বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গ্রেফতার ছাড়াই রাজিব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদে সিবিআইকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার

৫ ফেব্রুয়ারি, আনন্দবাজার. কলকাতা-২৪ : রাজীব কুমারকে আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না। সিবিআই বনাম কলকাতা পুলিশ মামলার শুনানিতে গতকাল মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে রাজীব কুমারকে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

রাজীব কুমারকে শিলং-এ জেরা করা হতে পারে, জানা যাচ্ছে এরকমই।

অন্য দিকে সিবিআই-এর দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলায় আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব দিতে হবে বলে কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমার, রাজ্যের মুখ্য সচিব মলয় দে এবং রাজ্যের ডিজিপি বীরেন্দ্রকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত।

এই জবাব পাওয়ার পরই শীর্ষ আদালত ঠিক করবে, তাদের আদালতে হাজিরা দিতে বলা হবে কি না। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

আজ শুনানিতে রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি অভিযোগ করেন, “ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে”।

গতকালই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিবিআই। শীর্ষ আদালতে সিবিআইয়ের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেছিলেন, সিবিআই বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দ্বৈরথে সংবিধান ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাজীবকে ‘সম্ভাব্য অভিযুক্ত’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগও তোলে সিবিআই।

একই সঙ্গে সিবিআই-এর আর্জি ছিল, সুপ্রিম কোর্ট রাজীব কুমারকে আত্মসমর্পণ করতে বা সিবিআইয়ের সামনে হাজির হতে নির্দেশ দিক।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে তদন্ত হচ্ছে, তাতে রাজ্য প্রশাসন বাধা দিচ্ছে বলে আদালত অবমাননার মামলা হোক।

এর পরই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছিলেন, ‘‘আপনাদের আবেদন পড়েছি। এতে (নথি লোপাটের প্রমাণ) কিছুই নেই।’’

একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘ যদি প্রমাণ করতে পারেন, উনি প্রমাণ লোপাট করেছেন বা এক বারও সে কথা ভেবেছেন, তা হলে এমন শিক্ষা দেব যে ওঁকে অনুতাপ করতে হবে।’’

সিবিআই সোমবার রাতেই একটি হলফনামা জমা দিয়ে দেয়।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে স্বাগত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বললেন, ‘এই জয় তৃণমূলের আন্দোলনের নৈতিক জয়৷’

এই নির্দেশ আসার পরই ধর্না মঞ্চে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এই জয় তৃণমূলের নয়, এই জয় সংবিধানের জয়। গণতন্ত্রের জয়, মানুষের জয়৷’’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘‘সিবিআই বাংলা থেকে কাউকে গ্রেফতার করলেই ওডিশায় নিয়ে যাচ্ছে। এটা চলতে পারে না।’’ কেন্দ্রীয় সরকার নিরপেক্ষ নয় বলে অভিযোগ করেন মমতা।

কোর্টের রায় সারদা কাণ্ডে শিলং-এ সিবিআইয়ের হাজিরা দিতে হবে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে৷ এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এতে আপত্তির কিছু নেই। এটা সিবিআইয়ের বিষয়।’’

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ১৯শের লোকসভা ভোটে বিজেপি আর ক্ষমতায় ফিরবে না। তাই ভয় পেয়েই স্বৈরতান্ত্রিক বিভিন্ন পদক্ষেপ করছেন মোদি৷ তবে সুপ্রিম কোর্টের এদিনের রায় ফলে বিজেপি বিরোধী জোট শক্তিশালী হলো বলে মনে করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

 ‘‘বাবুল সুপ্রিয় রোজভ্যালির হয়ে প্রচার করেছে। সেখান থেকে টাকা পেয়েছেন৷ অসমের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা চিটফান্ডের দ্বারা পরিপুষ্ট। তাহলে কেন তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না?’’ প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ