বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

২৪ ঘন্টার মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে দুর্বার আন্দোলন -রুহুল আমিন গাজী

গতকাল বুধবার রাজধানীতে বিএফইউজে ও ডিইউজে’র যৌথ উদ্যোগে দোহার নবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ২৪ ঘন্টার মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকার নবাবগঞ্জে একটি হোটেলে অবস্থানরত যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজে।
এতে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাধারণ সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি ডিআরইউ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বিএফইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল আমিন রুকন, ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত, সাংবাদিক নেতা সৈয়দ আলী আসফার, ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী প্রমুখ। পরিচালনা করেন খন্দকার আলমগীর হোসেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ করে সাংবাদিকরা।
সভাপতির বক্তব্যে রুহুল আমিন গাজী সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে হামলাকারীরা আস্কারা পাচ্ছে। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ করার আহ্বান জানান।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, সরকার সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চাচ্ছে। একদিকে সরকারের পেটোয়া বাহিনী বিরোধী দলের প্রার্থীদের ওপর হামলা করছে। পোস্টার পর্যন্ত লাগাতে দিচ্ছে না। অন্যদিকে তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। কেবল মাইকে আওয়াজ তুলে গণতন্ত্র রক্ষা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা এই সাংবাদিক নেতা বলেন, স্বাধীনতার জন্য এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে। গণতন্ত্রের জন্যও প্রয়োজনে আবারো রক্ত দিবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার না করা হলে জনগণ এর সমুচিত জবাব দিবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন হামলা মামলা করে সাংবাদিকদের স্তব্দ করা যাবে না। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবে। এ সময় তিনি বন্ধ মিডিয়া খুলে দেওয়াসহ সেনাবাহিনীকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
এম আবদুল্লাহ বলেন, আজ সাংবাদিকদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এই সরকারের আমলে ৩৪ জন সাংবাদিক হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে। আহত হয়েছে হাজারো সংবাদকর্মী। তিনি বলেন, দোহারে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীরা চিহ্নিত। তারা পুলিশের ছত্রছায়ায় এরা হামলায় অংশ নিয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশন বলছে তারা গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলার খবর জানে না। সরকারের অপকর্ম ঢাকতেই সংবাদ কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এসময় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার পরও নির্বাচন কমিশনাররা তারা হামলার বিষয়ে কিছু জানেন না। তাদের অসত্য কথা সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়ার শামিল। তাদের কথায় মনে হয় সিইসি সরকারের দলদাসে পরিণত হয়েছে। তাদের এই আচরণের পর সাংবিধানিক পদে থাকার অধিকার নেই।
শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার একের পর এক সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে সংবাদ কর্মীদের বেকার করে দিচ্ছে। যমুনা টেলিভিশন এবং যুগান্তরের সাংবাদিকদের ওপর ঘৃণতম হামলা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল। তিনি বলেন, সরকার এক কলমের খোচায় ৫৪টি সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, সরকার জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করছে। তিনি এসব কর্মকা- বন্ধ করার আহ্বান জানান।
ইলিয়াস হোসেন বলেন, নির্বাচনের প্রহসন লুকানোর জন্য বিকল্প হিসেবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যদি সৎ সাহস থাকে তাহলে মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করা হলে সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নামবে। আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে আরও কয়েকটি  মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা সোমবার রাতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের শাস্তি দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকার নবাবগঞ্জে একটি হোটেলে অবস্থানরত যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা। এতে কমপক্ষে ১০ সাংবাদিক আহত হন। নবাবগঞ্জে থানা রোডে শামীম গেস্ট হাউসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ভাঙচুর করা হয় ১৮টি গাড়ি ও হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ