ঢাকা, শুক্রবার 27 March 2020, ১৩ চৈত্র ১৪২৬, ১ শাবান ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জামালপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের স্যানিটাইজার তৈরি

জামালপুর সংবাদদাতা : করোনাভাইরাস আতংকের মধ্যে জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করলেন জামালপুরের মেলান্দহের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুল হাছানের নেতৃত্বে সাতজন শিক্ষার্থী এ কাজে যুক্ত হন। সাতদিনের গবেষণায় ফলাফল অর্জনে সক্ষম হন। তাদের তৈরি স্যানিটাইজার বোতলজাত শেষে ২৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় তা বিনামূল্যে বিতরণ করেন। বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। গবেষক ড. মাহমুদুল হাছান জানান, দেশে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির উপায় ভাবনা থেকেই তাদের এই উদ্ভাবন।

বর্তমানে বাজারে স্যানিটাইজার দুষ্প্রাপ্যতা দূরীকরণ এবং সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতেই তাদের উদ্যাগের সাফল্য অর্জন করেন। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে ফিশারিজ বিভাগের সাত শিক্ষার্থীর গবেষক দল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণ করে স্যানিটাইজার তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রথমে প্রায় ৪০ বোতল স্যানিটাইজার তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। 

গবেষক দলের প্রধান ড. হাছান আরো জানান, স্যানিটাইজার তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ইথানল, অ্যালোভেরা জেল ও এসেশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা হয়। এর কাঁচামাল সংগ্রহ ও অর্থিক যোগান তিনি নিজেই দেন। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এটি বৃহৎ পরিসরে করা যাবে। স্যানিটাইজার প্রস্তুতকারী গবেষক শিক্ষার্থীরা হলেন- দিদারুল হক খান অভি, জাহিদ হাসান অনিক, সৈয়দা মার্জিয়া ইসলাম তুপ্তি, ফারজানা হায়দার স্মৃতি, বিল্লাল হাসান, শর্মিলা দে ও তুষার রায়। তারা এমন কাজে সহযোগিতা কামনা করেছেন। 

জানা যায়, গবেষক ড. মাহমুদুল হাছান ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে মাস্টার্স সম্পন্নের পর স্কলারশিপে জাপান যান। সেখানেই তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন। দেশে ফিরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হন। বর্তমানে তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক। 

গবেষণায় তিনি জাপান সরকারের অর্থায়নে মাছের জেনেটিক বিষয়ক গবেষণা প্রকল্প পরিচালানা করেছের। বাংলাদেশে তিনি ১০৭টি ব্যাঙ নিয়ে মলিকুলার পদ্ধতিতে ডিএনএ বারকুডিং এনালাইসিস করে তিনি ৮টি নতুন প্রজাতির ব্যাঙ আবিস্কারসহ ৩টির বৈজ্ঞানিক নামকরণ করেণ। এ ব্যাপারে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলান্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ড. মাহমুদুল হাছানের গবেষনা কাজ প্রশংসাযোগ্য। আশা করছি তাঁদের গবেষণার ফসল গণমানুষের উপকারে আসবে। গবেষকদের সবধরনের সয়হায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ