সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

পঞ্চগড়ে তেজপাতার চাষ বাড়ছে লাভ করছে কৃষকরা

বোদা: পুকুরের চারপাশে উঁচু জমিতে তেজপাতার বাগান; পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বন্দরপাড়া থেকে তোলা ছবি

বোদা (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা: পঞ্চগড়ের সমতলভূমিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে তেজপাতার বাগান। বাড়ির আশপাশে রৌদ্রোজ্জ্বল ফাঁকা জায়গা অথবা পড়ে থাকা উঁচু পতিতজমিতে সারা বছরেই লাগানো হচ্ছে তেজপাতা। চারা লাগানোর এক বছরের মধ্যেই পাতা ছেঁড়ার উপযোগী হয়ে ওঠে তেজপাতা গাছ। চাষীরা বছরের দুইবার পাতা বিক্রি করে অধিক টাকা ঘরে তুলতে সক্ষম হচ্ছেন। বর্তমানে চাষীরা খুবই আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন তেজপাতা চাষে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন জায়গায় চাষীরা তেজপাতা চাষ করছেন। তবে বোদা উপজেলায় তেজপাতা বাগানের সংখ্যা বেশি। অধিক লাভের আশায় অনেক চাষী বাণিজ্যিক আকারে নিজের জমিতে তেজপাতার বাগান করে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। অনেকে আবার আবাদি জমি উঁচু করে বা আইলে এবং পুকুরপাড়ের ফাঁকা জায়গায় তেজপাতার গাছ লাগানো শুরু করেছেন। অন্যান্য অর্থকরী ফসলের চেয়ে বেশি লাভজনক হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকছে তেজপাতা চাষে। আগে নিজের বা প্রতিবেশীদের বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্যই দু’-একটি তেজপাতা গাছ পাওয়া যেত। সম্প্রতি তেজপাতার বহুমুখী চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। তেজপাতার চাহিদা ও বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে তেজপাতার বাগান শুরু করেছেন। তেজপাতার বাগান থেকে দীর্ঘ সময়ব্যাপী পাতা সংগ্রহ ও বাড়তি পরিশ্রম ছাড়াই আর্থিকভাবে অধিক লাভ করার সুযোগে চাষিরা তেজপাতা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন। জেলায় উৎপাদিত তেজপাতার বেশির ভাগই গুঁড়া মসলা, ডাল ভাজা, বাদাম ভাজা, চানাচুর প্রস্তুতকারক কোম্পানিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ইদানীং বড় বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোও পঞ্চগড় থেকে তেজপাতা কিনছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।
পঞ্চগড় জেলার মাটিতে বালুর উপস্থিতি বেশি। এ মাটিতে পানি ধারণমতা খুবই কম। তাই নিচু জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হলেও অপোকৃত উঁচু জমি পড়ে থাকে। জেলার তেঁতুলিয়া ও সদর উপজেলার উঁচু জমিতে কয়েক বছর ধরে চা চাষ হচ্ছে। কাঁচা চা পাতার চেয়ে তেজপাতায় লাভ বেশি। চাষিরা পতিত পড়ে থাকা উঁচু জমিতে তেজপাতার বাগান করা শুরু করেছেন।। বড় আকারের একটি গাছের পাতা প্রতিবছর বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকায়। প্রতি একর জমিতে তেজপাতার চারা লাগানোর পর এক বছরেই এক লাখ ৬০ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকার পাতা বিক্রি হচ্ছে। গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে গাছের পাতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক চাষি ৮-১০ বছরের পুরনো তেজপাতা বাগান থেকে বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার পাতা বিক্রি করছেন। অধিক লাভের কারণে কৃষকেরা উঁচু পতিত জমিতে তেজপাতার বাগান করছেন। অনেকে উঁচু জমির আইলে এবং পুুকুর পাড়েও তেজপাতার বাগান করছেন।
বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের সোনাচান্দি গ্রামের তেজপাতা চাষি ফারুক হোসেন জানান, পাঁচ বছর আগে তিনি এক একর জমিতে তেজপাতার চারা লাগান। এক বছর পরই তিনি এক লাখ টাকার তেজপাতা বিক্রি করেন। পরের বছর আরো এক একর জমিতে নতুন করে তেজপাতার চারা লাগান। বর্তমানে পাঁচ একর জমিতে তেজপাতার বাগান রয়েছে। এই জমি থেকে এবার তিনি ২০ লাখ টাকার পাতা বিক্রি করেন। এক একর জমিতে অন্য আবাদ করে বছরে এত টাকা পাওয়া সম্ভব নয়। তেজপাতা বিক্রয় করার জন্য কোথাও যেতে হয় না।
স্থানীয় রফিক মাস্টারের ১০ একর জমিতে তেজপাতার বাগান রয়েছে। তিনি বলেন, আমি এখন শুধু তেজপাতার বাগান নিয়েই আছি। প্রতি বছর এই বাগান থেকে ৩৫-৪০ লাখ টাকা পাই। শুষ্ক মওসুমে পানি আর সার এবং মাঝে মধ্যে কীটনাশক স্প্রে করা ছাড়া অন্য কোনো খরচ করতে হয় না। আমার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই এখন ছোট-বড় তেজপাতার বাগান করা শুরু করেছেন। এখন সোনাচান্দি, বান্দেরপাড়, ফুলতলা, পামের ডাঙ্গাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে এমন একটি বাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে তেজপাতার গাছ নেই।
এ বিষয়ে কথা হয় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক স ম আশরাফ আলীর সাথে তিনি বলেন, বাজারে চাহিদা থাকার কারণে পঞ্চগড়ে ব্যাপকভাবে তেজপাতার বাগান গড়ে উঠছে। অনেকেই বাণিজ্যিকভাবেও তেজপাতা চাষ করেছেন। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় চাষিরা দেশী জাতের তেজপাতার চাষ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত আমরা তেজপাতা বিষয়ে কৃষককে প্রশিক্ষণ দিতে পারিনি। তবে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ