বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর  প্রধান বিচারপতির ওপর হামলা

 

স্টাফ রিপোর্টর : সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা অসুস্থ ছিলেন না। তিনি (প্রধান বিচারপতি) বিদেশ যাওয়ার সময় সেটাই বলে গেছেন। তিনি অত্যন্ত দূঢ়তার সঙ্গে বলে গেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। আমরা যেটা বলেছিলাম সেটাই সত্য হলো। ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায়ের পরই বিচার বিভাগ তথা প্রধান বিচারপতির ওপর এই হামলা করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য আমরা সারা দেশের আপামর জনগণ ও আইনজীবীদের সহযোগিতা কামনা করছি। এই হামলা বিচার বিভাগের ওপর নয়, এই হামলা বাংলাদেশের সংবিধানের ওপর।

গতকাল শনিবার বেলা ১২ টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিক সম্মেলন পরিচালনা করেন বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এসময় সহ-সভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান, আয়েশা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি বলেন, আমরা বিগত কয়েকদিন ধরেই দেশবাসীকে জানিয়ে আসছি যে প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন। সত্যতা যাছাই করার জন্য আমরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে একাধিকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকারের বাধার কারণে আমরা দেখা করতে পারিনি।

জয়নুল আবেদীন বলেন, একটি রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী ও সরকারের মাননীয় মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেছেন। যা বিব্রতকর বলে প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। তিনি অসুস্থ নন, সুস্থ এবং আবারও দেশে ফিরবেন বলেও জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতিকে হয়তো তার সব বক্তব্য প্রকাশ করতে দেয়া হয়নি। হয়তো আরও কিছু বলতে চেয়েছিলেন।

জয়নুল আবেদনী বলেন, গত ৩ অক্টোবর গেটটুগেদারের আগের দিন কি ঘটেছিল, কোন প্রেক্ষিতে তাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে? তিনি সব কথা বলে যেতে না পারলেও একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট এতো দিন দৃঢ়ভাবে যা বলেছে (প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দেশ ত্যাগ করানো হচ্ছে), তা সত্য হিসেবে প্রকাশ হয়েছে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য আমরা আজ সারা দেশের আপামর জনগণ ও আইনজীবীদের সর্বত্র সহযোগিতা কামনা করছি। এই হামলা বিচার বিভাগের ওপর নয়, এই হামলা বাংলাদেশের সংবিধানের ওপর।

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞাকে আহ্বান জানিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, আপনি আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার জন্যে অত্যন্ত দৃঢ় থাকবেন, আমরা সর্বাত্মক সহায়তা করবো।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি, কাজেই রাষ্টপতিকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি-বিচার বিভাগকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করুন। 

সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তারা সাংবিধানিক পদে থেকে সংবিধান লংঘন করেছেন। তাদের সাংবিধানিক পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাদের পদত্যাগ করা উচিত।

সাবেক তিনজন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি (প্রধান বিচারপতির ছুটি ও অসুস্থতা) সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান তিনি। তা না হলে সংবিধান থাকবে না, সংবিধানের ওপর কারো আস্থা থাকবে না।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাংবাদিক সম্মেলনে সহ-সভাপতি মো. অজিউল্লাহর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সমর্থক অংশ পাল্টা বক্তব্য দিতে চাইলে উচ্চবাচ্য ও হট্টগোল শুরু হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবীদের অডিটোরিয়াম ছাড়তে বাধ্য করেন আইনজীবীরা। পরে তারা অডিটোরিয়ামের বাইরে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করে।

অজিউল্লাহ বলেন, বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটিকে ব্যবহার করছেন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, তিনি অসুস্থ নন, সুস্থ আছেন-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামীপন্থী এই আইনজীবী বলেন, যখন প্রধান বিচারপতি ছুটির জন্যে দরখাস্ত করেছেন তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। দেশে চিকিৎসার পর এখন মোটামুটি সুস্থ। সেটাই তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন।

গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ছুটির বিষয় জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদের কাছে চিঠি দেন। দীর্ঘদিন পর আদালত খোলার আগ মুহূর্তে ছুটি নেয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হলে আইনমন্ত্রী জানান, প্রধান বিচারপতি ক্যান্সারে আক্রান্ত। প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদন সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ছুটির বিষয় জানতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গেলেও তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। আরেক দফায় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলে পুলিশ মৎস্য ভবনের কাছে বাধা দেয় পুলিশ। বাধা দেয়ার প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট বার পাঁচদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বার জানায় প্রচন্ড চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার অভিযোগ করে জোর করে প্রধান বিচারপতিকে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে প্রধান বিচারপতিকে দেশ না ছাড়ার আহ্বান জানান। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ