ঢাকা, শুক্রবার 20 March 2020, ৬ চৈত্র ১৪২৬, ২৪ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনের পর্যটন এলাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

খুলনা অফিস : করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সুন্দরবনের সব পর্যটন এলাকা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে পর্যটন এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান জানান, বন অধিদপ্তরের আওতাধীন সুন্দরবনসহ বন বিভাগের সব ইকোটুরিজম স্পটে করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

অপরদিকে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বঐতিহ্য বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ ও আশপাশের সব পর্যটন এলাকায় দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সকালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাগেরহাট প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান গোলাম ফেরদাউস এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে ষাটগম্বুজে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

দুপুরে কাস্টোডিয়ান গোলাম ফেরদাউস বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সকাল থেকে ষাটগম্বুজসহ আশপাশের পর্যটন এলাকায় দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে।

এর আগে বুধবার পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সব পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

২৫৪৬ প্রবাসী খুলনায়, হোম কোয়ারেনটাইনে মাত্র ৩০!

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই গত দুই সপ্তাহে ২ হাজার ৫৪৬ জন প্রবাসী খুলনায় ফিরেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৩০ জনকে হোম কোয়ারেনটাইনে (সন্দেহভাজনদের পৃথক করে রাখা) থাকার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মাঠ পর্যায়ে তথ্য না থাকায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসীকে এখনো সনাক্ত করা যায়নি। ফলে প্রবাসীদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে খুলনায় স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকাভুক্ত ৩০ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেনটাইনে থাকার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না অনেকেই। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতার তোয়াক্কা না করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন লোকালয়ে। এতে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

জানা যায়, খুলনায় গত ১ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত চীন, ইতালি, ভারত, সিঙ্গাপুর, ওমান, সৌদী আরব ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ২ হাজার ৫৪৬ জন প্রবাসী। বিদেশ থেকে যারা এসেছেন তাদের বেশিরভাগ ভারত থেকে ফিরেছেন। ইমিগ্রেশনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা চলে গেছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। তাদের অনেকেই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন পরিবার-পরিজন ও বন্ধু বান্ধবদের সাথে।

এদিকে খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ জানান, মূলত ৬ মার্চের পর থেকে প্রবাসীদের যারা খুলনায় ফিরেছেন তাদেরকে হোম কোয়ারেনটাইনে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহ ও তাদেরকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের হোম কোয়ারেনটাইনে রাখতে প্রশাসনকে ভূমিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ পর্যবেক্ষণে থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা দিবে।

এদিকে বিদেশির পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝেও সন্দেহজনক করোনার লক্ষণ জ্বর-সর্দি কাশি দেখা যাচ্ছে। খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের সুইপার বস্তিতে জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত স্থানীয় যুবককে হাসপাতালে নেয়া হলে সে করোনা আক্রান্ত বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওই যুবক চট্টগ্রাম বন্দরের মালামাল পরিবহনের কাজ করতেন। সেখান থেকেই জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেছে। এ ধরনের সন্দেহভাজনদের হোম কোয়ারেনটাইনে রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে খুলনায় হোম কোয়ারেনটাইন জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। তিনি বলেন, বিদেশে ফেরত ব্যক্তিদের কার্যকর হোম কোয়ারেনটাইন নিশ্চিত করতে না পারলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। তিনি বলেন, কোয়ারেনটাইনের নিদের্শনাপ্রাপ্ত ব্যক্তি জনবহুল স্থানে বিচরণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাড়িতে কোয়ারেনটাইনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে সরকারিভাবে স্থাপিত কোয়ারেনটাইন স্থাপনায় আশ্রয় নিতে হবে। সকল ব্যবস্থার সঠিক প্রতিপালন নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। হোম কোয়ারেনটাইন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রতিপালনের বিষয়টি প্রতিদিন দুইবার করে পর্যবেক্ষণ করবে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ