রবিবার ১৬ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের অরাজক অবস্থা টিকিট বিক্রি করছে দালাল খ্যাত কিরন

নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে চলছে অরাজক অবস্থা। এখানে টিকিট কাউন্টারে কর্মরতদের নিকট থেকে টিকিট ক্রয় করতে গেলে প্রতি টিকিটে ১০/২০ টাকা অতিরিক্ত দিতেই হবে। নতোবা আসন নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় টিকিট বিক্রেতারা। গন্তব্যে যাত্রার ১০ দিন আগে গেলেও আসন নেই, এক দিন আগে গেলেও আসন নেই! অর্থাৎ টিকিট কিনতে গেলে আসন নেই বলাই যেন সরকারী নিয়ম হয়ে পড়েছে। অথচ টিকিট প্রতি ১০/২০ টাকা বেশি দিলেই আসন নম্বরসহ টিকিট পাওয়া যায়। এছাড়া কাউন্টারে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগকৃত টিকিট মাস্টারদের আসনে দেখা যায় অবাঞ্ছিতদের। নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের অসাধু কর্মচারীদের নিয়োগকৃত দালাল কিরন মিয়াকে প্রতিনিয়তই টিকিট বিক্রি করতে দেখা যায়। রেলওয়ের নিয়োগকৃত টিকিট বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত লোকজনরা কোথায়? টিকিট বিক্রির আয় বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজস্ব খাতে যাওয়ার কথা। আর যেখানে রাজ কোষাগার, সেখানেই অবাঞ্ছিতরা। এটাকি ‘শুটকির নৌকায় বিড়াল চৌকিদাড়’ নয়কি? 

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইউএনবি’র নরসিংদী প্রতিনিধি ২০ তারিখে চট্রলা এক্সপ্রেসে কুমিল্লা যাওয়ার জন্য ৪টি টিকিট ক্রয় করতে যান। টিকিট মাস্টার সাফ জানিয়ে দেন উল্লেখিত তারিখে ট্রেনে কোন আসন খালি নেই। তিনি ফেরত আসতে চাইলে জনৈক ব্যক্তি তাকে বলেন কিছু বাড়িয়ে দেন, তবেই টিকিট পাওয়া যাবে। তখন কিছু বাড়িয়ে দেয়ার কথা বললে, টিকিট মাস্টার প্রস্তাব করেন ‘আসন সংগ্রহ করে আপনাকে সহযোগিতা করতে পারি, যদি আসন প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে দেন।’ বাধ্য হয়েই গন্তব্যে যাবার প্রয়োজনে অনেক দর কসাকসি করে ১০৫ টাকার টিকিট ১২৫ টাকায় ৪টি আসন নম্বরসহ টিকিট ক্রয় করতে হয়েছে। 

অপরদিকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এ স্টেশনে যাত্রী সাধারণের পদচারনাও বেশি। বিশেষ করে বর্তমান সরকার টঙ্গী-ভৈরব ডবল লাইন নির্মাণ করার পর রেলে যাত্রী সংখ্যা আগের চেয়ে তিনগুণ হয়ে গেছে। এ কারণে স্টেশনে প্রতি ট্রেনের জন্যই অসংখ্য যাত্রী আসে। কিন্তু স্টেশনের দাড়াবার মত জায়গা নেই। স্টেশনটিকে দেখলে মনে হয় একটি বাজার। যেখানে অসংখ্য দোকান-পাট বসেছে। আর এখানে দোকান ভাড়া দিয়ে অবৈধ অর্থ আদায় করছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। আর এ অবৈধ টাকা উঠাচ্ছে কিরন নামের এ দালাল। 

ভুক্তভোগী হাজীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সুজিত সুত্রধর অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১০ নবেম্বর) নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিনি কমলাপুর স্টেশনে যাবার একটি টিকিটের জন্য টাকা দিলে তাকে দেয়া হয় টঙ্গী স্টেশনের টিকিট। পুনরায় তিনি গিয়ে টঙ্গীর টিকিট ফেরত দিয়ে ঢাকার টিকিট চাইলে তাকে ১০ টাকা গচ্ছা দিয়ে অনেক বির্তক করে টিকিট নিতে হয়েছে। নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কিনতে আসা গন্যমান্যরাও তাদের কাছে মোয়াক্কেল বনে যায়। 

এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার (১১ নবেম্বর) নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের সাথে কথা বলতে তিনবার রেলওয়ে স্টেশনে গেলেও তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোন নম্বর চাইলে স্টেশনে কর্তৃব্যরতরা তার মুঠোফোন নম্বর জানেন না বলে জানান। এ সময় স্টেশনে টিকিট বিক্রি করতে দেখা গেছে সেই দালাল কিরনকে। কিরন বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগকৃত কোন কর্মচারী না হলেও নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে তার দাপট স্টেশন মাস্টারের চেয়ে অনেক বেশি বলে অভিযোগ করেছেন দোকানীরা। বিষয়টি বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবেন বলে আশা করছেন নরসিংদীবাসী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ