ঢাকা, মঙ্গলবার 24 March 2020, ১০ চৈত্র ১৪২৬, ২৮ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তদের ২০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৪৪

২৩ মার্চ, সিএনএন : যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের ২০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। এক মার্কিন গবেষণা প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে সম্প্রচারমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫০০ আক্রান্তকে নিয়ে সে দেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। বয়সভিত্তিক ওই গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়স্কদের তুলনায় তরুণরা ভালো অবস্থায় থাকলেও তারাও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয়।

ওই গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, তরুণদেরও একটা বড় অংশ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে ১৯ বছরের কম বয়সী কাউকে আইসিইউতে ভর্তি করাতে হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে ৮৫ বছর এবং এর থেকে বেশি বয়সী মানুষদের মধ্যে মৃত্যুহার সবথেকে বেশি। তাদের মৃত্যুহার ১০ থেকে ২৭ শতাংশ। ৬৫ থেকে ৮৪ বছর পর্যন্ত মৃত্যুহার ৩ থেকে ১১ শতাংশ। ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার ১ থেকে ৩ শতাংশ। ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার ১ শতাংশ কিংবা তার চেয়ে কম। ১৯ বছরের নিচে কারও মৃত্যু হয়নি। 

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে করোনায় আক্রান্ত শিশু

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ১২ বছর বয়সী এক শিশু। এমা নামের ওই শিশুটি এখন আটলান্টায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার চাচাতো ভাই অ্যান্থনি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন,  এমা সম্প্রতি কোথাও ঘুরতে যায়নি। কিভাবে সে এ ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছে তা জানা যায়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং নাজুক স্বাস্থ্যের অধিকারীরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে থাকেন শিশুরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত কিংবা অন্যের শরীরে এ ভাইরাস ছড়াতে ভূমিকা রাখলেও তাদের অসুস্থতার মাত্রা খুব বেশি হয় না।  তবে এমার ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য-সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।

‘সবাই বলছিলো, কম বয়সী মানুষদের ওপর এ ভাইরাস প্রভাব ফেলে না। কিন্তু এখন ১২ বছর বয়সী এক শিশু তার জীবন বাঁচাতে লড়াই করছে। লোকজনের উচিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা। শিশুদের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। এ ভাইরাসটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’ বলেন হাসপাতালে চিকিৎসারত এমার চাচাতো ভাই অ্যান্থনি।

চিলড্রেন’স হেলথকেয়ার অব আটলান্টা-স্কটিশ রাইট হসপিটাল নিশ্চিত করেছে তাদের এক রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা। হাসপাতালটির মুখপাত্র জেসিকা পোপ বলেন, ‘ওই রোগীকে বিচ্ছিন্ন করে (আইসোলেশন) রাখা হয়েছে এবং আমরা যথাযথভাবে পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম।’

গত ১৫ মার্চ এমার নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। গত শুক্রবার রাতে তার শরীরে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসে। শনিবার হাসপাতালে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। অ্যান্থনি জানান, বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল আছে। দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যান্থনি জানান, এমার মায়ের অনুমতি নিয়েই তিনি এসব কথা বলছেন। তিনি চান, করোনাভাইরাসের গুরুতর অবস্থা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে। ‘শুরুতেই আমি বুঝে গিয়েছি এটি (করোনা) কতটা বিপজ্জ্জনক।‘ বলেন তিনি। 

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ৬০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪৫৭ জনের। গত রবিবার জর্জিয়াতে ৫০০’রও বেশি করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ২০ জন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ