শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বাড়ছে মহিলা শ্রমিকের সংখ্যা

শাহজাদপুর উপজেলায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনমজুর থেকে শুরু করে তাঁত শ্রমিক, মাটিকাটা শ্রমিক, রাজমিস্ত্রির যোগালদার, ইটভাটা শ্রমিক ছাড়াও বিভিন্ন কলকারখানায় মহিলা শ্রমিকদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শ্রমে জড়িয়ে পড়া মহিলাদের অধিকাংশই দরিদ্র ও স্বামী পরিত্যক্ত । যারা জীবন জীবিকার তাগিদে নানাভাবে শ্রমিকের কাজ করছে।  শ্রম দিতে গিয়ে অনেকেই নানা রকম হয়রানি শারীরিক নির্যাতনের শিকার এমনকি ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। শাহজাদপুর উপজেলা তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় তাঁতে নারীদের সংশ্লিষ্টতা অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তাঁত শিল্পে কেউ কাপড় বুনে, কেউ চরকায় সূতা কেটে সাপ্তাহিক ৮০০/১০০০ টাকা আয় করছে। গড়ে এসব নারীরা প্রতিমাসে ৪/৫ হাজার টাকা আয় করে চলতে পারে অনায়াসেই। আর তাই তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত উপজেলার খুকনী, ডায়া, হামলাকোলা, গাড়াদহ, রুপপুর, তালতলা, রামবাড়ী, ও জামিরতা, কৈজুরী অঞ্চলে মহিলা শ্রমিকদের সংখ্যা আনেকটাই বেশি । বিদ্যুৎ চালিত পাউয়ারলোম তাঁতেও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে নারী শ্রমিকরা। এ ছাড়া মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে গ্রামাঞ্চলে রাস্তাÑঘাট সংস্কার করে যাচ্ছে নারীরা। অনেক মহিলাই বিভিন্ন ভবন নির্মানে রাজমিস্ত্রির যোগালদার হিসেবেও কাজ করে সাপ্তাহিক ১৫০০টাকা আয় করছে। মহিলা শ্রমিকদের অধিকাংশই জানান, স্বামী পরিত্যক্ত মহিলা, দরিদ্রতা আর স্বামী বিয়ের পরে বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করা সহ নানা সমস্যার কারণ শ্রমজীবি মহিলাদের এ পথে নিয়ে এসেছে। তালগাছি গ্রামীণ স্যানিটেশনে কাজ করা শ্রমিক কোহিনুর (২২) সাংবাদিকদের জানান, সে দরিদ্র মা বাবার কন্যা সন্তান তার বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের শ্রমের অর্থ দিয়েই চলে পরিবারের জীবন জীবিকা।নরিনা গ্রামের অরুনা রাণী (৩০) জানায়, সাংসারিক অনটনের কারণে সে ইটভাঙ্গা শ্রমিকের কাজ করছেন। বড় মহারাজপুর গ্রামের আয়মালা (৪৫) রাজমিস্ত্রির যোগালদার হিসেবে কাজ করে সংসারের খরচ চালান।এসব নারীদের অধিকাংশই স্বামীর দ্বারা নির্যাতিত এমনকি স্বামী জুয়াড়ী, অলস, বেকারত্বকে দায়ী করেছেন। প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে ফিরে আসতে হয় সন্ধ্যায় তাই শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে ছেলে মেয়েকে লালন পালন করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন। অনেক জায়গায় এসব মহিলা শ্রমিকরা লম্পট পুরুষদের লালসার শিকার হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ