বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনার সাড়ে চারশ’ গ্রাহকের আমানতের দু’কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা

স্টাফ রিপোর্টার : ম্যাক্সিম মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি সাড়ে ৪শ’ গ্রাহকের আমানতের দু’কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। এ টাকা ফিরে পেতে গ্রাহকরা ঘুরছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে অভিযোগ দিয়েও কোন সুফল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। সমবায় নিবন্ধন বাতিল হলেও টাকা ফিরে পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন গ্রাহকরা।
গ্রাহকদের মধ্যে শওকত আলী মুন্সি বলেন, তারা সহজ সরলভাবে এ টাকা জমা রাখেন। কিন্তু সাড়ে ৪শ’ গ্রাহক আজ প্রতারণায় শিকার।
গ্রাহকদের অভিযোগ, নগরীর লোয়ার যশোর রোড শঙ্খ মার্কেটের পাশে তৃতীয় তলায় অবস্থিত ম্যাক্সিম মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। এখানে গ্রাহকদের অতি মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা জমা রাখে। এ সুযোগে ২০১১-১২ সালে বিভিন্ন মেয়াদে ১৫টি প্রকল্পে সাড়ে ৪শ’ গ্রাহক দু’কোটি ১৫ লাখ টাকা আমানত রাখে। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়। তখন থেকে গ্রাহকরা ম্যাক্সিম মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি খুলনার জোনাল ম্যানেজার কাম পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে। এ সময় মোস্তাফিজ গ্রাহকদের ধারাবাহিকভাবে আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আজও পর্যন্ত গ্রাহকরা আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখতে পাননি। এরিয়া ম্যানেজার তৌহিদুর রহমান ও খুলনার শাখার ম্যানেজার মিলন মাহমুদ গ্রাহকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পাঁচ বছর ধরে গ্রাহকরা আমানত ফেরত পেতে বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিচ্ছেন। গ্রাহক মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, তারা এ প্রতারকদের চক্রান্তের শিকার হয়ে আজ সর্বস্বান্ত। তিনি এ প্রতারকদের বিচার দাবি করেছেন।
অপর গ্রাহক মাসুদুজ্জামান বলেন, কর্মকর্তা মিলন মাহমুদ গ্রাহকের টাকা সংগ্রহ করে তার একটি অংশ মাসে মাসে নিজে পদোন্নতি লাভের আশায় পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানকে দিতেন। গ্রাহকদের এ টাকা দিয়ে খুলনায় সম্পত্তি ক্রয় করার কথা ছিল। তা না করে সে পরিচালকের সাথে যোগসাজসে পাচার করে দিয়েছে। একই কথা বলেছেন গ্রাহক ইদ্রিস আলী, গিয়াস উদ্দীনসহ আরো অনেকে।
এ ব্যাপারে খুলনা ইউনিটের এরিয়া ম্যানেজার তৌহিদুর রহমান ও ক্যাশিয়ার মিলন মাহমুদ জানান, তাদের কিছু করার নেই। এটা উচ্চ মহলের ব্যাপার। তিনি মালিক পক্ষের সাথে কথা বললে তারা টাকা নিয়ে নানা টালবাহানা করছে বলে তিনি জানান।
সমবায় সমিতি মেট্রোপলিটন থানার সমবায় অফিসার এস এম সেলিম আফসার জানান, ২০১০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ম্যাক্সিম মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির নিবন্ধন হয় (নং-৬০৬ কে)। ঠিকানা-১১ আহসান আহমেদ রোড, খুলনা সদর। এ সোসাইটির কোন কার্যক্রম না থাকা, অডিট রিপোর্ট জমা না দেওয়া, নোটিশ দেওয়ার পরও জবাব না দেওয়া, অফিসের ঠিকানায় গিয়ে তাদের অফিসের অস্তিত্ব না পাওয়ার কারণে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয় (আদেশ নং-১২৩৫, তাং-২৭,০৬,২০১৬ইং)। তবে সোসাইটির প্রতারিত সদস্যদের কাছ থেকে কোন অভিযোগ তাদের কাছে করা হয়নি বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ