বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গা মুসলমানবিরোধী গুপ্তচরবৃত্তিতে ভূমিকা  রাখায় উগ্রপন্থী রাখাইন ও হিন্দুদের পুরস্কার প্রদান

 

কামাল হোসেন আজাদ : আরাকানে মগ সৈন্যদের ফাঁদে পা ফেলে সফলতার বাহবা গুণছে উগ্রপন্থী রাখাইন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। আর এসব পাতানো ফাঁদে গুপ্তচরবৃত্তির মতো কাজকেই প্রাধান্য দিচ্ছে সেনারা। গুরুতর মুসলমানবিরোধী হতেই মূলত বর্মী প্রশসনের এ কৌশল।

আরাকান ও বাংলাদেশে তাদের অবস্থান সম্পর্কে যাবতীয় তথ্যাদি দিতে, লেলিয়ে দেয়া গুপ্তচরদের পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষিত করে তোলা হয়। প্রশিক্ষিত এসব গুপ্তচরদের পুরস্কারেরও ঘোষণা দেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে এ গুপ্তচরদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সফলতা খুঁজে পাওয়ায় মুসলমানবিরোধী সক্রিয় গুপ্তচরদের পুরস্কার প্রদান করছে উগ্রপন্থী রাখাইনদের ধর্মীয় গুরুরা। এসব পুরস্কারও প্রদান করা হচ্ছে মিয়ানমারভিত্তিক বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও উগ্রগোষ্ঠীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে। তারা এও আশা প্রকাশ করছে যে, এ কার্যক্রমে বহু আরাকানী সনাতনী ধর্মাবলম্বীর লোকজন প্রলুব্ধ হতে পারে। 

সূত্রে প্রকাশ, বার্মা সেনা প্রশাসনের লোভ-লালসার প্রলোভনে পড়ে রোহিঙ্গা মুসলমান কর্তৃক হিন্দুদের হত্যা বিষয়ক মিথ্যা ও বানোয়াট সাক্ষ্যদাতা হিন্দুদের পুরস্কৃত করলেন বৌদ্ধ সন্যাসীরা। মুসলমান বিদ্বেষি সমালোচিত বৌদ্ধ ভিক্ষু উইরাথু ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা শুক্রবার মংডু সফরকালে এক বৌদ্ধ বিহারে হিন্দুদের এ পুরস্কার প্রদান করেন। হিন্দুদেরকে তাদের দেয়া বিবৃতিতে অটল থাকার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র আরো জানিয়েছে, মংডুর ফকিরা বাজারে পাহাড়ের গণকবর থেকে উত্তোলিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের লাশকে হিন্দুর মরদেহ বলে প্রচার এবং হত্যার দায় মুসলমানদের উপর দিতে কতিপয় হিন্দুকে বাধ্য করে প্রশাসন। প্রাণ বাঁচাতে হিন্দুরা বর্মী সেনাবাহিনীর শিখিয়ে দেয়া বুলি মিডিয়ার সামনে বলতে বাধ্য হয়। সেসব উৎসাহী হিন্দুকেই পুরস্কৃত করেছে বৌদ্ধ সন্যাসীরা। 

আশ্বিন উইরাথু গত বুধবার আকিয়াব হয়ে মংডু যান। সেখানকার স্থানীয় রাখাইনদের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে উসকানি দেন জোরেশোরে। প্রয়োজনে রাজপথে নামার নির্দেশনাও দেন ওই সন্যাসী।

এদিকে গুপ্তচরের সহায়তায় বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হিন্দু নারীদের জামাই আদরে মংডুর সেনা সদর দপ্তরে রাখা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে বাড়ি-গাড়ি ও জমি-জমার প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানবিরোধী নানান বক্তব্য-বিবৃতি নিয়েছে। আবার সেসব বক্তব্য-বিবৃতি একচেটিয়াভাবে প্রচার করা হচ্ছে বার্মিজ গণমাধ্যমে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ