রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

২০২৫ সালেই ঢাকা শহরকে শতভাগ স্যুয়ারেজ কভারেজের টার্গেট ওয়াসার!

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: ঢাকা শহরকে ১০০ শতাংশ স্যুয়ারেজ কভারেজের জন্য ২০২৫ সালকে টার্গেট করেছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি এ জন্য ঢাকা শহরের চারদিকে ৫টি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (নেট ওয়ার্ক) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে দাসের কান্দি পয়:ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্প কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পাগলা পয়:শোধনাগার, উত্তরা পয়:শোধনাগার, মিরপুর পয়:শোধনাগার ও রায়ের বাজার পয়:শোধনাগার নির্মাণের প্রস্তুতিকাজ চলছে। সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান লিখিত স্থানীয় সরকার সচিব বরাবর দেয়া এক চিঠিতে এই বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে অনেক টাকার প্রয়োজন উল্লেখ করে রাজধানীতে আবাসিক ক্ষেত্রে প্রতি হাজার লিটার পানি ২০ টাকা এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ৬৫ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়। 

সূত্র মতে, ঢাকা মহানগরীর মাত্র ২০ শতাংশ এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে। ৮০ শতাংশ এলাকাতেই তা নেই। ফলে এসব এলাকার লেক, খাল ও নদীর পানি দূষিত হয়ে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। এলাকাবাসী বসবাস করছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্যুয়ারেজ পানি ও বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে যায়। এসব পানি মানুষের শরীরের লেগে নানা রকম রোগব্যাধি হচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এক প্রকল্প প্রস্তাবে এমনটি বলেছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি স্যুয়ারেজ মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে ঢাকা ওয়াসা। সূত্র বলছে, এর আওতায় রাজধানীতে পাঁচটি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (সিটিপি) তৈরি করবে ওয়াসা।

জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, ৮০ শতাংশ এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই এ তথ্যের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে এটুকু বলতে পারি, স্যুয়ারেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে রাজধানীতে পাঁচটি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে পাগলা ও দাসেরকান্দিতে দু’টির কাজ চলছে। এখন উত্তরায় একটি শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাকি দু’টি হবে মিরপুর ও রায়েরবাজারে।

স্থানীয় সরকারকে পাঠানো চিঠিতে ওয়াসা বলেছে, উত্তরা এলাকায় পয়ঃশোধনাগার নির্মাণের জন্য ১,৩৯,৮০০.০০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন উত্তরা এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এই প্রকল্প বাস্তাবায়নের লক্ষে ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণও শেষ হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে, উত্তরা ও তৎসংলগ্ন এলাকার সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বার্থে এসটিপি নির্মাণের পরিকল্পনার কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। 

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর ২০১৫ সালের ১২ নবেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক সভায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হবার কথা থাকলেও এখনো তেমন অগ্রগতি নেই। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা ছিল ঢাকা ওয়াসার।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের এক পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু হলে ঢাকা উত্তর সিটির তুরাগ থানা এলাকায় ৫৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এটিও সমাপ্তের পথে।  সূত্র জানায়, প্রকল্পটির জন্য প্রথমে টঙ্গী-মিরপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংলগ্ন তুরাগ থানার অন্তর্গত ধউর মৌজায় ২০ হেক্টর জমি নির্বাচন করা হয়েছিল। পিইসি সভার (১২ নবেম্বর ২০১৫) সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি অধিগ্রহণে প্রাক্কলন পাঠানোর জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়। তখন জেলা প্রশাসকের দফতর হতে জানানো হয়, প্রস্তাবিত জমিটি ভূমি মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিন ধারা চলছে। এ ছাড়া ভূমির মালিকরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করায় আইনি জটিলতা রয়েছে। তখন জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিকল্প প্রস্তাব পাঠানোর জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে নির্দেশনা দেয়া হয়। পরে বিকল্প স্থান হিসেবে রাজউকের সঙ্গে আলোচনা করে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জন্য চিহ্নিত অংশের পূর্ব পাশের কিছু জমিসহ প্রায় ৫৩ একর জমি সিটিপি নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়। রাজউক এর ছাড়পত্র দিলে তা জেলা প্রশাসককে জানানো হয়।

মহানগরীর ৮০ শতাংশ এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সম্প্রতি গণমাধ্যমকে স্থানীয় সরকার সচিব মো. হেলালুদ্দিন আহম্মদ বলেন, বিষয়টি এ মুহূর্তে আমার জানা নেই। ফাইল না দেখে আমি কিছুই বলতে পারব না। আপনি ওয়াসার এমডির সঙ্গে কথা বলেন। কোন এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আছে বা কোথায় কোথায় নেই সেটি প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ নেই। সংশ্লিষ্টরাও তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য দিতে পারেননি।

তবে ওয়াসার এমডির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল নাগাদ রাজধানীকে স্যুয়ারেজের আওতায় আনা হবে। এজন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। সূত্র জানায়, এই মূহুত্বে দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অনেক টাকা নেয়া হয়েছে। তাদের টাকাগুলো শোধ করা না গেলে নতুন করে প্রকল্পের জন্য টাকা নেয়া যাবেনা। তাই ওয়াসা পানির দাম শতভাগ বুদ্ধির প্রস্তাব করছে। এতে করে একই পিরমাণ অর্থ স্যুয়ারেজের জন্য দিতে হবে। ওয়াসা জানায়, দাসেরকান্দি পয়: শোধনাগার প্রকল্পের জন্য ৩৩১৭,৭৭.০০ লক্ষ টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে।  ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও খাল উন্নয়নের জন্য ৫৫০,৫০.০০ লক্ষ টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ