক ধাপ হতে পারে। এদিকে, এপি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ৪৫ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। যাদের কেউই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। এই পরীক্ষা ত্রুটিমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে পারলে, সামনে বড় আকারে এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ভ্যাকসিন উৎপাদনে যৌথভাবে ভূমিকা রাখছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (এনআইএইচ) ও মডের্না করপোরেশন।
এদিকে করোনাভাইরাসে মালয়েশিয়ায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১২৫ জন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৫৩ জনে। আজ সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫ জন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত রাজধানী কুয়ালালামপুরের কাছের একটি মসজিদে ধর্মীয় সমাবেশে অংশগ্রহণকারী মুসল্লি।
ভারতে করোনার সংক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যে ভাচ্যুয়াললি বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ছয় সদস্যের একটি বিচারিক বেঞ্চের প্রধান ডিওয়াই চন্দ্রচাদ বলেছেন, বিচারিক আদালতের ক্ষেত্রে এটি বেশ কঠিন কাজ হবে। কারণ এই আদালতে চ্যালেঞ্জ আছে। তবে সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন পরিস্থিতিতে আদালত বসা উচিত নয়। তিনি বলেন, ভারতের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে হাইকোর্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আমরা প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পরবর্তী পদক্ষেপ হবে ডিজিটাল এবং ভার্চুয়াল কোট পরিচালনা করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ