সোমবার ২৫ মে ২০২০
Online Edition

চীন থেকে নাগরিকদের ফেরত নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা হু'র বারণ সত্ত্বেও চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস আতঙ্কে সেখান থেকে নিজ নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। এছাড়া ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

জাপানের সংবাদ সংস্থা কিয়োডো নিউজ দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, জাপানের চার্টার্ড বিমানের একটি ফ্লাইট চীনের উহান থেকে ২০৬ জন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত। জাপানে ফেরত আসার পরে তাদেরকে অ্যাম্বুলেন্সে করে টোকিওর সংক্রামক রোগের বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ফ্লাইটে উহান থেকে জাপানে ফেরত আসা নিপ্পন স্টিল করপোরেশনের টাকিও আওয়ামা নামের এক কর্মী জানান, চীনে করোনাভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িছে পড়ছে এবং এ অবস্থায় আমাদের ওই শহরে থাকতে বেশ অসুবিধা হচ্ছিলো। কথা বলার সময় তিনি মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পড়েছিলেন।

ফেরত আসা আরেক জাপানি নাগরিক টাকায়োকি ক্যাটো বলেন, উহান শহর ছাড়ার আগে তাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়েছে এবং বিমানে উঠার পরেও সেখনে থাকা চিকিৎসকরা আবারও তাদের তাপমাত্রা মেপে দেখেন।

তারা দুজনই তাদের সাথে আসা ব্যক্তিদের কারো মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ বা অসুস্থ কাউকে দেখেননি। তারপরেও জাপানে আসার পরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদেরকে আরও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

তারা জানান, উহানে বসবাসকারী জাপানের চার শতাধিক নাগরিক নিজ দেশে ফেরত যেতে চাচ্ছে।

এদিকে উহান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিয়ে আলাস্কার উদ্দেশে একটি বিমান ছেড়ে গেছে। সেখানে ফেরত আসা মার্কিনিদের মধ্যে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কেউ আছে কিনা তা যাচাই করা হবে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে সেখানে হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারপর সেখান থেকে বিমানে করে তাদেরকে ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ সরকার প্রয়োজন ছাড়া চীন ভ্রমণের ওপর সর্তকতা জারি করেছে।

ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে হংকংয়ে চীনের মূল ভূখন্ডের সাথে সকল রেল যোগাযোগ ও বিমান চলাচল অর্ধেকে নামিয়ে আনার কথা জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ কেরিয়া তাদের লোকজনদের ফিরিয়ে আনতেও বিমান পাঠাবে এবং ফ্রান্স, মঙ্গোলিয়া ও অন্যান্য দেশও চীনে আটকা পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে।

এদিকে করোনাভাইরাস যাতে ছড়াতে না পারে সেজন্য উহানসহ হুবেই প্রদেশের আরও ১৬টি শহরের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন করে দিয়েছে। যার ফলে সেখানে প্রায় ৫০ মিলিয়ন লোক আটকা পড়েছে।

চীনের হাসপাতালগুলোতে সরবরাহের জন্য জাপান থেকে ২০ হাজার মাস্ক ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সারঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

এদিকে চীনের উহানে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে প্রয়োজনে বিমানের বিশেষ ফ্লাইট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লুএইচও) এক বিবৃতিতে বলা হয়, চীনে করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে বিদেশী নাগরিকদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজন নেই।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ