ঢাকা, সোমবার 23 March 2020, ৯ চৈত্র ১৪২৬, ২৭ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা নিহত ১৫

স্বজনদের আহাজারি

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও লোহাগাড়া সংবাদদাতা : গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য তথা চুনতি বন রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছে। কক্সবাজার থেকে আসা একটি দ্রুতগামী লবণ বোঝাই ট্রাক ও একটি যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মর্মান্তিক ও ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়রা বলছে, লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য তথা চুনতি বন রেঞ্জ কার্যালয়ের নিকটস্থ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ১২ জন যাত্রী। হাসপাতালে ৩জন মারা যান।
যাদেও পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন- চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের কোরবানিয়া ঘোনার আব্বাস উদ্দিনের পুত্র জসীম উদ্দিন (৩৩) ও তাওরাফ হোসেন বেলাল (১৮)। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীর কালামিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বাদশা (৩৮), চকরিয়ার উত্তর হারবাংয়ের মৃত আমির হোছেনের পুত্র আবদুস সালাম (৭০), লোহাগাড়ার চুনতি মীরখিলের আবদুর রশিদের পুত্র সিরাজুল ইসলাম (৪০), বড়হাতিয়ার কুমিরাঘোনার আবদুল মাবুদের পুত্র মোহাম্মদ রুবেল (২০), লোহারদিঘির জাফর আহমদের পুত্র জহির উদ্দিন (২৮), উত্তর কলাউজানের আবুল হোছনের পুত্র মোহাম্মদ এনাম (৪৪), অজ্ঞাত আবদুর রশিদ (৫০), লেগুনা চালক চকরিয়ার মৃত ছৈয়দ আহমদের পুত্র ফরহাদ উদ্দিন (১৮) ও হেলপার খুটাখালী গর্জনীয়া পাহাড় এলাকার নূর মোহাম্মদের পুত্র মোহাম্মদ সুমন (১৫)। নবী হোছাইন (৪০)।সাইফুল ইসলাম (৩০)।নিহতরা সবাই লেগুনার যাত্রী।
 পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোহাগাড়া থেকে যাত্রীবোঝাই করে চকরিয়া যাচ্ছিল লেগুনা পরিবহনের গাড়িটি।   ওই গাড়িতে যাত্রী ছিল অন্তত ১৭ জন। যাত্রীবোঝাই লেগুনা মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া ঢালার কাছে পৌঁছতেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা লবণবোঝাই ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৩৯৪৮) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ১২ যাত্রী।
 লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পর গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এর মধ্যে একজন পথে মারা যায়। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদেরকে প্রেরণ করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
 লোহাগাড়া থানার ওসি জাকির হোসাইন মাহমুদ বলেন, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ১২ জন এবং অপর একজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই থানা, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। এরপর আহতদের প্রেরণ করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
  দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি মো. ইয়াছির আরাফাত জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কের বাঁকের কারণে। দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কের দুই পাশে আহত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। পরে দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ির ভেতর থেকে হতাহতদের একে একে বের করে আনা হয়। এরপর ক্রেন দিয়ে গাড়ি দুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তিনি আরো জানান, কক্সবাজার ছেড়ে আসা লবণবোঝাই ট্রাকের চালক দুর্ঘটনার পর পরই পালিয়ে যায়। জব্দ করা হয় ট্রাক ও লেগুনা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
 লোহাগাড়ার চুনতিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হওয়ায় জেলা জামায়াতের শোক--চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ট্রাক-হিউম্যান হলার এর মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হন। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমীর জনাব জাফর সাদেক ও সেক্রেটারী ড. হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান।নেতৃবৃন্দ শোক লিপিতে বলেন, আমরা তাদের মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফেরাত কামনা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ