সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ

রংপুর অফিস : রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর নজিরবিহীন অন্যায়, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ ও ভর্তি কেলেংকারীর প্রতিবাদে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষকদের নিয়ে সদ্য গঠিত “অধিকার সুরক্ষা পরিষদ” এর উদ্যোগে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে “অধিকার সুরক্ষা পরিষদ” এর আহবায়ক প্রফেসর ডক্টর মতিউর রহমান লিখিত বক্তব্যে অভিেেযাগ করে বলেন, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ভিসি ২০১৭ সালের ১৪ জুন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে কর্মদিবসের ৯০ শতাংশ সময়ও এখানে দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক সকল কাজে শৃংখলা ভেঙ্গে পড়েছে। রাষ্ট্রপতির দেয়া নিয়োগ শর্ত লঙ্ঘন করে ভিসি দিনের পর দিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকেন। তিনি নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ টি অনুষদের মধ্যে বিজনেস ষ্টাডিজ, সামাজিক বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এই ৩টির ডিন এবং বিভাগীয় দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে তিনি কোষাধক্ষ এবং ডক্টর ওয়াজেদ ট্রেনিং এন্ড রির্সাস ইনষ্টিটিউট এর পরিচালকের পদে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রো-ভিসির পদ শূন্য থাকায় তিনি এটিরও দায়িত্বে আাছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কাজে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু তাই নয় ভিসি একাই অর্ধ শতাধিক কোর্স পড়ানোর দায়িত নিয়ে কোন কোর্সই তিনি পড়ান না। অথচ এবাবদ বেরোবি তহবিল থেকে লাখ লাখ টাকা গ্রহণ করছেন। তিনি অনার্স এবং মার্ষ্টাস কোর্সের ধারাবাহিক মূল্যায়ন পারীক্ষা গ্রহন করান কর্মচারেিদর মাধ্যমে। পিএইচডি এবং এম ফিল পর্যায়ে এক সেশনেই নিজে ১৪ জনের তত্ত্বাবধায়ক হয়েছেন। চলতি সেশনে আরও ১৪ জনের সহ ২৮ জন হবে। একক ভাবে এত জনের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার নজির নেই। এছাড়াও তিনি অবৈধ ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে ৭টি বিভাগের প্লানিং কমিটির সদস্য হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজে ভিসির স্বরনকালের ভয়াবহ দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ভিসি ক্যাম্পাসে থাকেন না, তাই রেজিষ্টরও থাকেন না পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে লে,ক (অবঃ) প্রকৌশলী মনোয়ারুল ইসলামকে পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একই ব্যাক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্ত তিনি ক্যাম্পাসে থাকেন না। অথচ লক্ষাধিক টাকা বেতন নিচ্ছেন। এই রেজিষ্টার এবং প্রকল্প পরিচালকের নিয়োগ প্রক্রিয়াও সঠিক ভাবে হয়নি। ভিসি সকল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সীমাহীন র্দূনীতি এবং অনিয়মের আশ্রয় নেন। নিজেই প্রশ্ন করেন এবং মূল্যায়ন করে অনুগতঅন্যের স্বাক্ষর নিয়ে সেটি জায়েজ করেন। এমনও নজির রয়েছে যত জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ততজনই আবেদন করেছে। এমন ভাবে অর্বধ শতাধিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একই ব্যাক্তিকে ৯ টি নিয়োগ র্বোডে রেখে র্দূনীতির নজির তৈরী করেছেন। এমনকি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হলেও তাঁর মা নিলুফার বেগমকে একাধিক নিয়োগ র্বোডে সদস্য করা হয়েছে। নিয়োগের শর্ত শিথিল করে ৫৮ বছর বয়সের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ র্বোডে ভিসির পিএ এবং একান্ত সচিবকে সদস্য করা হয়েছে। ভিসির ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উল্লেখ করে বলা হয়। ভিসি নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা, নিয়োগ র্বোড, আপগ্রেডেশন র্বোড সহ অসংখ্য সভা করেন। এতে যতায়াত বাবদ লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়। তাঁর একটি গাড়ি পাওয়ার কথা থাকলেও ঢাকায় তিনি কয়েকটি গাড়ী অবৈধ ভাবে ব্যবহার করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যাক্তিগত সংস্থা ”জানিপপের” কাজে নিয়মিত ব্যবহার করেন। রংপুরে ভিসির বাসভবনে তিনি না থাকলেও সেখানে ১৭ জন কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনে লালন হচ্ছে।
ভিসি নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া ২৯ নং আইনের স্পষ্ট লংঘন করে তা তোয়াক্কা না করে যোগ্য ব্যাক্তিকে ডিন কিংবা বিভাগীয় প্রধান না করে নিজেই পদ আকরে ধরে আছেন। কোথাও বা আস্থাভাজন অযোগ্য ব্যাক্তিকে বসিয়েছেন। এছাড়া নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক- কর্মচারীদের সাথে তিনি অমানবিক আচরন করে থাকেন। তাঁদের অনিয়ম করে ইউজিসির র্নিদেশ অমান্য করে কারিকুলাম ছাড়াই বুনিয়াদী র্কোসে নিয়ে যাওয়া, স্ত্রীর তৈরী করা অধিক মূল্যের পোষাক ক্রয়ে বাধ্য করা, নিজের জার্নাল অধিক মূল্যে কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি পিয়ন সুইপারদের নিকট বিপুল সংখ্যক র্জানাল অধিক দামে বিক্রি করা নিত্য ব্যপার। ভিসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ”শান্তিও সংঘর্ষ” বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাবের আহমদ চৌধুরীকে বেরোবির অসংখ্য বুনিয়াদী র্কোসে যুক্ত করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হয়েও তাঁকে অবৈধ ভাবে বেরোবির ফাউন্ডেশন কোর্সের সমন্বয়ক করা হয়েছে। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভিসির ঘনিষ্ঠ একজন প্রার্থী এক অনুষদে সর্বনিম্ন নম্বর পেলেও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অস্বাভাবিক নাম্বার পেয়ে তাকে সর্বোচ্চ নাম্বার দেয়া হয়েছে। ভিসি নিজেই এই অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করেন। পরীক্ষায় অনিয়ম করে এই ফলাফল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিসি কলিমুল্লাহ অর্বধ শতাধিক র্কোসে না পড়িয়ে এবং পরীক্ষা না নিয়ে সেসবের পারিতোষিক নেন। লোক প্রশাসন বিভাগের লাখ লাখ টাকার হিসেব নেই। শেখ হাসিনা হল এবং ড, ওয়াজেদ ট্রেনিং রির্সাচ ইনষ্টিটিউটের কাজ তাঁর দায়িত্বহীনতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সহস্রাধিক ছাত্রীর আবাসিক সুযোগ বিলম্বিত হয়েছে। তাঁর দায়িত্বহীনতার কারনে বিভিন্ন বিভাগে ভয়াবহ সেশন জট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষকদের নিয়ে গত ২০ শে জানুয়ারী’২০ ২৩ সদস্য বিশিষ্ট ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদ এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আনিয়ম-দূর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভুমিকা পালন করবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষনা দেয়া হয়। এ ছাড়া আগামী রোববারের মধ্যে ভিসি এসবের সন্তোষ জনক জবাব না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা দেয়া হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সদস্য সচিব খায়রুল কবির সুমন, ডক্টর তুহিন ওয়াদুদ, তাসমিন হামিদা, মাহমুদুল হক, এইচ এম তাকিকুল ইসলাম, কন্দকার জাহিদুল আলম, মশিউর রহমান, বিজন মোহন চাকি, শরিফুল ইসলাম, সাব্বির আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ