ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 March 2020, ১২ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

কেসিসির ১৪৪টি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না

খুলনা অফিস : প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা মহানগরীর খালিশপুরসহ তিনটি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। করোনা ভাইরাসসহ ছয়টি কারণ দেখিয়ে ঠিকাদারী ফার্ম আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর জন্য চিঠি দিয়েছে। সঠিক তদারকির অভাবে ঠিকাদাররা ধীরে চলো নীতিতে কাজ করছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মওসুমে নগরবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ)’এর প্রকল্প আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নগরীতে এ চারটি সড়ক ও ড্রেন সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এ তিনটি প্রকল্পসহ নগরীতে চলামান ১৪৪টি প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা করছেন ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা। ১৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এ প্রকল্পের কাজে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে শ্রমিক সঙ্কট, কাঁচামালের সঙ্কটসহ নানা কারণ ঠিকাদাররা উল্লেখ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় কাজে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে ঠিকাদাররা আশঙ্কা করছেন।

নগরীর কেডিএ এভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সড়ক সংস্কার ও ড্রেন পুনঃনির্মাণের জন্য ৩৬ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (বিএমডিএফ) মাধ্যমে এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। 

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ৫টি সড়ক মেরামতে ৩৬ কোটি টাকা ছাড় দেয় সংস্থাটি। কেসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান জানান, দু’টি প্যাকেজের আওতায় এসব কাজ চলছে। একটি প্যাকেজে মহেশ্বরপাশা মেইন রোড, খালিশপুর ১৮ নম্বর সড়ক ও চরেরহাট মেইন রোড সংস্কার ও সেখানকার ড্রেনগুলো পুনঃনির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কগুলোর ফুটপাতও ঠিক করা হবে। এই প্যাকেজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় কেডিএ এভিনিউ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবু আহমেদ সড়ক সংস্কার ও ড্রেন পুনঃনির্মাণ করা হবে। এতে খরচ হবে ১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ তিনটি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সড়ক তিনটি হলো খালিশপুর চরেরহাট মেইন সড়ক, খালিশপুর ১৮নং লাল হাসপাতাল সড়ক ও মহেশ্বরপাশা মেইন সড়ক। জুলাই মাসের প্রথম দিকে কাজ শুরু হয়েছে। শেষ করতে হবে ৩০ মার্চের মধ্যে। খালিশপুর চরেরহাট মেইন সড়কের দৈর্ঘ্য সোয়া এক কিলোমিটার। গত ২১ জুলাই এ সড়কের কাজ শুরু হয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে দু’কোটি ৭৫ লাখ টাকা। মহেশ্বরপাশা মেইন সড়কের দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার। ইতোমধ্যে মাত্র ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। লাল হাসপাতাল সড়কের (১৮নং রোড) দৈর্ঘ্য ১৩৫০ মিটার। ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৪০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সড়কের প্রস্থ ৬০ ফুট। দু’পাশে ড্রেনসহ ফুটপাত হবে। যার চওড়া হবে পাঁচ ফুট। ড্রেনের গভীরতা এক মিটার থেকে দেড় মিটার। সড়কে কার্পেটিং করা হবে। এ সড়কের ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে।

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. লিয়াকত আলী খান জানান, মার্চ ৩০ তারিখের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। ঠিকাদার ফার্ম গত ১৬ মার্চ কাজের সময় আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে। তাদের পক্ষ থেকে ওই আবেদন অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ানোর ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা ঢাকা থেকে আসেনি। তিনি আরও বলেন, শুধু ৩১নং ওয়ার্ডে ৩৩টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। এখনও পর্যন্ত কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ কাজগুলো বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারী ফার্ম মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ। ফার্মের স্বত্বাধিকারী তসলিম আহমেদ আশা বলেন, চরেরহাট, খালিশপুর ও মহেশ্বরপাশা সড়কের ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের গড়ে ২৭ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ছয়টি কারণে শেষ হচ্ছে না। এ কারণগুলো উল্লেখ করে সময় বাড়াতে আবেদন করা হয়েছে। তবে আবেদনের এখনও কোনো সুরাহা হয়নি। কারণগুলো হচ্ছে- করোনা ভাইরাস, বর্ষা মওসুমে কাজ শুরু, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সীমানা জটিলতা, উচ্চ ভবনের র‌্যাম ভাঙা ও কাজ চলাকালীন একাধিক শৈত্য-প্রবাহ।

এদিকে কেসিসি পরিচালিত খালিশপুর পৌর সুপার (কিচেন) মার্কেটটি নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলার সকল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন করে মার্কেট করার জন্য গত ১৮ এপ্রিল টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নতুন মার্কেট নির্মাণ কাজ চলমান। প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ মার্কেটটি নতুন করে করছে সিটি কর্পোরেশন। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৩০ মার্চ মার্কেট নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। কাজটি করছে ঠিকাদারী ফার্ম সোমা ইঞ্জিনিয়ারিং। বিএমডিএফ স্থানীয় পর্যায়ে কাজের সার্বিক সহযোগিতা করছে। মার্কেট নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করছে বিশ্ব ব্যাংক। বেজম্যান্টসহ চারতলা ফাউন্ডেশনের মার্কেটটি করা হবে সেমিব্যাজমেন্টসহ একতলা। কেসিসি পৌর সুপার মার্কেটের জায়গায় কেসিসি পৌর কিচেন মার্কেট প্রকল্প লেখা হয়েছে। একই সাথে তারা মার্কেট নির্মাণের জন্য ১১ কোটি টাকা ছাড় করার অনুমোদন দেয়। সে মতে, এ মার্কেট (আংশিক) নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সাক্ষর হয়। চুক্তি মতে কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪২ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কেডিএ এভিনিউ সড়ক ও ড্রেনের কাজ প্রায় ৩৫ ভাগ শেষ হয়েছে। যা নিয়ম অনুযায়ী খুবই কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।

পৌর সুপার মার্কেটের দোকানদার মেহেদী হাসান জানান, গত ১৫ দিন ধরে ৪/৫ জন শ্রমিক নিয়ে ঠিকাদার টুকটুক করে কাজ করছে। গত তিন দিন ধরে ধরে কাজ পুরো বন্ধ রয়েছে। আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে মার্কেট নির্মাণ শুরু হলেও সে কাজের কোনো গতি নেই। এ কাজের জন্য কেসিসির প্রকৌশলীদের তদারকি বাড়ানোর জোর দাবি জানান এ ব্যবসায়ী।

ফার্মের ঠিকাদার তাহিদুল ইসলাম ঝন্টু বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ইতোমধ্যে পৌর সুপার মার্কেট কাজ ৫০ ভাগ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন করা হয়। সে মতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করেছেন। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া পাথর আমদানি করা যাচ্ছে না। তারপরও টুকটাক কাজ চলছে। এতে করে কাজের গতি কমে গেছে।

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান জানান, করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেও মার্কেট নির্মাণ কাজ চলছে। তবে আতঙ্কের কারণে ঠিকাদার শ্রমিক পাচ্ছে না। এ জন্য কাজ ধীর গতিতে চলছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ মার্চ শেষ হচ্ছে। তার আগেই ঠিকাদার সময় বাড়াতে আবেদন করেছে।

কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. এজাজ মোর্শেদ খান বলেন, কেসিসির অধীনে বর্তমানে ১৪৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ১৮৪ কোটি টাকা উন্নয়নমূলক কাজ চলমান। করনাভাইরাসসহ নানা সঙ্কটের কারণে প্রকল্পের কাজ ধীর গতিতে চলছে। এসব প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। এছাড়া বিএমডিএ’র অর্থায়নে তিনটি প্রকল্পের কাজের সময় আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। আগামী ৩০ মার্চ এ প্রকল্প তিনটির সময় শেষ হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ