বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০
Online Edition

মাদকবিরোধী অভিযানে দুই একটা ভুল হতেই পারে -ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যার ঘটনাটি ‘ভুল’ হিসেবে দেখছেন ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানে দুই একটা ভুল হতেই পারে।’
গত ২৬ মে কক্সবাবারের মেরিনড্রাইভ সড়কে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এই জনপ্রতিনিধির মৃত্যুর পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। ২০০৪ সাল থেকে চলা ক্রসফায়ার আর বন্দুকযুদ্ধের বর্ণনা কখনও বিশ্বাসযোগ্য ছিল না। কিন্তু কথিত বন্দুকযুদ্ধের আগে আগে একরামুলের মোবাইল ফোনে স্ত্রী আয়েশা আক্তারের কল করা এবং গোটা ঘটনাটির অডিও রেকর্ড প্রকাশ হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কথা এতদিন বলে আসছে, তার সত্যতা নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠেছে।
এই অডিও রেকর্ড প্রকাশ করে স্ত্রী বলেছেন, একরাম কোনো বন্দুকযুদ্ধে নিহত হননি, তাকে একতরফা গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১ জুলাই অডিও রেকর্ডটি ভাইরাল হওয়ার পর তুমুল সমালোচনা চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘তদন্ত হবে’। ‘খতিয়ে দেখা হচ্ছে’ বলেছে র‌্যাব।
পরদিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নারীদের জন্য বাস ‘দোলনচাপাঁ’র উদ্বোধন শেষে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একরামুলের মৃত্যু চলমান মাদকবিরোধী অভিযানকে প্রশ্নের মুখোমুখি করল কি না-এমন প্রশ্নে মন্ত্রিসভার এই সদস্য বলেন, ‘মোটেও না। এ ধরণের অভিযানে দুই একটা ভুল হতেই পারে।পরক্ষণের কাদের বলেন, ‘আমি জানি না, খতিয়ে দেখার আগে। এটা কোন নিরীহকে শিকার করা হলো কি না? বিষয়টা তদন্তের পরে বের হয়ে আসবে। তদন্তের আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একরামুল আমাদের পার্টির একজন কর্মী, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর আমার মনে হয় কিছু বলা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন এ অভিযানে যদি কোন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়, তাহলে অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত  করে যারা এ অভিযানের সঙ্গে জড়িত তাদেরকেও এখানে রেহাই দেয়া হবে, তা মনে করার কোন কারণ নেই। আমি নিজেও একটা অনুষ্ঠানে বলেছি কোন নিরীহ মানুষ, যে মাদকের সঙ্গে জড়িত নয়, তাকে লিস্টেড করে, তার সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ এ বিষয়টা তো আমরা আগেভাগেই পরিষ্কার করে বলেছি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আলামত আমরা পাইনি। যেটা হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখানে কি সে ভিকটিম হয়ে গেল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কোন নিরীহ ব্যক্তি হামলার শিকার হয় তাতে সরকার কোন প্রকারের ছাড় দেবে না। এই ঘটনাটি সাধারণের মধ্যে কোনো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘এখানে আতঙ্ক হবে কেন? আমরা সত্যের পথে আছি। অন্যায় হলে তার বিচার হবে।
মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সড়ক মন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের একটা বড় কাজে যা দেশের সর্বস্তরে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন একটি মতলবি মহল এর বিরোধিতা করছে ¯্রফে রাজনৈতিক কারণে। রাজনৈতিক বিরোধিতার খাতিরেই বিরোধিতা হচ্ছে। সরকারের প্রতিপক্ষরাই বিরোধিতা করছে। কিন্তু যাদের জন্য অভিযান তারা খুবই খুশি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে যারা সমালোচনা করে এ অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান, তারা কিন্তু মাদক নিয়ে একটা কথাও উচ্চারণ করেন নাই। রাজনীতি ছাড়া এ দেশে আমাদের আর কিছু বলার নাই? তরুণ সমাজ মাদকের জন্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমরা কি কিছুই বলব না?’
অভিযানের সমালোচনাকারীদের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘এটা কোন রাজনীতি? যে রাজনীতি শুধু প্রতিপক্ষকে গালিগালাজ করে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায়। অথচ সমাজে যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে পডছে, বাতাস, পানি দূষিত হচ্ছে এর বিরুদ্ধে বলে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ