বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বিশেষায়িত ব্যবসায় শিক্ষা

প্রথাগত ডিগ্রির গুরুত্ব ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে কয়েক দশক ধরে। বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এখন ব্যবসায় শিক্ষাকে গুরত্বসহকারে পড়ানো হচ্ছে। প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীই ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অধ্যয়ন করছে এবং প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে কমার্স বিশেষায়িত কলেজ। ব্যবসায় শিক্ষার ক্রমবর্ধমান এ ঝোঁকের কারণে রাতারাতি বিভিন্ন কমার্স বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করছে হাতেগোনা দু’একটি প্রতিষ্ঠান মাত্র! এ তালিকায় অগ্রগণ্য একটি নাম ‘গুলশান কমার্স কলেজ’।
প্রতিষ্ঠার অতি অল্প সময়ের মধ্যেই কলেজটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। ইতোমধ্যে এদের ১১টি ব্যাচ অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে কলেজটির ১২তম ব্যাচের ৮১৭ শিক্ষার্থী। ২০০৮ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছিল এ কলেজ। ২০১৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের মেধাবৃত্তি তালিকায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন সালমা আক্তার ঝুমা।
তিনি ঢাকা মহানগরীর অন্তর্গত ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গুলশান কমার্স কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এই অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করেন। এছাড়াও ২০১৭ সালে অনেক শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে।
গুলশান কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ এমএ কালাম শিক্ষার্থীদের মেধা, কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রতি একাগ্রতা ও শিক্ষকদের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়কে ভালো ফলাফলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কলেজটির শিক্ষার গুণগত মান বেশ উন্নত। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্র কলেজের প্রায় ৪০ জনেরও অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মনে করেন তার কলেজের শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হওয়ায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তিনি জানান, শুধু এই ব্যাচেই নয় বিভিন্ন ব্যাচে আমাদের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেই চলছে। ২০০৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি এখানে নানা রকম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ, দেশপ্রেম ও মানবিকতা বোধে উদ্বুদ্ধ হতে সহায়তা করা হয়। একই সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে প্রেরণামূলক বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে, যা শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। কলেজটি বর্তমানে শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার (দুই হাজার) শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিবিএ অনার্স প্রক্রিয়াধীন। কলেজটির ঊওওঘ ১৩১৯০৪।
শুধু চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে হলেও ব্যবসায় শিক্ষায় জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। সময়ের দাবি মেটানোর তাগিদে বিশেষায়িত কলেজ হিসেবে গুলশান কর্মাস কলেজ (প্রতিষ্ঠিত ২০০৪) দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে খানিকটা হলেও ভূমিকা রেখে চলেছে। পেশাদারিত্বে আপসহীন, নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক-শিক্ষিকা কলেজটির উৎকর্ষ সাধনে তাদের মেধা ও শ্রম বিনিয়োগ করে চলেছেন। কলেজটির পরিচালনা পর্ষদ অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিষয়ে মনিটরিং করছে। প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বিষয় সম্পর্কে আমাদের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিত্যনতুন জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
-ইমরান হোসেন

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ