ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 March 2020, ১২ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

দেশে মৃতের সংখ্যা ৫, নতুন আক্রান্ত নেই

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে নভেল করোনা ভাইরাসে আরও একজন মারা গেছেন। ফলে দেশে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। অন্যদিকে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি, তাই আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯-ই আছে। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও দু’জন। সবমিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন সাতজন। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এদিকে রাজশাহীতে জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ জেলায় আরও ১৪০০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে আরও ৮২ জনের। এদের মধ্যে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। ফলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৯-ই থাকলো। তবে আগে থেকে যারা আক্রান্ত ছিলেন, তাদের মধ্যে একজন গতকাল বুধবার সকালে মারা গেছেন। তার বয়স ৬৪ বছর। তিনি উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। বিদেশফেরত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে থেকে গত ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ২১ মার্চ তাকে রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে করোনা নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন এমন ৪৭ জন আছেন আইসোলেশনে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৭ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরও দুজন। সব মিলিয়ে করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন মোট সাতজন। ব্রিফিংয়ে করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে নাগরিকদের করণীয়ও তুলে ধরেন তিনি।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাসটি। এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সোয়া চার লাখ এবং মারা গেছেন প্রায় ১৯ হাজার মানুষ। অপরদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ নয় হাজার ১৪৩ জন। বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন পাঁচজন।
করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আদালতও। এমনকি একাধিক এলাকাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দেশের সব জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।
হটলাইনের দু’টি নম্বরে কল করুন: করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে বিচ্ছিন্নভাবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ না করে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর হটলাইনে যোগাযোগ করতে বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মিরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এখেন থেকে হটলাইনের দুইটি নম্বরে যোগাযোগ করলে সবসময় পাওয়া যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। নম্বর দু’টি হলো ০১৯৪৪৩৩৩২২২ ও ১০৬৫৫। তিনি বলেন, আইইডিসিআরের ১৭টি হটলাইন নম্বর চালু আছে। এছাড়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে কিছু নম্বরে পরামর্শ দেয়া হচ্ছিল। করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত পরামর্শ দেয়ার জন্য নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির নম্বরগুলোকে আইইডিসিআরের হটলাইনে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
ফ্লোরা বলেন, ০১৯৪৪৩৩৩২২২ ও ১০৬৫৫ এ দুটি নম্বরে যোগাযোগ করলে হান্টিংয়ের মাধ্যমে যে নম্বরটি খালি থাকবে সে নম্বরে চলে যাবে। এ ছাড়া ইমেইল এবং ফেসবুকে মেসেঞ্জারে ইনবক্স করে তথ্য জানতে পারবেন। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে যাদের নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন তাদের করা হবে। এছাড়া ১৬২৬৩ স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে অন্যান্য স্বাস্থ্যগত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। হটলাইনের নম্বরগুলোকে আরও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলা পর্যায়ে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। মিরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও সঠিক জীবন চর্চা এ রোগ প্রতিরোধ ও ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই সবাই ঘরের ভেতরে থাকুন। ঘরের বাইরে যেতে হলে সে ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।
ঢাকায় কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির মৃত্যু, ঘিওরের একটি গ্রাম লকডাউন : করোনা ভাইরাসে এক ব্যক্তির (৪৮) মৃত্যু হয়েছে, এমন সন্দেহে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার একটি গ্রাম লকডাউন (বদ্ধাবস্থা) ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে ওই গ্রাম লকডাউন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি ঢাকার একটি হাসপাতালের ক্যাশিয়ার পদে চাকরি করতেন। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে তিনি ঢাকাতেই থাকতেন। সপ্তাহখানেক আগে তিনি সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর তার কর্মস্থল থেকে তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে (বাড়িতে পৃথক থাকা) থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ঢাকার বাসায় কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে।
গতকাল ভোরে তার লাশ গ্রামে আনা হয়। এরপর বাড়ির কাছে নিজস্ব জমিতে দাফন করা হয়। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ওই বাড়িতে যান। এরপর মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর আগে তাঁর অসুস্থতার লক্ষণ শোনার পর পুরো গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আক্তার বলেন, ওই ব্যক্তি সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। তবে কী রোগে তিনি মারা গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি করোনা ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করতে পারেন, এমন সন্দেহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পুরো গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। তার জানাজায় কয়েকজন স্বজন অংশ নেন। ওই সব স্বজনের খোঁজ নিয়ে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তির মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো কিছু উল্লেখ করেনি। ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লকডাউনের শর্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৌমেন চৌধুরী বলেন, ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা পরীক্ষা করা হয়নি। এ কারণে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিভাগীয় হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হচ্ছে : ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব বিভাগীয় হাসপাতালে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। গতকাল দুপুরে করোনা ভাইরাস-সম্পর্কিত নিয়মিত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দীসহ রাজধানীর বেশ কিছু হাসপাতালে এ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে এ ব্যবস্থা রাখা হবে।
বুয়েটে দু’জন পজিটিভ, ‘লাল ভবন’ লকডাউন : বুয়েটের শিক্ষকদের কোয়ার্টার থেকে দুজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। লক্ষণ দেখে আইইডিসিআর এ পরীক্ষার পর ফলাফল পজিটিভ আশায় ‘লাল ভবন’ নামে পুরো ভবনটি লকডাউন করেছে বুয়েট প্রশাসন। বুধবার বিকেলে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদুত হাওলাদার এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ওই চকবাজার থানার এসআই বিপ্লব কুমার জানিয়েছেন, সোমবার ভবনটি লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত দুজন হলেন, বুয়েটের একজন শিক্ষকের মা ও বোন। তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তারা সম্প্রতি ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন তারা।
মওদুত হাওলাদার জানান, ভারত থেকে চিকিৎসা করে আসার পরে আক্রান্ত দুইজন নারায়ণগঞ্জে ছিলেন। সেখানে অসুস্থ হওয়ায় তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে এ দুজনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর। পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস পজিটিভ আসায় এই শিক্ষকদের পুরো ভবনটি লকডাউন করা হয়। ওই ভবনে অবস্থানকারী সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত দুইজনের শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো বলে জানিয়েছেন মওদুত হাওলাদার।
রাজশাহীতে জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু: করোনা ভাইরাস পরীক্ষার আগেই জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে এ হাসপাতালের নিবিড়ি পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারী মারা যান। ওই নারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয় কিন্তু এর আগেই তার মৃত্যু হল। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিট না থাকায় এখনো তার করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা যায়নি। এ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, এটি জ্বর-সর্দির স্বাভাবিক রোগী ছিলেন। এরপরও তার নমুনা সংগ্রহের জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কিন্তু নমুনা সংগ্রহের আগেই রোগী মারা যান। সকালে তার পরিবারের সদস্যরা লাশ নিয়ে চলে যায়।
আইসিইউর ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, এ রোগী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের স্বজনরাও বলতে পারছেন না-তিনি ভাইরাস বহনকারী কারও সংস্পর্শে গিয়েছিলেন কি না। এটা নিয়ে তারা একটু শঙ্কায় আছেন। এজন্য এই ইউনিটের দায়িত্বরত সবার সুরক্ষা পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজশাহীর কাটাখালি এলাকার ৪৬ বছর বয়সী ওই নারী গত ২০ মার্চ জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ২২ মার্চ আইসিইউতে নেয়া হয়।
সন্ধ্যার পর কার্যত ‘লকডাউন’ সিলেট : করোনা ভাইরাসে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে সিলেট। বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়াতে সিলেটকে ঝুঁকিপূর্ণের সামনের সারিতে রেখেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। এ ধরনের সিলেট আইসোলেশনে নারীর মৃত্যু ও হোক কোয়ারেন্টিনে বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় কিছুটা হলেও কপালে ভাঁজ পড়েছে এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের। আর প্রবাসীরা দেশে ফিরে অনেকে হোম কোয়ারেন্টিন না মানায় করোনা আক্রান্তের আশঙ্কা বেড়েই চলেছে। এ যাবত বিভাগজুড়ে প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের ২ হাজার ৩০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থার পরও যেখানে দোকান পাঠ বন্ধ হয়ে পড়েছে। যানবাহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সেনা বাহিনী মোতায়েন করার ফলে সিলেটের রাস্তায় লোক সমাগম কমেছে। যেখানে মানুষজনের জটলা থাকতো। সেসব স্থানে এখন কোলাহল নেই। আর সন্ধ্যার পর কেবল ওষুধপথ্য কেনা জরুরি ব্যতীত কেউ বাইরে ঘোরাফেরা করতে পারবেন না। ঘোষণা না দিলেও কার্যত ‘লকডাউন’ থাকছে সিলেট। এদিকে, সেনাবাহিনী নামার কারণে সিলেটের রাস্তাঘাটগুলো ফাঁকা লক্ষ্য করা গেছে। তবে হালকা যানবাহনে ও পায়ে হেঁটে পথচারীদের চলাচল এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজি এমদাদুল ইসলাম বলেন, লক ডাউন বুঝি না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাতে কেউ চলাচল করতে পারবে না।
১৭ জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে আরও ৩০০০ : যশোর জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডকরোনার বিস্তার রোধে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিদেশফেরত এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ১৭ জেলায় ৩০০০ মানুষকে হোম কোয়ারেন্টিন করার তথ্য জানা গেছে।
কুমিল্লা: কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৬৫৬ জন্য ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় এসেছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে কুমিল্লায় হোম কোয়ারেন্টিইনে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা দুই হাজারে ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান। তিনি বলেন, গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে কুমিল্লায় এসেছেন। এরমধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ মেনেছেন দুই হাজার ২১ জন। তারধ্যে ২১৯ হোম কোয়ারেন্টিন মেনে ১৪ দিন অতিক্রম করে শঙ্কামুক্ত হয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত কেউ করোনায় আক্রান্ত না হলেও কুমিল্লা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
নওগাঁ: নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮টি উপজেলায় নতুন করে ৩৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আর ১৪ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং করোনা সংক্রমণের লক্ষণ না থাকায় ১০টি উপজেলার মোট ৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় মোট ৯২২ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। জেলার সিভিল সার্জনের দফতরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রানীনগর উপজেলায় ১০ জন, আত্রাই উপজেলায় চার জন, বদলগাছী উপজেলায় দুই জন, পত্নীতলায় এক জন, ধামইরহাট উপজেলায় আট জন, নিয়ামতপুর উপজেলায় ছয় জন, সাপাহার উপজেলায় এক জন এবং পোরশা উপজেলায় ছয় জনসহ মোট ৩৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টিনে এসেছেন আরও ৮৬ জন প্রবাসী। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৪৯ জন। আর কোয়ারেন্টিন অবস্থা শেষ করেছেন ১০ জন। জেলার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ এসব তথ্য জানান।
বরগুনা: বরগুনা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় ২১ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এ নিয়ে কোয়ারেন্টিনের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৩৬ জনে। এছাড়াও করোনা সন্দেহে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একজন।
জয়পুরহাট: জয়পুরহাটে গত ২৪ ঘণটায় আরও ৯ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৪৭ জন এবং একজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হোম কোয়ারেন্টিনের শর্ত মেনে না চলায় ১৫ জন প্রবাসীকে আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর অতিথিশালায় রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ভারত থেকে সদ্য ফিরে আসা তিন জনকে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এসব প্রবাসী চীন, ইতালি, সৌদি, দুবাই, ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। বর্তমানে মোট ৭৮৬ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। আর ৩৪৭ জন হোম কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট এক হাজার ১৩৩ জন হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় এসেছেন। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান এসব তথ্য জানান। তবে এখনও হোম কোয়ারেন্টিনের বাইরে ৭৩০ জনের বেশি প্রবাসী রয়েছেন বলে জানান তিনি।

রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ২ হাজার
২৪ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে
রংপুর অফিস : রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে আরও ৩৯৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪ জনে।
এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলায় ১ জন আইসোলেশনে আছেন। এছাড়া গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় আমেরিকা থেকে আসা প্রবাসী দুই মা ও ছেলের শরীরে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে বলে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডাক্তার জওয়াহেরুল আনাম সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান গত ২৪ ঘণ্টায় বুধবার সকার পর্যন্ত রংপুর জেলায় ২৭, গাইবান্ধায় ২২ জন, কুড়িগ্রামে ২৪, লালমনিরহাটে ৩২, নীলফামারীতে ১৬, দিনাজপুরে ১৭৩, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪২ এবং পঞ্চগড় জেলায় ৫০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, এর মধ্যে এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা ৫৫৮ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে রংপুর বিভাগে মোট ২ হাজার ২৪ জনকে হোম কায়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল।
 সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী বিদেশ ফেরত কিংবা দেশের অন্য এলাকা থেকে আসা কোনো ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করছে প্রশাসন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে এক যুবককে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তাকে ভর্তি করা হয়। ভর্তি কৃত যুবকের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঁশবাডী গ্রামে। স্থানীয় সূত্র জানায়, নারায়গঞ্জের একটি চাইনিজ কোম্পানিতে চাকরি করতেন ওই যুবক। ৭ দিন আগে তিনি সেখান থেকে বাড়িতে আসেন। এরপর গত ৪ দিন থেকে সে অসুস্থবোধ করলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে রমেকে ভর্তি করা হয়। রংপুর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায় বলেন, জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে ওই যুবককে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রংপুর বিভাগীয়স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার আমির আহমেদ খান বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের সবাই সুস্থ আছেন। তাই আশপাশের মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বিদেশ থেকে ফিরলেই হোম কোয়ারেন্টাইনে বাধ্যতামূলকভাবে সেখানে তাঁকে অবস্থান করতে হবে।

গাজীপুর কারাগারে মালয়েশিয়া ফেরত এক ব্যক্তি কোয়ারেন্টাইনে
গাজীপুর সংবাদদাতা : মালয়েশিয়া ফেরত এক ব্যক্তিকে গাজীপুর জেলা কারাগারে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। চেক জালিয়াতির একটি মামলায় তাকে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়।
গাজীপুর জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার নেছার আহমেদ জানান, গাজীপুরের টঙ্গী (পূর্ব) থানার চেক জালিয়াতির একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক ব্যক্তিকে কারাগারের ভেতরে একটি সেলে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তিনি সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে গ্রেফতার হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে এই কারাগারে অতিরিক্ত সতর্কতা নেয়া হয়েছে। বাইরে থেকে কারাগারের ঢোকার সময় আসামিকে সাবান দিয়ে হাত-ধোয়ানো হয় এবং তাপমাত্রা মাপা হয়। কোয়ারেন্টাইনের শর্তমতে নতুন বন্দিকে ১৪ দিন আলাদা রাখা হবে। আসামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসা স্বজনদেরও একইভাবে কারাফটকে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান জানান, গাজীপুরে এ পর্যন্ত ৫৭৯ জন প্রবাসী হোম কোয়রেন্টাইনে এবং ৪৭ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ