ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 April 2020, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

করোনাভাইরাসের পরীক্ষা বঞ্চিত লক্ষ লক্ষ মানুষ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: গত দুই মাসে প্রায় ৭ লাখ প্রবাসী দেশে ফিরেছেন।তারা নিজ নিজ এলাকায় কথিত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটা হয়নি।মুষ্টিমেয় কয়েকজন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও বেশিরভাগ মানুষই ঘুরে বেরিয়েছেন ও গা ঢাকা দিয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ কোথায় আছে, প্রশাসন জানে না।অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস বারবার বলছেন, নির্বিচারে পরীক্ষা করতে হবে।আক্রান্তদের আলাদা করে ফেলতে হবে।কিন্তু বাংলাদেশে সেটি পালন করা হয়নি।একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রেখে যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত না হয়েই হোম কোয়ারেন্টাইনের নামে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।এদের মধ্যে কতজন আক্রান্ত তারও কোনো হিসাব নেই।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, দেশের মধ্যে এটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মফস্সল শহরগুলোতে পরীক্ষাই হচ্ছে না। ফলে কেউ আক্রান্ত হলে সে অবস্থায়ই ঘুরে বেড়াচ্ছে।অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, সারাদেশের হাসপাতালগুলোকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় ঢাকার আইইডিসিআর'র দিকে।এমনকি বিভাগীয় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোতেও এই ভাইরাস পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি।যার কারণে গতকাল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক নারী বিনা পরীক্ষাতেই মারা গেছেন।বিষয়টি নিয়ে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।কারণ, কে করোনা রোগী আর কে নয় তা তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না।

 

 মফস্সল শহরে করোনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থাই নেই। হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সক, নার্সসহ সহকারীরা চরম আতঙ্কে চিকিত্সা সেবা দিচ্ছেন। অধিকাংশ হাসপাতালে জ্বর নিয়ে গেলে দেখছেনই না চিকিৎসকরা। তারা সরাসরি আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন।অথচ আইইডিসিআরের হটলাইটে বারবার চেষ্টা করেও ফোনে ঢোকা যাচ্ছে না। কেউ সরাসরি সেখানে গেলেও ঢুকতে দিচ্ছে না। ফলে মানুষ কীভাবে পরীক্ষা করবে, তারা করোনায় আক্রান্ত কি না, সে উপায় খুঁজে পাচ্ছে না।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, সেটা মাত্র মোট ৭৯৪ জন মানুষকে পরীক্ষার ফলাফল।কারণ আইইডিসিআর এ পর্যন্ত মোট ৭৯৪  মানুষের পরীক্ষা করেছে। তার মধ্যেই আক্রান্ত ধরা পড়েছে ৩৯ জন। আর মারা গেছে ৫ জন। এর বাইরে বিপুল সংখ্যক প্রবাস ফেরত ও তাদের সংস্পর্শে আশা মানুষের প্রকৃত অবস্থা কী তা জানার উপায় নেই।কারণ তাদেরকে পরীক্ষা করা হয়নি।অথচ বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এখনই যদি নির্বিচারে পরীক্ষা করে আক্রান্তদের পৃথক না করা যায় তাহলে আমাদের পরিস্থিতি ইতালির চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।কিন্তু সেটাও আর সম্ভব নয়।কারণ পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।ইতোমধ্যে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ছুটি দেওয়ায় স্রোতের মতো মানুষ গ্রামে চলে গেছে। এর মধ্যে কার করোনা আছে, আর কার নেই, তা-ও বোঝার সুযোগ নেই। ট্রেন, বাস, লঞ্চের ওপরে-নিচে শুধু মানুষ আর মানুষ।এদের মধ্যে যদি এক জনও আক্রান্ত থাকেন তাহলে হাজার হাজার মানুষের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। 

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নোয়াখালীর এক কিশোর আইইডিসিআরের সামনে দাঁড়িয়ে জানায়, কয়েক দিন আগে সৌদি আরব থেকে তার এক আত্মীয় দেশে এসেছেন। তার সঙ্গে তিনি মেলামেশাও করেছেন।গত দুই দিন হলো তিনি জ্বর, কাশি আর শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। স্থানীয় হাসপাতালে গেলে চিকিত্সকরা আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন। নিজে এখানে এসেও ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। কীভাবে পরীক্ষা করাবেন, তা-ও বুঝতে পারছেন না।

মিরপুরের টোলারবাগের এক বাসিন্দা টেলিফোনে ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমার পরিবারের এক জন জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। আমি টানা কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও আইইডিসিআরের হটলাইনে ঢুকতে পারিনি। একদিন পর টেলিফোন সংযোগ পাওয়ার পর সেখান থেকে এক জন সবকিছু শোনার পর বললেন, যেহেতু পরিবারের কেউ বিদেশ থেকে আসেনি, তাই তাদের এই পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। অথচ হাসপাতালে গেলে ভর্তি করছে না। এই পরিস্থিতিতে আমরা কী করব? সরকারি হাসপাতালেও সাধারণ রোগের চিকিত্সা সেবা মিলছে না।’

সংসদীয় কমিটিতে ক্ষোভ:স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির গতকালের বৈঠকে কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুর করিম সেলিম স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের উদ্দেশ্যে বলেন, গত চার মাসে আপনারা চিকিত্সকদের সরঞ্জাম ও কিট আনতে পারেননি। তাহলে আপনারা এতদিন করেছেন কী? অযথাই কথা বলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছেন। বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ সংসদ সদস্যই করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তথ্য সূত্র:দৈনিক ইত্তেফাক

ডিএস/এএইচ

 

 

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ