ঢাকা, সোমবার 28 September 2020, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

উপকূলে শুঁটকি উৎপাদনের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : উপকূলীয় জেলা ভোলায় শুঁটকি উৎপাদনের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হয়েছে জেলেদের। দক্ষিণে চরফ্যসন উপজেলার সাগর পাড়ের এলাকা কুকরী-মুকরী ও ঢালচরে গড়ে উঠছে মৌসুম ভিত্তিক শুঁটকির পল্লী। শীত মৌসুমে ইলিশের স্বল্পতা থাকায় অনেক জেলেই শুঁটকি তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছেন। গত প্রায় ৬ বছর যাবত এখানে জেলেরা বাণিজ্যিকভাবে শুঁটকি উৎপাদন করছেন। 

জেলেরা স্থানীয় নদ-নদী ও সাগর মোহনা থেকে চিংড়ি, চেউয়্যা, লউট্রা, ছুরা ও বদরছুিরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট উপায়ে রোদে শুকিয়ে শুঁটকির জন্য প্রস্তুত করেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, লক্ষীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব শুঁটকি সরবরাহ করা হয়। ঢাকা থেকে অনেকে আবার এসব শুঁটকি দেশের বাইরেও রফতানি করে থাকেন। 

জানা যায়, সাধারনত পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন এ তিন মাস শুঁটকি তৈরির মৌসুম। শীত মৌসুমে ইলিশের সংকট থাকায় অনেক জেলেই বেকার হয়ে পড়েন। এ সময় তাই বিকল্প কর্মসংস্থান হিসাবে শুঁটকি তৈরি বেছে নিয়েছেন তারা। এতে করে অভাবের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছে অনেক জেলে পরিবার। মাছ ধরার পাশাপাশি শুঁটকি অনেকেরই ভাগ্য বদল করেছে। প্রতি মৌসুমে কুকরী-মুকরী থেকে কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে বলে শুঁটকি তৈরির সাথে জড়িত জেলেরা জানিয়েছেন। 

তারা জানান, নদী থেকে মাছ ধরার পর ২/৩ দিন ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। এরপর মাঁচা তৈরি করে সেখানে আরো কিছুদিন সংরক্ষণ করতে হয়। পরে উৎকৃষ্ট মানের শুঁটকি প্রস্তুত সম্পন্ন হলে তা বিক্রির জন্য নেওয়া হয়। এ মৌসুমে প্রতি মণ শুঁটকি ১১শ’ থেকে ১৮’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই দাম ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছেন জেলেরা।

কুকরী-মুকরীর বালুর ধুম, নারকেল বাগান ও ডাকাতিয়া ঘাটের মধ্যবর্তী চরে গড়ে উঠেছে শুঁটকি পল্লী। সেখানে দেখা যায় জেলেদের কর্ম ব্যস্ততা। কেউ রোদে শুঁটকি শুকাচ্ছেন, কেউ আপনমনে পরিচর্যা করছেন। কেউ আবার মাচার ভিতর শুঁটকি প্রস্তুত করছেন। এছাড়া উপজেলার ঢালচর এলাকাতেও আরেকটি শুঁটকি পল্লী গড়ে উঠেছে।

শুঁটকির আড়ৎদার মো: কবির হোসেন বলেন, কুকরী-মুকরীতে শতাধিক জেলে বর্তমানে শুঁটকি তৈরির সাথে জড়িত। তারা শুঁটকি তৈরি করে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করেন। এ বছর পুরো মৌসুমে কুকরী থেকে এক কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হবে।

জেলে কামাল মিয়া ও রহমান আলী বলেন, তারা গত ৩বছর ধরে শুঁটকি পল্লীতে কাজ করছেন। ফলে নদীতে মাছ না থাকার সময়টাতে তারা স্বচ্ছল রয়েছেন। জেলে মো: আলাউদ্দিন সিকদার বলেন, শুঁটকি তৈরীতে কোন মুনাফার প্রয়োজন হয়না। অল্প পুজিতে বেশি লাভ। তাই শুঁটকির প্রতি ঝুঁকছেন জেলেরা। আক্তার হোসেন ও মো: শফিকুল বেপারী জানান, শুঁটকি উৎপাদনের আয়ে তাদের ভালো চলছে।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম বলেন, জেলেদের সহযোগিতার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে শুঁটকি শিল্পকে আরো প্রসারিত করা হবে। এতে করে শুঁটকির সাথে জড়িত জেলেদের আগ্রহ বাড়বে অন্যদিকে জাটকা সংরক্ষন করা যাবে। সূত্র: বাসস। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ