ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 March 2020, ১২ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

অচেনা নগরীতে রূপ নিয়েছে সিলেট 

সিলেট ব্যুরো : করোনাভাইরাসে কাঁপছে বিশ্ব। বাদ যায়নি বাংলাদেশও। এখন পর্যন্ত দেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসে। আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন কয়েক হাজার প্রবাসী ও তাদের স্বজনরা। সর্বত্রই ‘করোনা’ উদ্বেগ। করোনার উদ্বেগ থেকে বাদ যায়নি সিলেট। করোনা ভাইরাস উদ্বেগে প্রতিদিন ঝিমিয়ে পরছে সিলেট নগরী। গত সোমবার থেকে বিপনী বিতান ও অনেক রেষ্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোলাহলপূর্ণ ব্যস্ত নগরী এখন নিরব, নিস্তুব্ধ। ব্যস্ত সড়ক কোলাহলমুক্ত ফাঁকা। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরুচ্ছেন না কেউই। অচেনা নগরীতে রূপ নিয়েছে সিলেট। এ যেন স্বেচ্ছায় লকডাউনে যাচ্ছেন নগরবাসী।  সরেজমিনে সিলেট নগরী ঘুরে দেখা যায়, ক্রমবর্ধমান ভাইরাসের উদ্বেগের কারণে ইতোমধ্যে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া এবং জনসমাগম স্থানগুলো এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেয়ার কারণেও রাস্তাগুলো ফাঁকা হচ্ছে ক্রমশ। গতকাল বুধবার সিলেটের ব্যস্ততম সড়কে মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই অল্প, গাড়িও ছিল হাতে গোনা। অফিস ও আদালত পাড়া ছিল অনেকটাই ফাঁকা। আদালতের কর্ম সীমিত করে আনার কারণে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ আদালতে আসছেন না। যারাই এসেছেন তাদের অনেককেই দেখা গেছে সুরক্ষা মাস্ক ব্যবহার করতে। এদিকে সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে দর্শনার্থী প্রবেশে সীমাবদ্ধতা করার কারণে হাসপাতালগুলো অনেকইটাই দর্শনার্থী শূণ্য ছিল। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রবেশ পথে আনসার সদস্যরা শুধুমাত্র রোগী ও রোগীর সাথে একজন অভিভাবককে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। অহেতুক কাউকে হাসপাতাল চত্বরে জটলা বাঁধতে দিচ্ছে না আনসার সদস্যরা। সেই একই দৃশ্য নগরীর অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে। ব্যাংক, বীমা অফিসগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করে গ্রাহকদের অফিসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ব্যাংকে না আসতে এবং এটিএম কার্ড ও অনলাইনে সেবা গ্রহন করতে গ্রাহকদের পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। অনেকেই ঘরের বাইরে না যাওয়ায় দীর্ঘ সড়ক নিরব, ফাঁকা। প্রায় জনশূন্য। ভিড় নেই কদমতলি বাসস্ট্যান্ড, কুমারগাঁও বাসস্টেন্ড, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, বারুতখানা, আম্বরখানাসহ বিভিন্ন ব্যস্ততম রাস্তা। সড়কে ঢিমেতালে দায়িত্ব পালন করছে ট্রাফিক পুলিশরা। নগরীতে মাইক লাগিয় করোনা ভাইরাসে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতামূলক তথ্য প্রচার করা হচ্ছে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে।

এদিকে সোমবার সকাল থেকে নগরীর বিপনী বিতান ও কয়েকটি খাবার রেষ্টুরেন্ট বন্ধ করে দেয়ায় নগরীর আরো ফাঁকা হয়ে যায়। অনেকটা অলস সময় পার করতে দেখা গেছে নগরীর বিভিন্ন সিএনজি ও রিক্সা চালকদের। স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রিদের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে চালকদের। সিলেটের জেলা প্রাশসক কাজী এমদাদুল ইসলাম জানান, সিলেটের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সর্তক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে আমরা বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে পর্যটক স্পটগুলোতে পর্যটক আসতে নিরুৎসাহীত করা হয়েছে। রেষ্টুরেন্ট বন্ধের ব্যাপারে তিনি বলেন, রেষ্টুরেন্ট বন্ধ না করে প্যাকেট আকারে ক্রেতাদের সেবা দেয়া যায়। রেষ্টুরেন্ট মালিকরা তা বন্ধ না করে এ প্রন্থা অবলম্বন করতে পারতেন। তিনি আরো বলেন, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কারো বাসা থেকে বের না হওয়া ভাল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ