সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

কুষ্টিয়ার তিনটি রেলস্টেশন বন্ধের পথে

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : নাজুক অবস্থায় জগতি ও কুষ্টিয়া রেলস্টেশন -সংগ্রাম

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী সংবাদদাতা : কুষ্টিয়া জেলায় রেলস্টেশন আছে ১০টি। এর মধ্যে দেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতিও রয়েছে। নানাবিধ কারণে বন্ধের দ্বারপ্রান্তে কুষ্টিয়ার তিনটি রেলস্টেশন। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা জগতি ও চড়াইকোল রেলস্টেশনে। বাঁকি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনটির অবস্থা কিছুটা ভালো থাকলেও পরিবেশ ভালো নয়। ৬/৭ বছর ধরে বন্ধ আছে জগতি ও চড়াইকোল স্টেশন। আর বড়বাজার স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন থামলেও অবকাঠামোর অবস্থা মোটেও ভালো না।। জেলার অবহেলিত তিনটি স্টেশনেই সংস্কার করার পাশাপাশি সব ট্রেনের স্টপেজ দাবি করে আসছে এলাকাবাসী।
 জানা যায়, ১৮৪৪ সালে আর এম স্টিফেনসন কলকাতার হাওড়া থেকে পশ্চিমবঙ্গের কয়লাখনি সমৃদ্ধ রানীগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি গঠন করেন। এ কোম্পানি ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার রেললাইন চালু করে। এর পর ১৮৬২ সালের ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কলকাতা থেকে রানাঘাট পর্যন্ত লাইন বর্ধিত করে। ওই বছরেই কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত ৫৩ দশমিক ১১ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপন করা হয়। তখনই পূর্ববঙ্গের প্রথম স্টেশন জগতি তৈরি করা হয়েছিল। এর পর ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে জগতি থেকে বর্তমানে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট পর্যন্ত তৈরি করা হয় রেলপথ। তবে কালের আবর্তে লাভজনক জগতি ও কুষ্টিয়া স্টেশনটি এখন পরিত্যক্ত হওয়ার পথে। অফিসিয়ালি এখানে কোনো আন্তনগর ট্রেন থামে না। ট্রেনের ক্রসিং প্রয়োজন হলেই কেবল স্টেশনগুলোর প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। লোকাল ট্রেনগুলো ২/১ মিনিটের জন্য থামলেও যাত্রী নেই। অফিসে কর্মকর্তা কর্মচারীও দেখা যায় না। অবসরে যাওয়ার পর নতুন করে কোন নিয়োগ বা পদায়ন হয়নি।
কুষ্টিয়া, জগতি ও চড়াইকোল স্টেশন তিনটির ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ভবনটি ধ্বংসের পথে। জগতিতে অবৈধ দখলকারীরা পাথর এনে স্টেশনে ব্যবসা করছে। স্টেশনের নামে থাকা বিশাল আম বাগান ও পুকুর দখল করে নিয়েছে স্থানীয়রা। মাদকসেবীদের নিরাপদ স্থান এখানে। ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে স্টেশনগুলো।
সরেজমিন দেখা গেছে, কিছু যাত্রী দাঁড়িয়ে আছে ট্রেনের অপেক্ষায়। শাটল ট্রেন এখানে দুই বেলা থামে। জানা গেছে, জগতি স্টেশনটি প্রায় ৬ বছর ধরে বন্ধ। স্টেশনে একজন টিকিট মাস্টার, দু’জন সহকারী স্টেশন মাস্টার, ছয়জন পয়েন্টম্যান, দু’জন পোর্টার ও তিনজন গেটম্যানের পদ রয়েছে। এখন দু’জন গেটম্যান ছাড়া আর কেউ নেই। এর মধ্যে এক গেটম্যানের বাড়ি ঝিনাইদহে। তিনি এনজিওতে চাকরি করেন। তিনি শুধু বেতন নিতে আসেন। স্থানীয় এক যুবককে মাসিক টাকা বেতন দিয়ে গেটম্যানের কাজ করান বলেও অভিযোগ রয়েছে। চড়াইকোলেরও একই অবস্থা। তবে কুষ্টিয়া বড়স্টেশনে জিআরপি অফিস থাকায় পরিবেশ কিছুটা ভালো। এখানে সামান্য মালামালও বুকিং হয়। ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রকল মহিনী মিল বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বড়স্টেশন তার জৌলুশ হারিয়েছে।
জেলার ১০টি রেলস্টেশনের মধ্যে ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া কোর্ট ও পোড়াদহ বর্তমানে সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ। এছাড়াও খোকসা, কুমারখালী, হালসা, মিরপুর স্টেশন মোটামুটি চলছে। কুমারখালীতে ভবন নির্মানের কাজ চলছে। পোড়াদহে উন্নত অবকাঠামো নির্মান করা সময়ের দাবী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ