ঢাকা, শুক্রবার 27 March 2020, ১৩ চৈত্র ১৪২৬, ১ শাবান ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বাজার-দোকান বন্ধ ঘোষণায় খুলনা মহানগরীতে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী বেড়েছে

খুলনা অফিস : সরকারের পক্ষ থেকে দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা হয়েছে। জনসমাগমও নিষিদ্ধ। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার জন্য বলছে প্রশাসন। সকলকে নিজ গৃহে থাকার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা। তবে এ সুযোগে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা হয়েছেন সজাগ। ভ্যানযোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রয় করছেন পণ্য। যা কোনোভাবেই স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে মনে করছেন নগরবাসী।

অন্যদিকে বড় ধরনের কোনো উৎসব এলেই কিছু মওসুমী ব্যবসায়ী সজাগ হয়ে ওঠে। আবার বিশেষ কোনো বিষয়ের ওপর মানুষের চাহিদা বাড়লে ওই ব্যবসায়ীরা সজাগ হয়ে ওঠে। তার দৃষ্টান্ত বর্তমান সময়। এ সময় মানুষের চাহিদা বেড়েছে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ জীবাণুনাশকের প্রতি। এমন সুযোগকে কাজে লাগানো এবং সকলের দোরগোড়ায় সময় উপযোগী এ সরঞ্জামাদি পৌঁছে দিচ্ছে ওই মওসুমী বা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। এদের কদরও বেশ বাড়ছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কেনা এই মাস্ক কতটা নিরাপদ? কারণ হিসেবে ক্রেতারা বলছে, অনেক ক্রেতাকে দেখা গেছে, যারা খালি হাতে কয়েটি মাস্ক নিয়ে বিভিন্নভাবে উল্টে-পাল্টে দেখে আবার কেউ মুখে লাগিয়ে মানানসইটি বেছে নিচ্ছেন।

অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ তরিতরকারি ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের সুরক্ষা উপকরণ ছাড়াই ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। কেউ কেউ তাদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে অনীহা প্রকাশ করলেও বেশিরভাগ মানুষই কিনছে তাদের পণ্য। ফলে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেন বেড়েই চলেছে।

টি স্টল বন্ধ। তাতে কি হয়েছে। দোকান বন্ধ রেখে তার সামনে ছোট্ট টেবিল নিয়ে বসে পড়েছেন অনেকেই। নতুন এ ব্যবসা নিয়ে। বেচা-কেনাও বেশ হচ্ছে। কিন্তু পাইকারী মালামালের কিছুটা সঙ্কট রয়েছে বলে জানান ওই ব্যবসায়ীরা। তারা বলছে, বিক্রয় ভাল হলেও মাল বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অল্প সময় ব্যবসা করতে হচ্ছে। তবে এটিকে তারা শুধুমাত্র ব্যবসা বলতে নারাজ ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এটিও এক ধরনের সেবা এবং মানুষের উপকার করা। ক্রেতারাও হাতের নাগালে প্রয়োজনীয় এই সরঞ্জামাদি পেয়ে খুশি।

নগরীর টুটপাড়া কবরখানা মোড় এলাকার মো. সুমন হাওলাদার জানান, বড় বাজারে যাওয়া যাচ্ছে না। তবে এখন প্রত্যেকের প্রয়োজন মাস্ক বা অন্যান্য জিনিসের। ভ্যানে করে বিক্রয় করছে এইসব। আমাদেরও কোথাও যেতে হচ্ছে না। ঘরে বসেই পাচ্ছি। দাম একটু বেশি। তারপরও ঠিক আছে।

মিয়াপাড়া এলাকার মো. রাসেল জানান, ভ্যানে করে মাস্ক বিক্রয় করছি। চায়ের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার চলবে কি করে। তাই এ ব্যবসা। এটি শুধু ব্যবসা না। মানুষের সেবাও। নিজের সংসার চললো আবার মানুষের সেবা করাও হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ