বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কিম্বার্লিতে আজ প্রথম ওয়ানডে বাংলাদেশের

 

রফিকুল ইসলাম মিঞা : দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট সিরিজটি মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ওয়ানডে সিরিজে ভালো করা ছাড়া বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ কিম্বার্লির ডায়মন্ড ওভালে শুরু হচ্ছে আজ। আর প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায় প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি শুরু হবে।

তবে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কিন্তু মোটেও ভালো হয়নি। কারণ একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত দলের কাছে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দলের পক্ষে সাকিব আর সাব্বির ছাড়া কোন ব্যাটসম্যাই ফিফটির উপরে রান করতে পারেননি। ফলে টেস্টের মতো ওয়ানডে সিরিজেও সমস্যায় পড়তে হতে পারে মাশরাফিদের। অবশ্য টেস্টের চেয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলটি অনেক শক্তিশালী। ফলে ওয়ানডে সিরিজে ভালো শুরু করতে চায় মাশরাফিরা। টেস্টে দলের হয়ে মাঠে নামেননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সেরা ওপেনার তামিম ইকবালও টেস্টে খেলতে নেমে ইনজুড়িতে পড়েন। ফলে টেস্ট দলটি অসহায়ের মতোই হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। কিন্তু ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দিবেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওয়ানডে দলে যোগ দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে সাকিব আল হাসানের ফিরে আসা বাংলাদেশ দলকে অনেকটাই উজ্জীবিত করে তুলেছে। ফলে ওয়ানডে দলের মনোবল এখন অনেক চাঙ্গা। আর এই চাঙ্গা মনোবল নিয়ে ওয়ানডে সিরিজে ভালো করতে চান অধিনায়ক মাশরাফি। তবে টেস্টের মতোই ওয়ানডে ম্যাচের উইকেট অচেনা বাংলাদেশের কাছে। এই কিম্বার্লির মাঠে একটিমাত্র ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। হেরেছিল বড় ব্যবধানেই। অবশ্য সেই দলের কেউ নেই বাংলাদেশের এই দলে। ফলে অচেনা মাঠে প্রথম খেলতে নেমে টেস্টের মতোই বিপদ হতেও পারে বাংলাদেশের। কারণ ওয়ানডে ম্যাচেই টস জিতলে অচেনা মাঠে আগে বোলিং করার কথা জানানো হয়েছে। যদি আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশাল স্কোর গড়ে ফেলে, তবে ওয়ানডে ম্যাচেও সমস্যায় পড়তে পারে টাইগাররা। যেটা হয়েছে দুই টেস্টেই। কারণ টস জিতে আগে ফিল্ডিং করে বাংলাদেশ প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানে হারার পর দ্বিতীয় টেস্টে হারে ইনিংস ও ২৫৪ রানের বিশাল ব্যবধানে।

তবে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দারুণভাবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। জুনে ইংল্যান্ডের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস লীগে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেললেও দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। সবকিছুর পরেও আজ থেকে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকরাই ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামবে। কারণ বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা এ পর্যন্ত ১৭টি ওয়ানডের মধ্যে ১৪টিতেই জয়লাভ করেছে। এছাড়াও নিজেদের মাঠে শেষ ছয়টি ম্যাচেও বেশ বড় ব্যবধানেই জয়ী হয়েছে প্রোটিয়ারা। তারপরেও টেস্ট সিরিজে অনুপস্থিত সাকিবকে ওয়ানডে দলে পেয়ে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে।

এদিকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা অনেকটা দাপটের সাথেই বাংলাদেশকে হোয়াইট ওয়াশ করেছে। তার উপর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্সের অন্তর্ভুক্তিও স্বাগতিকদের অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে। এছাড়ও রান খড়ার কারণে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়া আরেক ব্যাটসম্যান জেপি ডুমিনিও দলে ফিরেছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনও ডুমিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবেই নিজেকে ধরে রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এই সিরিজটি ২০১৯ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির প্রথম ধাপ। ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে ডি ভিলিয়ার্সের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ফাফ ডু প্লেসিস। এছাড়া নতুন কোচ ওটিস গিবসনের অধীনে পুরো দলই নিজেদের এগিয়ে নেবার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গিবসন জানিয়েছেন বিশ্বকাপের আগে দুই বছর বেশ কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়ে তাদের যথার্থতা যাচাই করা হবে। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে একটি সেরা দলই তারা বিশ্বকাপের জন্য বাছাই করতে চায়।

বাংলাদেশ : মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মাহমুদুল্লাহ, মেহদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মুস্তাফিজুর রহমান, নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল ও  তাসকিন আহমেদ।

দক্ষিণ আফ্রিকা : ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা, ফারহান বেহার্দিয়েন, কুইনটন ডি কক (উইকেটরক্ষক), এবি ডি ভিলিয়ার্স, জেপি ডুমিনি, ইমরান তাহির, ডেভিড মিলার, ওয়েইন পারনেল, ডেন পিটারসন, আনডিলে ফেলুকুয়ায়ো, ডুয়াইন প্রেটোরিয়াস ও  কাগিসো রাবাদা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ