সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ইতিহাসের রাজস্বাক্ষী লালমনিরহাটের হারানো মসজিদ

লালমনিরহাট : সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রামদাস গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হারানো মসজিদ

মোঃ লাভলু শেখ, লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রামদাস মৌজায় অবস্থিত ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে অনেকটা আশ্চর্যজনক ভাবে পাওয়া যায় প্রাচীন একটি মসজিদের সন্ধান। যা বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিমদের আগমনের ইতিহাসের রাজ স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে। ঐতিহাসিক এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল প্রায় দেড় হাজার বছর আগে তথা ৬৯ হিজরীতে। প্রাচীন মেসপটেমীয় সভ্যতার দজলা ও ফোরাত নদীর মতো ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর অববাহিকাকে পৃথিবীর প্রাচীনতম অববাহিকাগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। রোমান ইতিহাসবিদদের লেখায় আরব ও রোমান বণিকদের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকাকে বাণিজ্যিক পথ হিসেবে ব্যবহারের কথা লিপিবদ্ধ আছে এবং বেশ কয়েকটি চলমান গবেষণায় ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর অববাহিকা কে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ পথ হিসাবে ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয় হুজুর (সা.) এর সাহাবী হযরত আবু ওয়াক্কাস (রা.) এ অঞ্চল দিয়েই চীন পাড়ি জমিয়েছিলেন। বর্তমান চীনের বিস্মৃত কোয়াঙটা নদীর ধারে অবস্থিত কোয়াঙটা শহরে সাহাবী হযরত আবু ওয়াক্কাস (রা.) নির্মিত মসজিদ ও সমাধি রয়েছে। ইংল্যাণ্ডের প্রত্নতাত্ত্বিক টিম স্টিল দাবি করেন, খ্রিস্ট পূর্বাব্দ সময় থেকে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পার ধরে সিকিম হয়ে চীনের মধ্য দিয়ে আরব ও রোমান বণিকদের বাণিজ্যিক নৌ বহরের যাতায়াতের অনেক প্রমাণ রয়েছে, তার কাছে। এই হারানো মসজিদ হতে পারে সাহাবী হযরত আবু ওয়াক্কাস (রা:) নির্মিত মসজিদ। লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রামদাস গ্রামে একটি বাঁশের আড়ার মাঝে আবিষ্কৃত হয় এই হারানো মসজিদটি। এক সময় স্থানীয় লোকজন হিংগ্র জীব-জন্তু, সাপ-বিচ্ছুর ভয়ে এই আড়ার ভেতরে প্রবেশ করত না। ১৯৮৪-৮৫ সালের দিকে স্থানীয় লোকজন আড়াটি চাষাবাদের জন্য পরিস্কার করার উদ্যোগ নেয়। ঝোপ-ঝাড় পরিস্কার করতে গিয়ে তারা দেখে, জায়গাটি সমতল জমি থেকে কিছুটা উচু এবং সেখানে রয়েছে প্রায় ৮টির মতো উচু উচু মাটির টিলা। জায়গাটি সমতল করার জন্য খনন শুরু হলে সেখানে প্রাচীন কালের তৈরি প্রচুর পরিমানে ইট পাওয়া যেতে থাকে। যে ইটগুলোতে অঙ্কিত ছিল কিছু নান্দনিক ফুল। তখন তারা সবাই ভেবেছিল এটি পুরনো কোনো জমিদার বা রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ হতে পারে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের একটি ঘটনা সবার টনক নাড়িয়ে দেয়। সেই দিন গ্রামের আইয়ুব আলী নামের এক ব্যক্তি অন্য অনেকের মতো ইটের স্তূপ থেকে একটি ইট কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে দেখেন, ইটের ওপর কিছু আরবী লেখা রয়েছে। লেখা গুলো স্পষ্ট করার জন্য পানি দিয়ে ভালো ভাবে পরিস্কার করলে তিনি দেখতে পান, এটি কোনো প্রাচীন শিলা লিপি। যা-তে আরবীতে লেখা রয়েছে কালেমা ত্যাইয়েবা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’ ও ‘হিজরী ৬৯’। বর্তমানে সেখানে একটি মসজিদ পুনঃ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১২ সালে এই মসজিদ নিয়ে আল-জাজিরা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ টিম স্টিল আল-জাজিরার প্রতিবেদক নিকোলাস হক-কে উদ্ধারকৃত ইটটি দেখিয়ে এটি কোন সময়কার তার ব্যাখ্যা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ