সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টি-২০ সিরিজ আজ শুরু

স্পোর্টস রিপোর্টার : ভারতের দেরাদুনে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান তিন ম্যাচের টি- টোয়েন্টি সিরিজ। টি-টোয়েন্টি ইতিহসে এই প্রথমবারের মত দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। ভারতের দেরাদুনে সিরিজটি হলেও আফগানদের হোম সিরিজ এটা। দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়। আজ দু’দলেরই লক্ষ্য প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজ শুরু করা। এই সিরিজ নিয়ে দু-দলের সামনে সুযোগ নিজেদের প্রমাণ করে এগিয়ে যাওযা। এ পর্যন্ত মাত্র একটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। ২০১৬ সালে দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশ। তবে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোন টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেনি তারা। এটা প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টি সিরিজ হলেও এই ফরম্যাটে ইতোমধ্যে লড়াই করেছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। তবে দু-দল খেলেছে মাত্র একটি ম্যাচ। ২০১৪ সালের টি-টোযেন্টি বিশ্বকাপে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ঐ ম্যাচে সহজেই জয় পেয়েছিলো টাইগাররা। আফগানদের ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন দলটি। তবে এটা সত্য যে, চার বছর আগের সেই আফগানিস্তান, এখন আর আগের চেহারায় নেই। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সর্বাধিক উন্নতি করা দল এখন আফগানরা। আইসিসির র‌্যাংকিং সেটিই প্রমাণ দিচ্ছে। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিং-এ বাংলাদেশকে পেছনে রেখেছে দলটি। বর্তমানে অষ্টমস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান আর বাংলাদেশের অবস্থান দশম। এই সিরিজে জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। যদিও আফাগানিস্তানের থেকে পিছিয়ে থেকেই প্রথমবারের মত দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করতে হবে বাংলাদেশকে। সিরিজ জয়ই প্রধান টার্গেট- দেশ ছাড়ার আগে এমনই বলেছিলেন তিনি, ‘আমাদের প্রধান টার্গেট সিরিজ জয়। আমরা সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি। চেষ্টা করবো ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার। প্রথম ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা ভালো শুরু করতে পারি তবে পরের দু’ম্যাচ আমাদের জন্য কাজটা সহজ হবে। আমরা ভালো খেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো এবং সিরিজ জয়ের জন্যই মাঠে নামবো।’ তবে বাংলাদেশ দলের জন্য দু:সংবাদ বাম পায়ের আঙ্গুলে চোট পেয়ে আসন্ন টি-টোযেন্টি সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন আবুল হাসান রাজু। ফিজের না থাকাটা দলের জন্য বড় ক্ষতি বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘ফিজ না থাকাতে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা হবে। আমাদের দলের সেরা টি-টোয়েন্টি বোলার সে। আমাদের জন্য কঠিন হবে। এটা কিন্তু আরেকটা সুযোগ অন্য বোলারদের, অন্য আরেকজন খেলোয়াড়ের জন্য। যার জন্য সুযোগটি হবে সে যেন ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে।’ তবে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে পারে বাংলাদেশ। শ্রীলংকার মাটিতে অনুষ্ঠেয় নিদাহাস টি-টোয়েন্ট সিরিজে স্বাগতিকদের টপকে ফাইনাল খেলে টাইগাররা। ফাইনালে ভারতের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষ বলে হার মানে সাকিবের দল। তারপরও টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানকে এগিয়ে রাখছেন মাহমুদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘নতুন দলগুলোর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আফগানিস্তান। তারা ভালো পারফরমেন্স করছে। ক্রিকেটের জন্য নতুন দলের উন্নতি ভালো লক্ষণ। আমাদের জন্য এটা অন্যরকম চ্যালেঞ্জের। আমাদের সুনাম ধরে রাখতে এই সিরিজে জয়ের বিকল্প নেই। আশা করি ভালো ক্রিকেট খেলে, সিরিজ জিততে পারবো আমরা।’ এদিকে, বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য তারুণ্যনির্ভর দল গঠন করেছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান দারউইশ রসুলি। যুব বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের কারনেই জাতীয় দলে ডাক পেলেন তিনি। তবে ১৫ মাস পর আবারো দলে ফিরেছেন অফ স্পিনার নজিব তারাকাই। ঘরোয়া আসরে পারফরমেন্সের সুফল পেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে রয়েছেন রশিদ খান ও মুজিব উর রহমান। সদ্যই শেষ হওয়া আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে রশিদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে খেলেন মুজিব। রশিদ ১৭ ম্যাচে ২১ উইকেট এবং ১১ ম্যাচে ১৪ উইকেট নেন। তাই রশিদের সাথে মুজিবের স্পিন আক্রমনের বিপক্ষে বড় ধরনের পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশ দল : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুুল্লাহ রিয়াদ (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, আবুল হাসান রাজু, আবু হায়দার রনি, রুবেল হোসেন ও আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী।
আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি দল : আসগর স্টানিকজাই (অধিনায়ক), নজিব তারাকাই, উসমান গনি, মোহাম্মদ শাহজাদ, মুজিব উর রহমান, নাজিবুল্লাহ জাদরান, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, শাফিকুল্লাহ, দারউইশ রসুলি, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, গুলবাদিন নাইব, করিম জানাত, শারাফুদ্দিন আশরাফ, শাপুর জাদরান ও আফতাব আলম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ