ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 April 2020, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ঢাকার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারীতে সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর। করোনা উপদ্রুত বিভিন্ন দেশে যেসব স্থানে মানুষকে যেতেই হচ্ছে সেসব স্থানে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে এবং যতটা সম্ভব ময়লা-আবর্জনামুক্ত রেখে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।টোলারবাগের ময়লার গাড়িগুলো ফেলে রাখা হয়েছে। আগে দক্ষিণ টোলারবাগে আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ করতেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ইলিয়াস কাঞ্চন।তিনি জানান, তার নিজের নিরাপত্তার জন্য জিনিসপত্র না দেওয়ায় তিনি কাজে যাননি।

সরকারি অফিসসহ সব অফিস-আদালত বন্ধের ঘোষণার পরে যখন সবাই বাড়িতে অবস্থান করছেন তখন কোনো ধরনের নিরাপত্তা মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ছাড়াই সেই বাড়ি ও রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

উত্তর সিটি করপোরেশনের আরেক পরিচ্ছন্নকর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সবার ছুটি হবে, কিন্তু আমাদের কোনো ছুটি নেই। মাস্ক কেন পরেন না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গরিবের আবার মাস্ক। ময়লা পরিষ্কার করেই কূল পাই না।’ কে দিবে মাস্ক ?

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আরেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী আল আমিন জানান, করোনা ভাইরাসের এই সময়ে বর্জ্য অপসারণের কাজে তার যে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা উচিত সেটা জানতে পেরেছেন মাত্র গতকাল ২৬ মার্চ।তিনি একটি মাস্ক কিনেছেন তাও নিজের পকেটের পয়সা দিয়ে, কিন্তু গ্লাভস কেনা আর তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।এর আগে রাস্তায় ঝাড়ু দেয়ার কাজে ব্যস্ত এক নারী পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানান, তাদেরকে কোন মাস্ক দেয়া হয়নি।তিনি জানান, মাস্ক চাওয়ার পরও দেয়া হয়নি, সিটি কর্পোরেশন তাদেরকে বলেছে কিনে নিতে।

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে এবং এটির প্রতিরোধে যখন সারাদেশে ব্যাপক প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা তৈরি হচ্ছে, তখন এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন ঝুঁকিতে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা।এটি শুধু যে তাদের জন্যই একটি উদ্বেগের বিষয় তাই নয়, নগরবাসীর জন্যও উদ্বেগের বিষয়।কারণ, সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে বাসাবাড়ি, পাড়া-মহল্লা ও রাস্তাঘাটের ময়লা-আবর্জনা সরানোর কাজে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিজেরা সুরক্ষিত না থাকলে তারা যেমন করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন, তেমনি তাদের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করেন প্রায় ৪ হাজার কর্মী।আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কাজ করেন প্রায় ৫ হাজার কর্মী।কোন ধরনের সুরক্ষা ছাড়াই পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়ে এই বিপুল সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী সারা বছরই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। এখন যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি। কিন্তু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষায় এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সিটি করপোরেশন। ফলে বিশাল আয়তনের এই শহরের বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা এ বিশাল কর্মীদের সংস্পর্শে করোনাভাইরাস আরও বেশি ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে ডিএনসিসি এদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী ব্যবস্থা নিয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এস এম শফিকুর রহমান বলেন, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য আমরা মাস্ক ও গ্লাভসের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা সবাইকে এর আওতায় আনতে পারব।তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা দেশ একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষা দিতে করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।একই স্বীকারোক্তি দিলেন (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও।তিনি জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এখনো বিশেষ কোনো সুরক্ষা পোশাক দেওয়া হয়নি কিংবা জীবাণুনাশক ব্যবহারসহ তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রোধ করতে বিশেষ কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। 

অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, নিয়মিত তো সবাইকে মাস্ক দেওয়া সম্ভব না।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ