ঢাকা, সোমবার 28 September 2020, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

পুটিমারীতে বায়োগ্যাসের আলোয় আলোকিত ৭৫ পরিবার

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে অর্জিত সাফল্যে পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাসের আলোয় আলোকিত হলো একই ইউনিয়নের প্রত্যন্ত শ্যামপুর রেলবস্তি এলাকার পুটিমারী গ্রামের ৭৫টি পরিবার। 

ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে উৎপাদিত বায়োগ্যাস দ্বারা উৎপাদিত বিদ্যুতের আলোয় বিদ্যুৎবিহীন পুটিমারী এলাকার অন্ধকারে থাকা এসব পরিবার আলোকিত হয়ে এখন আনন্দিত। আশে পাশের প্রায় তিন কিলোমিটার প্রত্যন্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত বিদ্যুত পেঁৗঁছায়নি। রাত হলেই ঘোর অন্ধকারে কুপির মিটিমিটি আলোয় চলতো সামগ্রিক গৃহস্থালী কাজকর্ম। ছেলেমেয়েরা কুপির স্বল্প আলোতে কোনমতে পড়ালেখার কাজ চালাতো। একে তো স্বল্প আয়ের মানুষের বসবাস সেখানে আবার অবিরাম তেলের দাম বৃদ্ধিতে ছেলেমেয়েদের জন্য কুপির আলো বরাদ্দ থাকতো কম। ফলে পড়ালেখায় অনুৎসাহিত হয়ে পড়তো ছেলেমেয়েরা। 

ছেলেমেয়েদের পড়ালেখায় উৎসাহ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সরকারের নেয়া উদ্যোগে শুরু হয় স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ। ‘সাঁঝের পাঠে আলোক উৎসব’ সেøাগানকে সামনে রেখে সদর উপজেলার ৩নং চন্দনপাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান এর সার্বিক প্রচেষ্টায় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ গভর্ন্যান্স প্রজেক্ট (ইউপিজিপি) এর প্রজেক্ট এসিসটেন্ট গোলাম আজিজুল ইসলামের পরিকল্পনায় এবং সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের আন্তরিকতায় অবশেষে সেই মিটি মিটি আলো দূর হয়ে এলাকার ৭৫ পরিবার আলোকিত হলো বায়ু গ্যাসের আলোয়। 

বুধবার বিকেলে চন্দনপাট ইউনিয়নের পুটিমারী শ্যামপুর রেলবস্তিতে নির্মিত স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ গভর্ন্যান্স প্রজেক্ট (ইউপিজিপি) এবং দ্বিতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-২) এর যৌথ অর্থায়নে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করা হয়। 

উল্লেখ্য “শ্যামপুর রেলবস্তির হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান ও বিদ্যুৎবিহীন এলাকা হওয়ায় শিক্ষার মান বৃদ্ধি কল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিবেশ দূষনরোধে হতদরিদ্র পরিবারকে একটি করে গরু প্রদান পূর্বক কমিউনিটি ভিত্তিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট প্রকল্প” এর আওতায় বস্তি এলাকার ৭৫টি পরিবার এ সুবিধা ভোগ করছেন।

প্রজেক্টের আওতায় ইউপিজিপি’র দেওয়া ২ লাখ ৬৪ হাজার এবং (এলজিএসপি-২) এর ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বরাদ্দে এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে প্রকল্প থেকে দেয়া গরু এবং সুবিধাভোগিদের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগির গোবর-বিষ্ঠাসহ অন্যান্য পচনশীল বর্জ পদার্থ দিয়ে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। একইসাথে উৎপাদিত হচ্ছে বায়োস্লারি বা বায়োগ্যাস রেসিডিউ। যা উৎকৃষ্ঠ জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহারের জন্য সুবিধাভোগীদের মাঝেই বন্টন করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ