সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চিঠি চালাচালিতে ঘুরপাক খাচ্ছে কেসিসি’র সীমানা বৃদ্ধির প্রস্তাব

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সীমানা সম্প্রসারণের সংশোধিত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় ২০১৪ সালের ২৮ জানুয়ারি। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনের মতামত জানতে চিঠি দেয়া হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয়দের মতামত ঢাকায় পাঠানো হয় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ২০১৬ সালের গত ২০ নবেম্বর সচিব কমিটির সভায় বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সেই চিঠিরও উত্তর দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু এরপর থেকে থমকে আছে সব প্রক্রিয়া। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনার নাগরিক নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান খুলনা সিটি করপোরেশনের আয়তন ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার। কেসিসির প্রস্তাবে ২৬টি মৌজার ১১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নতুন যুক্ত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু খুলনা-৫ আসনের সাংসদ ও মৎস্যমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ৯টি এবং খুলনা-১ আসনের সাংসদ ৩টি মৌজার বিষয়ে আপত্তি দেন। তখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব সংশোধন করে ১৪টি মৌজার ৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় কেসিসিতে সংযুক্তির প্রস্তাব পাঠান। বর্তমানে সেই প্রস্তাবই বহাল আছে। নতুন প্রস্তাবে ৪৪ বর্গ কিলোমিটার বেড়ে কেসিসির আয়তন হবে প্রায় ৯০ বর্গ কিলোমিটার।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকেই সীমানা সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন সংস্থাটির প্রধানরা। প্রথম পর্যায়ে নগরীর পশ্চিম ও উত্তর পাশের ২০টি মৌজা কেসিসির অন্তর্ভুক্ত করতে ২০০৭ সালের ২৯ নবেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। নানা জটিলতায় এ সংক্রান্ত কার্যক্রম থমকে যায়।

এরই মধ্যে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর নগরীর সীমান্তবর্তী এলাকায় লবণচরা, হরিণটানা ও আড়ংঘাটা নামে ৩টি নতুন থানা স্থাপন করে কেএমপি। নতুন ৩টি থানা এলাকার ৬টি মৌজা কেসিসির মধ্যে আনতে প্রস্তাব সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ মোট ২৬টি মৌজা কেসিসির মধ্যে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুমোদন দেয় কেসিসির সাধারণ পরিষদ। ২০১৪ সালের ২৮ জানুয়ারি সীমানা বৃদ্ধির সর্বশেষ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠায় কেসিসি। এতে ১১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা কেসিসিতে আসার কথা ছিলো।

কেসিসির প্রস্তাবিত ২৬টি মৌজা ছিলো হরিণটানা, মাথাভাঙ্গা, ডুবি, খোলাবাড়িয়া, আলুতলা, সাচিবুনিয়া, ঠিকরাবাদ, কৃষ্ণনগর, রাজবাঁধ, চক আসানখালী, চক মথুরাবাদ, বিল পাবলা, বিল শলুয়া, লতা পাহাড়পুর, রঙ্গপুর, ধাইগ্রাম, আড়ংঘাটা, তেলিগাতি, দেয়ানা, যুগীপোল, বিল ডাকাতিয়া, মশিয়ালী, শিরোমনি, গিলাতলা, আটরা ও শ্যামগঞ্জ।

কেসিসির এস্টেট অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মতামত জানতে ২০১৪ সালের ২৬ নবেম্বর জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ২৬টি মৌজা ৩টি সংসদীয় সীমানার (খুলনা-১, ৪ ও ৫) মধ্যে পড়ায় শুধু ওই ৩ জন সংসদ সদস্যদের কাছেই মতামত চাওয়া হয়। পরে তারা জানতে পারেন খুলনা-১ ও ৫ আসনের সংসদ সদস্যরা ১২টি মৌজার বিষয়ে আপত্তি দিয়েছেন।

খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, খুলনা-১ আসনের সাংসদ পঞ্চানন বিশ্বাস বটিয়াঘাটা উপজেলার ঠিকরাবাদ ও রাজবাঁধ মৌজার সম্পূর্ণ অংশ এবং সাচিবুনিয়া মৌজার আংশিক অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে আপত্তি দিয়েছেন। কেসিসির সীমানা বৃদ্ধির প্রস্তাবের সাথে দ্বিমত পোষণ করেননি খুলনা-৪ আসনের সাংসদ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা।

প্রস্তাবের অধিকাংশ মৌজার ব্যাপারে আপত্তি দিয়েছেন খুলনা-৫ আসনের সাংসদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ। এর মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলার ৭টি ও ফুলতলার ২টি মৌজা নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে চক আসানখালি, চক মথুরাবাদ, বিল পাবলা, বিল শলুয়া, লতা পাহাড়পুর, রংপুর ও ধাইগ্রাম। এছাড়া ফুলতলা উপজেলার বিল ডাকাতিয়া ও মশিয়ালী মৌজা দুটি নিয়েও আপত্তি দেন তিনি।

কেসিসির প্রধান বৈষয়িক কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, সংসদ সদস্যদের আপত্তি থাকায় ২৬টি মৌজার মধ্যে ১২টি মৌজা বাদ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তারা নিজে ৩টি মৌজার আংশিক সংযোজন করেছেন। এখন ১৪টি মৌজার সম্পূর্ণ অংশ এবং ৩টি মৌজার কিছু অংশ কেসিসির মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে নতুন ৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা কেসিসিতে যুক্ত হবে।

তিনি বলেন, সর্বশেষ সচিব কমিটির সভায় প্রস্তাব অনুমোদনের পর আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। যাচাই-বাছাইতেই বেশি সময় লাগছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান বলেন, অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সব উপজেলায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। সীমানা সংশোধনের বিষয়ে কেউ কোনো আপত্তি করেনি। যাচাই-বাছাই রিপোর্ট ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আর কিছু জানানো হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ