ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 March 2020, ১২ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

মৃতের সংখ্যা ২০ হাজারের কাছাকাছি

* যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারে আক্রান্ত প্রিন্স চার্লস
* মৃত্যুতে চীনকে ছাড়িয়ে গেল স্পেন
* যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু বেড়েছে
* অস্ট্রিয়ায় আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়াল
স্টাফ রিপোর্টার: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে দুনিয়াজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজারের কাছাকাছি। গতকাল বুধবার জরিপ পর্যালোচনাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটার এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ১৪৫। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৭৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক লাখ ১১ হাজার ৯৪২ জন। বাংলাদেশ সময় রাত ৯-৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে এ সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়।
এদিকে করোনার থাবায় যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারে আক্রান্ত হয়েছেন প্রিন্স চার্লস। মৃত্যুতে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে স্পেন। সেখানে একদিনে ৭৩৮ প্রাণহানি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। অস্ট্রিয়ায় আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়াল। মালয়েশিয়ায় লকডাউনের মেয়াদ দুই সপ্তাহ বেড়েছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা চীনে। সেখানে মোট ৮১ হাজার ২১৮ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ২৮১ জনের। তবে মৃতের হিসেবে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ছয় হাজার ৮২০। আর আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ হাজার ১৭৬ জন।
মৃতের হিসাবে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার ৫৮। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৯৯১ জনের। স্পেনের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইরানে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে দুই হাজার ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে ৫৪ হাজার ৯৪১ জন। এর মধ্যে ৭৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নেতৃত্ব গঠিত হোয়াইট হাউস করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের এক কর্মীও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এরপর মাইক পেন্স ও তার পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬২ জন। এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার জন। এর মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বলেছেন, দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। সোমবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
সংস্থাটির মহাপরিদর্শক তেড্রোস আডানম গ্যব্রিয়ুস বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ থেকে ১ লাখে পৌঁছাতে ৬৭ দিন সময় লেগেছে। দ্বিতীয় এক লাখ আক্রান্ত হতে সময় লেগেছে ১১ দিন। কিন্তু তৃতীয় এক লাখ আক্রান্ত হতে সময় লেগেছে মাত্র ৪ দিন।
তেড্রোস আডানম গ্যব্রিয়ুস বলেন, আসন্ন জি-২০ সম্মেলনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের একসঙ্গে প্রতিরোধ সরঞ্জাম উৎপাদনে কাজ করার আহ্বান জানাবেন তিনি। তিনি বলেন, জি-২০ দেশগুলোর ঐক্য আমাদের প্রয়োজন। কারণ, বিশ্বের মোট জিডিপির ৮০ শতাংশ এসব দেশের। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষাকে যদি আমরা অগ্রাধিকার না দেই তাহলে অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। কেননা, যারা তাদের সেবা দিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারতেন তারাই অসুস্থ থাকবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, ২৬ মিলিয়নের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেবেন। এর আগে সংস্থাটির কর্মকর্তারা সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেছিলেন, করোনার বিস্তার মাত্র কয়েক সপ্তাহে বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে দিতে পারে।
যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারে, আক্রান্ত প্রিন্স চার্লস: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস। ২৫ মার্চ বুধবার রাজপরিবারের এক বিবৃতিতে তার আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
যুক্তরাজ্যের বর্তমান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং প্রিন্স ফিলিপ দম্পতির জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রিন্স চার্লস। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি স্কটল্যান্ডে সেল্ফ আইসোলেশনে রয়েছেন। রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রিন্স অব ওয়েলস-এর করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে। তার শরীরে এ ভাইরাসের সামান্য লক্ষণ দেখা গেছে। তবে এর বাইরে সামগ্রিকভাবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো। গত কয়েকদিন ধরে তিনি যথারীতি বাড়ি থেকে কাজ করছেন। প্রিন্স চার্লসের স্ত্রী ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামেলিয়া পার্কারেরও পরীক্ষা করা হয়েছে। তার শরীরে কোনও সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। তবে স্কটল্যান্ডের বাসায় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সেল্ফ আইসোলেশনে রয়েছেন।
মৃত্যুতে চীনকে ছাড়িয়ে গেল স্পেন, একদিনে ৭৩৮ প্রাণহানি: ইতালির পর ইউরোপের আরেক দেশ করোনা ভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ খবর বলছে, ইউরোপের স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইতালির পর মৃত্যুতে চীনকে ছাড়িয়ে গেল স্পেন। খবর আলজাজিরার। স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ বুধবার জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সাত শতাধিক মৃত্যু নিয়ে দেশ এখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৩৪ জন। গত মঙ্গলবার যা ছিল ২ হাজার ৬৯৬। এদিকে করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে মারা গেছেন ৩ হাজার ২৮১। স্পেনে এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬১০ জন।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৭৮৪, আক্রান্ত ৫৪৯১৬: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। বিশ্বের ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ইতালিতে। তারপরেই রয়েছে চীন। আর ইতালি এবং চীনের পরেই এখন সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে।
করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে নতুন করে ৩৫ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৯১৬। অপরদিকে, দেশটিতে নতুন করে মারা গেছে চারজন। ফলে এখন পর্যন্ত মোট প্রাণ হারিয়েছে ৭৮৪ জন। এছাড়া দেশটিতে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৭৯ জন।
অপরদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৮ হাজার ৮৯১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৬১৩। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৭৯ জন। এদিকে সম্প্রতি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের পর প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসের বিস্তারের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। সংস্থাটি বলছে, সেখানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়তে দেখছি। এ থেকে আশঙ্কা করা যায় যুক্তরাষ্ট্র এ ভাইরাস বিস্তারের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
অস্ট্রিয়ায় আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়াল: অস্ট্রিয়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা ৫,২৮৩ জন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২১১ জন এবং আইসিইউতে আছেন ২৪ জন। দেশটিতে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৮ জন। অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি তিরোল প্রদেশে, ১,৩৩৮ জন। রাজধানী ভিয়েনাতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭৭ জন। গত কয়েকদিনের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে অস্ট্রিয়ার সরকার জনসাধারণকে ঘরের বাইরে যাওয়ার ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সেটি আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অস্ট্রিয়ার পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। অস্ট্রিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, অযথা বাইরে দুই-তিনজন একসঙ্গে ঘোরাফেরা করার জন্য ইতোমধ্যে অনেককেই জরিমানা করা হয়েছে। অস্ট্রিয়ার সরকার একদিনে ১৫ হাজার মানুষকে করোনাভাইরাস টেস্ট করার ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে হয়তোবা সরকার করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ করার জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
মালয়েশিয়ায় লকডাউনের মেয়াদ দুই সপ্তাহ বাড়ল : মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকার প্রেক্ষিতে বুধবার তিনি এই ঘোষণা দেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দীন ইয়াসিন বুধবার জানান, দেশে নতুন করে আরও ১৭২ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯৬ জনে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এছাড়া মারা গেছেন ১৭ জন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ১৬ মার্চ দেশব্যাপী ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে মালয়েশিয়া সরকার। ওইদিন স্থানীয় সময় রাত ১০টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দীন ইয়াসিন এ ঘোষণা দেন। সেই লকডাউনের মেয়াদ ছিল ৩১ মার্চ। এবার তা বেড়ে হচ্ছে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।
করোনার কারণে দেশের অর্থনীতি যে নাজুক অবস্থার দিকে যাচ্ছে তা থেকে অর্থনীতিকে তুলে আনতে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন আগামী শুক্রবার (২৭ মার্চ) তিনি নিজে ওই প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দেবেন।
মালয়েশিয়ায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিধি-নিষেধ প্রয়োগে সেনাবাহিনীসহ ৩ হাজার রেলা মাঠে নেমেছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম এলাকা ও শহর-গ্রাম-বন্দরে চলাচলের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ একযোগে কাজ করছে। মালয়েশিয়া সরকার ঘোষিত ‘লকডাউন’ সময়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে নির্দেশনা প্রদান করেছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত এই বন্ধের আদেশের দিনগুলোতে শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নিয়োগদাতা ও মালিক পক্ষকে।
সৌদিতে কারফিউ, আরও কড়াকড়ি জারি : করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সৌদিতে সরকার ঘোষিত ২১ দিনের আংশিক কারফিউতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল ৩টা থেকে কার্যকর হবে এ কারফিউ। প্রাথমিকভাবে এ কারফিউ সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। তবে নতুন ঘোষণায় আরও ৪ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়েছে। অতএব, কারফিউ শুরু হবে বিকেল ৩টায়। কারফিউকালীন মক্কা, মদিনা ও রিয়াদে কাউকে প্রবেশ ও বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য প্রদেশে গতিবিধি সীমিত করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সৌদি প্রেস এজেন্সি এসপিএ এ সব তথ্য নিশ্চিত করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ